| |

Ad

প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ মানুষের বসবাসরত সিটিতে ভোটার সংখ্যা মাত্র ১২ লাখ গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে আ’লীগ-বিএনপি প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাঁপ এখন তুঙ্গে

আপডেটঃ ১১:২২ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ১৪, ২০১৭

এস.এম.মনির হোসেন জীবন,গাজীপুর থেকে ফিরে : রাজধানীর সন্নিকটে গাজীপুর মহানগরী আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য দলীয় মেয়র প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাঁপ এখন অনেকটা তুঙ্গে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি সম্ভাব্য হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পাওয়া আশায় দলের হাইকমান্ডের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের যোগাযোগ করছেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে সমগ্র নির্বাচনী এলাকায় এখন ভোটের আগাম নর্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ৩৩০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সর্ববৃহৎ গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্তমানে ভোটের হাওয়া বইছে। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ লাখ বসবাসরত মানুষের গাসিক সিটিতে ভোটার সংখ্যা মাত্র ১২ লাখ। সিটি নির্বাচনের ফলাফল এই অ লের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাছে গাসিক সিটি নির্বাচন এখন চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী বাচাই ও মনোনয়ন প্রত্যাশী মেয়র প্রার্থীরা ইতিমধ্যে তৃনমূল (মাঠ) পর্যায় থেকে শুরু করে দলের হাইকমান্ড পর্যন্ত ব্যাপক লবিং শুরু করে দিয়েছেন। নির্বাচন যতো ঘনিয়ে আসছে ততো বেশি নির্বাচনী মাঠ সরগরম হয়ে উঠতে শুরু করেছে। একজন ভোটার থেকে শুরু করে মেয়র পদ প্রার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের সকলের মুখে মুখে এখন শোভা পাচেছ গাসিক নির্বাচনী গরম হাওয়া। সকলের মুখে মুখে শোনা যাচেছ নির্বাচন আর নির্বাচন। দলীয় হাইকমান্ডের শীর্ষ পর্যায়ের নীতি নির্ধারকরা এবার গাসিক নির্বাচনে তৃনমুল পর্যায়ের দলীয় প্রার্থীদের বুঝে শুনে মনোনয়ন দেবেন এমনটিই আশা করছে দলের হেভিওয়েট সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। দলীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এটিই এখন একমাত্র দেখার বিষয়বস্তু হয়ে দাড়িঁয়েছে। এমনটি মনে করছে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিকটবর্তী গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) নির্বাচনী এলাকা সরজমিন পরির্দশন এবং সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোটারদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) ৩৩০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এলাকা সর্ববৃহৎ গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ভোটের হাওয়া বইছে। প্রায় ৩০ লাখ মানুষের এই সিটিতে ভোটার সংখ্যা ১২ লাখ। অনেক আন্দোলন সংগ্রামের পর দুই পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে গাজীপুরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করে বর্তমান সরকার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সিটি নির্বাচনে ১৪ দল ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান ও বিএনপি সমর্থিত মেয়ন প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান নির্বাচনে অংশ নেন। প্রধান দুই দলের মেয়র পদে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় দলীয় মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অনেকে। যার যার অবস্থান থেকে কৌশলে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে লবিং গ্রুপিং,তদবির অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
ইতিমধ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে উভয় দলের মেয়র প্রার্থীরা বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, জাতীয় দিবস, মৃত ব্যক্তির জানাজা, পাবলিক পরীক্ষা, বিয়ে, সুন্নতে খতœাসহ সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে নিজেদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে দোয়া ও দলীয় প্রতীকে ভোট প্রার্থনা শুরু করে দিয়েছে। সেই সাথে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়াচেছন এবং ভোটারদের সাথে কুশলবিনিময় শুরু করে দিয়েছেন।
গাসিক সিটি নির্বাচনের ফলাফল এই অ লের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাছে সিটি নির্বাচন এখন চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ দলীয় হেভিওয়েট সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম শোনা যাচেছ তাদের মধ্যে রয়েছেন, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো: জাহাঙ্গীর আলম। এই দুই প্রার্থীই মনোনয়ন পেতে এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং তারা গাজীপুরের নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া গাসিক এর সাবেক ভারপ্রাপ্ত (মেয়র) ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আসাদুর রহমান কিরনও দলীয় ভাবে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করছেন এবং ভোটারদের আলোচনায় রয়েছেন।
তবে, গাজীপুরের সাধারণ মানুষ ও সূশীল সমাজ,ভোটার ও এলাকাবাসী মনে করেন, গাসিক নির্বাচনী আগাম প্রচার-প্রচারণায় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলহাজ মো: জাহাঙ্গীর আলম এগিয়ে থাকলেও সিটি করপোরেশন চালানোর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানের। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই আজমত উল্লাহ খান দলীয় মনোনয়ন পাবেন এমনটি মনে করছেন এলাকাবাসী।
শ্রমিক অদ্যশিত শিল্পনগরী গাজীপুরের সাধারণ মানুষ ও সর্বস্তরের ভোটাররা আসন্ন গাসিক নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হেভিওয়েট দুই মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলহাজ মো: জাহাঙ্গীর আলম ও অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানকে ভেবে চিন্তে বেছে নিবেন। এমনটি আশাবাদ ব্যক্ত করছেন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও স্থানীয় নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্টরা।
অপর দিকে, গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান বিরোধী দল (বিএনপি) মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য দলীয় মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম লোকমুখে শোনা যাচেছ তারা হলেন- বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও গাসিক এর বর্তমান মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক (এমপি), উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্বা আলহাজ মো: হাসান উদ্দিন সরকার ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ও কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সফল চেয়ারম্যান মো: শওকত হোসেন সরকার।
এবিয়য়ে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান বলেন, আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেবেন সেই নির্বাচনে অংশ নেবে। তিনি আরও বলেন, আমি গাজীপুরের টঙ্গী পৌরসভায় ১৮ বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এব্যাপারে আমার বেশ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
এ বিষয়ে অপর সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলহাজ মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে সেই নির্বাচনে অংশ নেবে।
সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে গাসিক সিটি করপোরেশন এর ভারপ্রাপ্ত মেয়র ছিলাম। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা আমি আগামী নির্বাচনে কাজে লাগাতে চাই।
তিনি আরও বলেন, মেয়র প্রার্থী হিসেবে আমিও এবার দল থেকে মনোনয়ন চাইব। আমাকে যদি দল মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি নির্বাচনে অংশ নেব।
এদিকে, এবিষয়ে গাসিক মেয়র অধ্যাপক এম.এ মান্নানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এটা দলের সিদ্ধান্তের সিদ্বান্ত। দল যদি আমাকে নির্বাচন করতে বলে এবং আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি প্রস্তুত আছি। অবশ্যই আমি নির্বাচনে অংশ নেব।
বিএনপি সমর্থিত সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী তৃনমূল পর্যায়ে নেতা মো: শওকত হোসেন সরকার বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেয় সেই নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে, আমি গতবার দল থেকে মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন চাইলে বিএনপি’র চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে আশ্বস্থ করেছিলেন। এবার দলীয় ভাবে মেয়র পদে মনোনয়ন পাবো বলে আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, গাসিকের বর্তমান মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান সাহেব বর্তমানে শারীরিক ভাবে অনেকটা অসুস্থ। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমিই আগামী গাসিক সিটি নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাব বলে প্রত্যাশা করি। আশাকরি দল আমাকে এবার মূল্যায়ন করবে।