| |

Ad

লিটনকে ফিরিয়ে দিলেন লাকমল

আপডেটঃ ৬:২৯ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৮

ক্রীড়া প্রতিবেদক :আগেরদিন চার উইকেট হারানোর পর দেখে শুনে বাট করেই দিন শেষ করেছিল লিটন ও মিরাজ। তবে দ্বিতীয় দিনে বাট করতে নেমে শুরুতেই বিদায় নিলেন লিটন দাস। লাকমলের বাইরের বল মারতে গিয়ে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। সাজঘরে ফেরার আগে তার বাট থেকে আসে ২৫ রান।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত টাইগারদের সংগ্রহ ৫ উইকেট হারিয়ে ৭৫ রান। মিরাজ ২৩ রান নিয়ে বাট করছেন। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেট এসেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। টাইগাররা এখনো সফরকারী দল থেকে পিছিয়ে আছে ১৪৭ রানে।

এর আগে শ্রীলঙ্কাকে ২২২ রানে অল আউট করে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার তামিম ইকবাল ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে বসলেন পেসার সুরঙ্গা লাকমালের হাতে। তামিমেরটা না হয় দুর্ভাগ্য হিসেবে মেনে নেয়া গেলো; কিন্তু মুমিনুলেরটা কিভাবে মেনে নেয়া যায়! অতি আত্মবিশ্বাস কোথায় নিয়ে যেতে পারে, সেটাই দেখালেন মুমিনুল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই খামখেয়ালিপনা করতে গিয়েই বলতে গেলে রানআউট হয়ে গেলেন চট্টগ্রাম টেস্টের নায়ক এবং টেস্টে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক।

কুশল পেরেরাকে মিড-অফে খেলেই এক রান নিতে গেলেন ইমরুল কায়েস। দৌড়ে আসলেন মুমিনুলও; কিন্তু ক্রিজে পৌঁছে গেছেন মনে করে কিংবা কাছাকাছি হওয়ার পর রানআউট থেকে বেঁচে গেছেন মনে করে তিনি কিছুটা স্লো হয়ে যান। এরই মধ্যে বল চলে আসল। মুমিনুল ব্যাট ক্রিজে ছোঁয়ানোর আগেই উইকেট ভেঙে দিলেন উইকেটরক্ষক ডিকভেলা। ৪ রানে পড়লো দ্বিতীয় উইকেট।

তামিম-মুমিনুলের পরপর বিদায় মানে বাংলাদেশের দারুণ ব্যাটিং বিপর্যয়। এই বিপর্যয় সামাল দিতে খুব সতর্কভাবে এগিয়ে চলা প্রয়োজন ছিল ইমরুল কায়েস আর মুশফিকুর রহীমকে। এ দু’জনকে সে চেষ্টা করেননি তা নয়। বিশেষ করে মুশফিকুর রহীম; কিন্তু অতি সতর্কতা এবং বোকামির দণ্ড দিতে হলো তাকে। সুরঙ্গা লাকমালের বল ছেড়ে দিতে গিয়ে বোল্ড হয়ে গেলেন মুশফিক। দলকে আরও বেশি বিপর্যয়ে ফেলে আউট হয়ে গেলেন তিনি।

খেলা চলছিল তখন ৯ম ওভারের। ওভারের শেষ বলটি অফ স্ট্যাম্পের অনক বাইরে মনে করে ছেড়ে দেন মুশফিক। যদিও তিনি দাঁড়িয়েছিলেন লেগ স্ট্যাম্পের ওপর। কিন্তু বল হালকা ইনসুইং করে ভেতরে ঢুকে যায় এবং উড়িয়ে দিয়ে যায় তার উইকেট। ১২ রানে পড়লো ৩য় উইকেট। মুশফিক বিদায় নিলেন মাত্র ১ রান করে।

মুশফিকের বিদায়ের পর ধরে খেলার চেষ্টা করেন ইমরুল কায়েস এবং লিটন কুমার দাস। এ দু’জনের ব্যাটে ৩৩ রানের জুটি গড়ে ওঠে। কিন্তু লঙ্কান স্পিনারদের চাপের মুখে টিকে থাকাই যেন কঠিন হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য। সে কারণে, টিকতে পারলেন না ইমরুল কায়েসও। তিনিও আউট হয়ে গেলেন ঘূর্ণি তোপে পড়ে।

দিলরুয়ান পেরেরার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান ইমরুল। যদিও রিভিউ নিয়েছিলেন তিনি; কিন্তু লাভ হলো না। উইকেট হারান তিনি। এ সময় তার ব্যক্তিগত রান ছিল ১৯। ৫৫ বলে খেলা ইনিংসটি সাজানো ছিল ৩ বাউন্ডারিতে। ইমরুল আউট হওয়ার পর আর দুই ওভার খেলা হলো। এরপরই শেষ হয় প্রথম দিনের খেলা।