| |

Ad

সর্বশেষঃ

ঘোষ দিলে, টাকা পেলেই,……….. লড়ে ফাইল

আপডেটঃ ১১:৫২ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ২১, ২০১৭

ওমর ফারুক সুমন, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) থেকেঃ
মাসের পর মাস পড়ে থাকে ফাইল। তদন্তের নামে টাকা। অডিটের নামে টাকা। একাউন্টের নামে টাকা। টাকা পেলেই লড়ে ফাইল। এমন শত অভিযোগের পাহাড় জমেছে হালুয়াঘাট উপজেলার কৃষি ব্যাংক ধুরাইল শাখার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তার নাম এম এ বারিক। ব্যাংকে সেকেন্ড ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি ঋন শাখার অডিট কর্মকর্তা হিসেবেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ইতিমধ্যে ধুরাইল গ্রামের ইউপি সদস্য তুলা মিয়া, পাবিয়াজুড়ি গ্রামের রুহুল আমিন ও নিখিল চন্দ্র সরকার উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘোষ ভানিজ্যের অভিযোগ এনে ময়মনসিংহের কৃষি ব্যাংকের মুখ্য আ লিক ব্যবস্থাপক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন যা তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা যায়। সোমবার সরেজমিনে ব্যাংকে উপস্থিত হলে দেখা যায়, নানা অভিযোগ নিয়ে গ্রাহকরা হাজির হয় ব্যাংকের এই অসাধু কর্মকর্তার সামনে। করুয়াপাড়া গ্রামের এরশাদ আলী (৩০) জানান, ৪ মাস আগে তার নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা ঘোষ নিয়েছিলেন ঋন দিবে এই কথা বলে। অবশেষে কোন ঋন না পাওয়াই ঘোষের টাকা ফেরৎ নিতে এসেছেন। এরশাদ আরও বলেন এই কর্মকর্তাকে প্রতি লক্ষে ১৫ হাজার টাকা কমিশন না দিলে মাসের পর মাস তার টেবিলে ফাইল পড়ে থাকে। ধরাবন্নী গ্রামের সুলাইমান(৩৫) ৫ শত টাকা ঘোষ দিয়ে চেক বই উত্তোলন করেছেন। ধুরাইল গ্রামের নাজমুল বলেন, যে টাকা ঘোষ দেয় তার ফাইল দ্রুত গতিতে দৌড়ায়। আর টাকা না দিলে আর খবর থাকেনা। পাবিয়াজুড়ি গ্রামের চান মিয়া জানান, বারিকের কাছে ঋনের জন্যে পরামর্শ করতে আসলে তার নিকট আলাদা ২০ হাজার টাকা ঘোষ দাবী করেন। এতে সে ঋন করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কাওলারা গ্রামের নাজমুল (৩৫) ইসলাম বলেন, আমি ঋন রিকভারির জন্যে বারিক’র কাছে এসেছিলাম, বারিক আমাকে ২৫ হাজার টাকা উৎকোচ দাবী করলো। যার কারনে রিকভারি আর করতে পারিনাই। একইরকম ভাবে এলাকার শত মানুষের অভিযোগ উক্ত অসাধু কর্মকর্তা বারিক’র বিরুদ্ধে। এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা বারিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি সকল অপকর্ম অস্বীকার করে বলেন, ব্যাংকে বর্তমানে আইও না থাকায় মাঠে পরিদর্শনে তাকে যেতে হয়। ৪/৫ দিন সময় লাগে ঋন প্রসেসিং করতে। উক্ত ব্যাংকের ম্যানেজার আব্দুল আওয়াল বলেন, ঋন শাখার আইও মনিম হোসেন শুভন ট্রেনিং এ থাকায় এ দায়িত্ব বারিক পালন করছেন। এছাড়া কমিশন গ্রহন করেন কিনা এই বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান। তিনি বলেন, আমি পাবলিককে ডেকে এনে বলে দিই যেন কেউ কোন প্রকার ঘোষ না দেয়। এছাড়া বারিকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে তিনটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে তা স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্ত বারিক কে উক্ত ব্যাংক থেকে কিভাবে বদলী করা যায় তার চেষ্টা করবেন। এলাকাবাসীর কৃষি ব্যাংকের এই অসাধু কর্মকর্তার বদলীসহ তার বিরুদ্ধে ব্যাংকিং আইনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্যে জোর দাবী জানান।