| |

Ad

সর্বশেষঃ

রামপালে হাট-বাজারে বিক্রয় হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার : লাইসেন্স নেই অধিকাংশ ব্যাবসায়ীর

আপডেটঃ ১০:১৭ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৮, ২০১৭

মোঃ রেজাউল ইসলাম,রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা ॥ বাগেরহাটের রামপালে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ ছাড়াই শত শত দোকানে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করা হচ্ছে । আইনের উপর বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে অহরহ ঝুঁকিপূর্ণ এ জ্বালানির ব্যবসা চলছে । এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদাসীনতার কারনে শুধু মাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে দাহ্য পদার্থের ব্যাবসা এখন রমরমা। কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করেই হাট-বাজার থেকে শুরু করে গ্রামের চা কিংবা মুদি দোকানে হরহামেশাই বিক্রয় করা হচ্ছে এসব গ্যাস। হঠাৎ কোন ধরনের দূর্ঘটনা ঘটলে অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র বা প্রশিক্ষন কোনটাই নেই তাদের। ইতিপূর্বে দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সিলিন্ডারে দূর্ঘটনার কারনে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। আবাসিক কিংবা জনবহুল হাট-বাজারে ব্যাবসা নিয়ন্ত্রনের অভাবে ঝুকিতে রয়েছে লাখ লাখ সাধারন মানুষ।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রামপালের ফয়লাহাট, ভাগা, ভরসাপুর, গিলাতলা,চাকশ্রী এলাকাতেই বেশি পরিমানে এলপি গ্যাস বিক্রয় করা হয়। এর মধ্যে খোদ ফয়লাহাট বাজারেই রয়েছে পাইকারী ও খুচরা এলপি গ্যাস বিক্রয়ের বেশ কতগুলো দোকান । এদের অনেকেই সংশ্লিষ্ট আইন না মেনে ব্যবসাটি চালিয়ে যাচ্ছেন। সড়কের পাশে রাস্তায় এ ঝুঁকিপূর্ণ এ জ্বালানির সিলিন্ডার রাখার কারনে পথচারীদের বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। নেই অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র কিংবা বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ সংগ্রহেরও তোয়াক্কা করছেন না এসব ব্যাবসায়ীরা । খুচরা এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বেশির ভাগই গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়ের এসব আইন সম্পর্কে জানেন। তার পরও তদারকির অভাবে ঝূঁকি জেনেও তারা সনদ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে লাইসেন্সপ্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে এবং বিভিন্ন কোম্পানির ডিলারদের বিপণন কৌশলে প্রলোভিত হয়ে তারা আইন অনুসরণ থেকে পিছিয়ে আসছেন। সূত্রে প্রকাশ, আইন অনুযায়ী ১০টির বেশি এলপি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার বা গ্যাসাধার রাখলে যেকোনো ব্যবসায়ীর বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪-এর ‘দ্য এলপি গ্যাস ল’ ২০০৪’-এর ৬৯ ধারার ২ বিধিতে ‘লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ক্ষেত্রে এলপিজি মজুদ করা যাবে না’ তা উল্লেখ আছে। বিধি অনুযায়ী, ১০ (দশটি) গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার মজুদকরণে লাইসেন্সের প্রয়োজন না থাকলেও ১০টির অধিক গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার মজুদের ক্ষেত্রে এই লাইসেন্স নিতে হবে। একই বিধির ৭১ নং ধারায় বলা আছে,আগুন নিভানোর জন্য স্থাপনা বা মজুদাগারে যথেষ্ট পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম মজুদ রাখিতে হইবে। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায় ১০টির বেশি এলপি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার রাখলে যেকোনো ব্যবসায়িক কে বাধ্যতামূলকভাবে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ নিতে হবে। সনদ ছাড়া ব্যবসা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অনেকেই তা মানছে না। এলপি গ্যাস এক ধরনের চরম দাহ্য পদার্থ। এ ধরনের পণ্য সংরক্ষণের জন্য বিশেষ গুদামঘরের প্রয়োজন হলেও তা এই এলাকার অধিকাংশ ডিলারেরই নেই। যে কোন কারনে সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হয়ে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। লাইসেন্স ছাড়া এসব দ্রব্যের ব্যাবসা পরিচালনা করলে আইন অমান্যকারীর (২) দুই বছর এবং অনধিক পাঁচ বছরের জেল এবং তদূর্দ্ধ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অর্থ অনাদায়ী থাকলে অতিরিক্ত আরো ছয় মাস পর্যন্ত কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি জানান,লাইসেন্স ছাড়া ঝুকিপূর্নভাবে এ ধরনের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় সম্পূর্ন বেআইনি। লাইসেন্সবিহীন গ্যাস বিক্রেতাদের বিরু্েদ্ধ খুব শীঘ্রই আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।