| |

Ad

১টি পিস্তল ৫ রাউন্ড গুলি ও ২০০টি ডেটোনেটর উদ্ধার ’’ জঙ্গি তামিম ছিল সংগঠনের প্রধান – আর সামাদ সেকেন্ড ইন কমান্ড ’’ ————-প্রেসব্রিফিংয়ে ডিআইজি মনিরুল ইসলাম।

আপডেটঃ ১১:১৩ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ১৪, ২০১৭

এস.এম.মনির হোসেন জীবন : রাজধানীর মহাখালী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন তিন জঙ্গির একজন আবদুস সামাদ নব্য জেএমবির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তামিম চৌধুরীর ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ ছিল বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিররুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।
বুধবার রাতে রাজধানীর মহাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুস সামাদ ওরফে আরিফ মামু ওরফে আশিক, তার শ্বশুর জিয়াদুল ইসলাম এবং মো. আজিজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী হাসান ওরফে শিশিরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিভিন্ন সময় নব্য জেএমবির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা গ্রেপ্তার ও নিহত হলে এই সামাদের নেতৃত্বেই জঙ্গি সংগঠনটি সংগঠিত হয়। তাদের কাছ থেকে ২০০টি ডেটোনেটর, ১টি ৯ এম এম পিস্তল ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
আজ দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিআইজি মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তামিম চৌধুরী ও সামাদ কল্যাণপুর ও মিরপুর এলাকায় প্রায় ডজন খানেক জঙ্গি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প খুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। হলি আর্টিজান হামলার ‘অন্যতম পরিকল্পনাকারী’ সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর সামাদই সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।
তিনি আরও জানান, আজিজুল ইসলাম মেহেদী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দুই বছর ধরে জঙ্গি কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। জিহাদি প্রশিক্ষণও সে নিয়েছে। আর সামাদের শ্বশুর জিয়াদুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে নব্য জেএমবির জন্য অস্ত্র-বিস্ফোরক ও ডেটোনেটর সংগ্রহের পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্ব পালন করতেন।
কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিররুল ইসলাম বলেন, দিনাজপুরের সামাদ ২০০২ সালে দাওয়া হাদিস এবং ২০১১ সালে ফাজিল পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। তার মধ্যেই ২০১০ সালে তিনি জেএমবিতে যোগ দেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের বরাতে মুনিরুল বলেন, ২০১৪ সালে তামিম চৌধুরীর সঙ্গে মিলে ‘জুনদ আল তাওহীদ আল খিলাফাই’ নামে একটি সংগঠন গড়েন সামাদ। তামিম ছিলেন সংগঠনটির প্রধান, আর সামাদ ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’।
বোমা তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ‘পারদর্শী’ সামাদ সংগঠনের জন্য সদস্য ও অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতো সে। এই অভিযানে গ্রেপ্তার তিনজনের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও ২০০ ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানানো হয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আব্দুস সামাদ দলের হয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সদস্য সংগ্রহ, অর্থ সংগ্রহ, বিস্ফোরক তৈরিসহ বিভিন্ন কাজ করতেন। শীর্ষ জঙ্গি সোহেল মাহফুজ ও ছোট মিজানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সামাদ অস্ত্র সংগ্রহ ও সরবরাহ করতেন। তার শ্বশুর জিয়াদুল বিস্ফোরক, ডেটোনেটর গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং বিতরণের দায়িত্ব পালন করতেন। জিয়াদুলের মৎস্য খামারের পানির নিচে অস্ত্র ও ডেটোনেটরগুলা লুকিয়ে রাখা হতো।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অস্ত্র চালনা ও গ্রেনেড ব্যবহারের বিষয়ে সংগঠনের নবীন সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিতেন আব্দুস সামাদ। নব্য জেএমবির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার ও নিহত হওয়ার পর তার নেতৃত্বে সংগঠনটির কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হয়।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদেরকে বলেন, সাধারণত জঙ্গি সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা সরাসরি অপারশন অংশ নেন না। তাই আমরা ধারণা করছি অস্ত্রগুলো সরবরাহ করার জন্যই ঢাকা আনা হয়। তাদর জিজ্ঞাসাবাদর জন্য রিমান্ড আবদন করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।