| |

Ad

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে পর্নো দেখায় ঝুঁকি

আপডেটঃ ১০:২০ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৮

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : আপনি যদি অ্যান্ড্রয়েড ফোন বা ট্যাবলেট পিসি ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে পর্নো দেখার আগে দ্বিতীয়বার ভাবুন।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি ল্যাব জানিয়েছে, ২০১৭ সালে কমপক্ষে ১২ মিলিয়ন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী পর্নো থেকে ছদ্মবেশী ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত হয়েছে। গত বছরে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত হওয়া ৪.৯ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর প্রায় এক চতুর্থাংশ পর্নো ম্যালওয়্যারের শিকার।

পর্নো দেখার সময় ম্যালওয়্যারে ক্লিক করতে প্রলুব্ধ করা খুব সাধারণ একটি কৌশল। ২০১৭ সালে ১ মিলিয়নের বেশি অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ভুয়া পর্নো অ্যাপের মাধ্যমে ৮ লাখ ৯২ হাজার মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেয় একটি হ্যাকার গ্রুপ, এছাড়া ৯০ হাজার বট ব্যবহার করে টুইটারে পর্নো দিয়ে স্প্যাম ছড়ানোর ঘটনাও দেখা গেছে ২০১৭ সালে।

ক্যাসপারস্কির গবেষকরা জানিয়েছেন, পর্নো ম্যালওয়্যারে ডেস্কটপ কম্পিউটার আক্রান্তের সংখ্যা দেখা গেছে তিন লাখের বেশি। গবেষক দলটি ২৩ ধরনের পর্নো ম্যালওয়্যার দেখতে পেয়েছেন, যেগুলো অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং সবগুলো ম্যালওয়্যার প্রলুব্ধ করে থাকে। এমনকি গবেষকরা র‌্যানসমওয়্যার, ট্রোজান এর মতো ম্যালওয়্যারও দেখেছেন, যা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক এবং ভুয়া সাবক্রিপশনের ফাঁদে ফেলে।

এ গবেষণার ওপর গুগল কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ক্যাসপারস্কি ল্যাবের এ গবেষণায় অ্যাপলের আইওএস চালিত ডিভাইস অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কেবল অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস নিয়ে গবেষণাটি করা হয়েছে।

অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ট্রোজান ম্যালওয়্যারগুলোকে ‘ক্লিকার’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এতে ক্লিক করলে নতুন পেজ খোলে এবং গ্রাহকের অজান্তেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করা হয়। এতে বিজ্ঞাপন থেকে আয় হয় হ্যাকারদের। এছাড়া ব্যবহারকারীর ডিভাইসের ব্যাটারি খরচ হয় এবং ডাটাও বেশি খরচ হয়।

ক্যাসপারস্কি ল্যাব জানিয়েছে, বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ক্লিককারী ট্রোজানগুলো পর্নো সাইট থেকে ডাউনলোড হয়েছে। এছাড়া ভুয়া অ্যাপস এবং ভিডিও প্লেয়ারগুলোতেও ট্রোজান পাওয়া গেছে।

বেশিরভাগ র‌্যানসমওয়্যার ভুয়া অ্যাপসের মাধ্যমে আসে এবং হ্যাকারদের দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত ডিভাইস লক করে রাখে।

ক্যাসপারস্কির গবেষক দলটি একটি ব্লগ পোস্টে বলেন, ‘মোবাইল র‌্যানসমওয়্যারের সবচেয়ে ভীতিকর বিষয়টি হলো, ‘এই ট্রোজান ডিভাইসের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণে নেয়। এমনকি ব্যবহারকারী ট্রোজান মুছে ফেলার পরও ডিভাইস লক থাকবে।’

গুগল তাদের প্লে স্টোরে অ্যাডাল্ট কনটেন্টসহ অ্যাপ প্রকাশের অনুমোদন দেয় না। সম্প্রতি গুগল এক ঘোষণায় জানিয়েছে, ২০০৭ সালে নীতি ভঙ্গ করায় তারা ৭ লাখ অ্যাপ প্লে স্টোর থেকে মুছে দিয়েছে।

ক্যাসপারস্কি জানিয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষতিকর অ্যাপসগুলো থার্ড পার্টি অ্যাপ স্টোর থেকে আসে। অ্যাডাল্ট কনটেন্ট দেখার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত সাইট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানটি।

তথ্যসূত্র : সিনেট