| |

Ad

সর্বশেষঃ

চট্টগ্রাম রেলের সিটিএম অফিসের পিয়ন সুমন রাতারাতি কোটিপতি

আপডেটঃ ১১:৪২ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৮, ২০১৭

 

চট্টগ্রাম সংবাদদাতাঃ-চট্টগ্রাম সিআরবির সিটিএম (পূর্ব) অফিসের পিয়ন অলি উল্লাহ ওরফে সুমন এক যূগের ব্যবধানে এখন কোটিপতি হয়েছেনব্যাপক জাল-জালিয়াতি, অবাধে নিয়োগ বাণিজ্য, চাঁদাবাজিও ইয়াবা ব্যবসাসহ অন্যান্য অসদুপায় অবলম্বনের মাধ্যমে তিনি বাসাবাড়িসহ এসব বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছেনঅভিযোগে জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার মিশ্রীপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের পুত্র অলি উল্লাহ ওরফে সুমন স্থানীয় নান্দাইল রোড উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০০সালের অষ্টম শ্রেণী পাসের সনদ দিয়ে ২০০৫সালে চট্টগ্রাম রেল বিভাগের পিয়ন পদে চাকুরি নেয়৫বছর চাকুরির পর ২০০৯সালের ডিসেম্বরে গ্রামের বাড়ি মিশ্রিপুর রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে ২০০৩সালে দাখিল পাসের (রোল নং ১২১৫৮৯, রেজিঃ নং ৬৭২৫০৫, জিপিএ ১.৫০) একটি সনদ রেল বিভাগে তার ব্যক্তিগত নথিতে সংরক্ষণের জন্য আবেদন করেকিন্তু ২০০৫সালে চাকুরি গ্রহণের সময় দাখিল পাসের সনদ গোপন রেখে ২০০০সালের অষ্টম শ্রেণী পাসের সনদ জমা দেয়ার বিষয়টি রহস্যজনকযদিও সে কখনও ওই মাদরাসায় লেখাপড়া করেনিএছাড়া তার ফেইসবুক প্রোপাইলে সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমে স্কুলের নাম কিশোরগঞ্জের শহীদ স্মৃতি হাইস্কুল ও কলেজের নাম গুরু দয়াল সরকারি কলেজ লেখা হয়েছেতবে অষ্টম শ্রেণীর সনদে মাতার নাম আনোয়ারা বেগম হলেও দাখিল পাসের সনদে আনোয়া খাতুন লেখা হয়েছেএতেই প্রমানিত হয়, এসব সনদ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছেএদিকে দাখিল পাসের জাল সার্টিফিকেট দিয়ে অলি উল্লাহ সুমন ২০১০সালের ১৯অক্টোবর কোন পরিক্ষা ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে মোটা অংকের টাকায় পিয়ন থেকে সিসিএম অফিসের অফিস সহকারি পদে পদোন্নতি নেয়একইভাবে ২০১৭সালের জুন মাসে এসিআই পদে পদোন্নতির জন্য ৪জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে সুমনকে সিসিএম অফিসার সরদার সাহাদাত আলী নকলসহ হাতেনাতে ধরে পরিক্ষাটি বাতিল করে দেনকিন্তু পূনরায় পরিক্ষা না নিয়ে রহস্যজনকভাবে ৪জনের মধ্যে সুমনকে প্রথম স্থান অধিকার করেছে বলে একই পরিক্ষার রেজাল্ট প্রদান করা হয়পরে এ রেজাল্টের ভিত্তিতে গত ১আগষ্ট একই অফিসে এসিআই পদে ২য় বার সে পদোন্নতি নিয়ে কাজে যোগদান করেএখনও তার পরিক্ষার খাতা তদন্ত করলে এসব জালিয়াতির তথ্য প্রমান পাওয়া যাবেব্যাপক প্রভাব ও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এ পদোন্নতি নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছেজানা গেছে, সুমন সব সময় অফিসে দায়িত্ব পালন না করে অনুপস্থিত থাকেমাসে একদিন অফিসে এসে হাজিরা খাতায় পুরো মাসের স্বাক্ষর দিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে যায়এর প্রতিবাদ করায় কর্মকর্তাদের সাথে খারাপ আচরন, তাদেরে অশ্লিল ভাষায় গালি-গালাজ ও বেশি বাড়াবাড়ি করলে আলোচিত সাত রাস্তার মোড়ে হত্যা করার হুমকি প্রদর্শন করেঅভিযোগ রয়েছে, সুমনের বড় ভাই আবুল বশার চট্টগ্রাম সিআরবির জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত বিআরইএল এর সদর দপ্তর (পূর্ব) এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেনতার সহোদরদের মধ্যে সবাই জামায়াত-শিবির ঘরানার বলে জানা গেছেসে জামায়াত ঘরাণার হলেও অবৈধ সুবিধা আদায়ের জন্য সিআরবি শ্রমিকলীগে যোগদান করেএরপর থেকে সে সরকার দলের সাইন বোর্ডের আড়ালে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, ইয়াবা ও মাদক ব্যবসাসহ অবৈধ উপায়ে প্রায় এক যূগের ব্যবধানে বাসা-বাড়ি ও ভূ-সম্পদসহ বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক হয়সম্প্রতি ২০লক্ষ টাকার দুটি ইয়াবার চালান র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছেএছাড়া সুমন চট্টগ্রাম দি রেলওয়ে মেন্স স্টোরস্ লিমিটেডের পরিচালক হওয়ার সুবাদে রেলওয়ের কর্মচারিদের কাছে শেয়ার বিক্রি করে হাতিয়ে নেয় কয়েক লক্ষ টাকাকিন্তু এসব শেয়ার হোল্ডারদের এখনো কোন কাগজপত্র দেয়া হয়নিএভাবে দেশের বিভিন্ন জেলার সহজ সরল যুবকদের রেল বিভাগে চাকুরি দেয়ার নামে সে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা২০০৯সালে চট্টগ্রামের স্থানীয় পত্রিকার তার এসব অপকর্মের সংবাদ প্রকাশিত হলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়২০০৪সালের পূর্বে আবুল বশর রাজশাহী রেল বিভাগে চাকুরির সুবাদে সুমনসহ তাদের পরিবার সেখানেই বসবাস করেএসময় প্রত্যহ রাজশাহী রেল স্টেশনে সে ফেরী করে পান-সিগারেট বিক্রি করেছেএকপর্যায়ে জামাত-শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আবুল বশরকে চট্টগ্রামে বদলী করা হয়কিন্তু সুমন রাজশাহীতে বড় হলেও ময়মনসিংহের স্কুল-মাদরাসার সাটিফিকেটে সে কিভাবে চাকুরি ও পদোন্নতি নিয়েছে তা- রহস্যজনকঅফিসে সুমনের যাবতিয় অন্যায়-অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারো সাহস নেইচট্টগ্রাম রেল বিভাগ এখন তার দোর্দন্ড প্রতাপের কছে পুরোপুরি জিম্মি দশায় রয়েছেএব্যাপারে অলি উল্লাহ সুমন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন