| |

Ad

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বিশেষ ভিজিএফের চাল ধর্মপাশায় ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

আপডেটঃ ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ | ডিসেম্বর ১৪, ২০১৭

CHANNEL7BD.COM: নিজস্ব প্রতিবেদক:সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউপি চেয়ারম্যান নূর হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সরকারের দেয়া বিশেষ ভিজিএফের চাল বিতরনে ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ওই ইউনিয়নের ভিজিএফ কার্ডধারী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, গত নভেম্বর মাসের বরাদ্দকৃত তাদের প্রতি ভিজিএফ কার্ডধারীকে ৩০ কেজি চাল ও নগদ ৫০০ টাকা করে দেয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান তাদেরকে একটি বালতি দিয়ে মেপে ৩০ কেজির স্থলে ২৩ থেকে ২৪ কেজি করে চাল দিলেও তিনি এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলার সাহস পায়না।
ওই ইউনিয়নে মোট ২ হাজার ৮০ জন ভিজিএফ কার্ডধারী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রত্যেককে গড়ে ৫ কেজি করে চাল ওজনে কম দিলেও গড় হিসাব অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ৪০০ কেজি চাল আত্মসাত করে আসছেন ওই চেয়ারম্যান।
প্রতি কার্ডধারী কৃষককে ৬ থেকে ৭ কেজি করে চাল ওজনে কম দেয়ার বিষয়টি গত শুক্রবার বিকেলে ওই ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের রুহুল আমিন নামে এক ভূক্তভোগী কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকারকে মোবাইল ফোনে এ বিষয়টি জানালে তিনি তাকে এ ব্যাপারে তাঁর বরাবরে লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসতে বলেন বলেও ওই কৃষক স্থানীয় সাংবাদিকদেরকে জানিয়েছেন।
তবে মঙ্গলবার বিকেলে ওজনে চাল কম দেয়ার বিষয়টি জানতে ওই ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামে গেলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই গ্রামের ৯ জন ভূক্তভোগী কৃষক।
জানা গেছে, গত বছর আগাম বন্যায় উপজেলার সব কয়টি হাওরের কৃষকের বছরের একমাত্র বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় স্বর্বশান্ত হয়ে পড়েন এলাকার কৃষকেরা। এরপর সরকার গত মার্চ মাস থেকে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৪৫ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সরকারের বিশেষ ভিজিএফের আওতায় এনে তাদের প্রত্যেক ভিজিএফ কার্ডধারীকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল ও নগদ ৫০০ টাকা করে দেয়া হচ্ছে এবং তা আগামি বোরো ফসল ঘরে না উঠা পর্যন্ত তাদেরকে দেয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৮০ জন কৃষককে ওই বিশেষ ভিজিএফের তালিকায় আনা হয় এবং তাদের প্রত্যেককেই প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল ও ৫০০ টাকা করে দেয়ার কথা থাকলেও উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কার্ডধারী কৃষকদের একটি বালতি দিয়ে মেপে ৩০ কেজির স্থলে তাদেরকে ২৩ থেকে ২৪ কেজি করে চাল দিচ্ছেন বলে এলাকায় অভিযোগ উঠেছে।
এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মো. নূর হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, আমি কোনো কার্ডধারীকে ১ কেজি চালও ওজনে কম দেইনি। আর যদি দিয়েই থাকি তাহলে তারা আমার বিরুদ্ধে ইউএনও সাহেবে কাছে গিয়ে লিখিত অভিযোগ করুক। তবে ওজনে কিছু চাল কম হতেও পারে কারণ যে সব লেবাররা চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকে তারা কিছু চাল রাখতেও পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান চাল ওজনে কম দিচ্ছেন এ বিষয়টি মোবাইল ফোনে আমাকে একজন জানিয়েছিলেন। তবে ওজনে কম দেয়ার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।