| |

Ad

সর্বশেষঃ

পিংক ওয়ানডে’তে প্রোটিয়াদের জয়ের ধারা অব্যাহত

আপডেটঃ ৬:৩৯ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৮

ক্রীড়া ডেস্ক: ‘পিংক ওয়ানডে’তে আগের পাঁচ ম্যাচই জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। জোহানেসবার্গে কাল রাতে গোলাপি জার্সির ষষ্ঠ ম্যাচ জিতে সেই রেকর্ডটা অক্ষত রাখল প্রোটিয়ারা। চতুর্থ ওয়ানডেতে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সিরিজেও টিকে থাকল স্বাগতিকরা। প্রথম তিনটিতে জেতা সফরকারীরা ছয় ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে ৩-১ ব্যবধানে।

জোহানেসবার্গের নিউ ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ২৮৯ রান করেছিল ভারত। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ৭.২ ওভারে ১ উইকেটে ৪৩ রান তোলার পর বৃষ্টি নামলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। আবার খেলা শুরু হলে ২৮ ওভারে ২০২ রানের লক্ষ্য পায় স্বাগতিকরা। ডেভিড মিলার ও হেনরিখ ক্লাসেনের দারুণ ব্যাটিংয়ে ১৫ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে প্রোটিয়ারা।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ভারতের শুরুটা যদিও ভালো হয়নি। দলীয় ২০ রানে কাগিসো রাবাদাকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান ওপেনার রোহিত শর্মা (৫)। তবে আরেক ওপেনার শিখর ধাওয়ান ছিলেন দুর্দান্ত। নিজের শততম ওয়ানডেতে বাঁহাতি ওপেনার করেন সেঞ্চুরি। শততম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করা ভারতের প্রথম ও সব মিলিয়ে নবম ব্যাটসম্যান ধাওয়ান।

স্ট্রাইক রেট ১০০-এর ওপরে রেখে ব্যাট করেছেন ধাওয়ান। ব্যক্তিগত ৯৯ থেকে ক্রিস মরিসকে চার হাঁকিয়ে ৯৯ বলে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। ধাওয়ানের সেঞ্চুরির আগেই দ্বিতীয় উইকেটে তাকে নিয়ে ১৫৮ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। প্রথম তিন ম্যাচের দুটিতে সেঞ্চুরি করা কোহলি এদিন ৭৫ রান করেছেন ৮৩ বলে।

ভারতের ৩৫তম ওভারের সময়ও বৃষ্টি নেমেছিল জোহানেসবার্গে। বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকলেও ওভার অবশ্য কমেনি। তবে ভারত শেষ ১৬ ওভারে ৯২ রানের বেশি নিতে পারেনি। মহেন্দ্র সিং ধোনির অপরাজিত ৪২ রানে শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২৮৯ রান করতে পারে সফরকারীরা। ধাওয়ান ১০৫ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় খেলেন ১০৯ রানের ইনিংস।

লক্ষ্য তাড়ায় বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগেই অধিনায়ক এইডেন মার্করামের (২২) উইকেট হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। স্কোর তখন ১ উইকেটে ৪৩। পরে খেলা শুরু হলে দলীয় ৭৭ রানের মধ্যে ফিরে যান টপ অর্ডারের অন্য দুই ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা (৩৩) আর জেপি ডুমিনিও (১০)।

চোটের কারণে প্রথম তিন ম্যাচে খেলতে পারেননি এবি ডি ভিলিয়ার্স। ‘পিংক ওয়ানডে’তে আগের পাঁচ ম্যাচের দুটিতে সেঞ্চুরি ও দুটিতে ফিফটি করা বিস্ফোরক এই ব্যাটসম্যান কাল ফিরে ১৮ বলে ২৬ রানের বেশি করতে পারেননি। তার ইনিংসে ছিল ২টি ছক্কা ও একটি চার। দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর তখন ৪ উইকেটে ১০২।

বাকি কাজটা সেরেছেন মিলার, ক্লাসেন ও আন্দিলে ফিকোয়াও। পঞ্চম উইকেটে মিলারের সঙ্গে ৭২ ও ষষ্ঠ উইকেটে ফিকোয়াওয়ের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৩৩ রানের জুটিতে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান ক্লাসেন। কুইন্টন ডি কিকের চোটে সুযোগ পাওয়া উইকেটকিপার এই ব্যাটসম্যান ২৭ বলে ৫ চার ও এক ছক্কায় ৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। ২৮ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৯ রান করেন মিলার। আর ফিকোয়াও মাত্র ৫ বলে ২৩ রানের ছোট্ট ঝোড়ো ইনিংস খেলেন।

সিরিজের শুরু থেকে ভারতের রিস্ট স্পিনে ভুগছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে এদিন দুই রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদব ও যুজবেন্দ্র চাহালের ওপরই বেশি চড়াও ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা। কুলদীপ ২ উইকেট পেলেও ৬ ওভারে দিয়েছেন ৫১ রান। আর চাহাল ৫.৩ ওভারে ১২-এর বেশি ইকোনমি রেটে দিয়েছেন ৬৮ রান, উইকেট পেয়েছেন একটি।

স্তন ক্যানসার সচেতনতায় দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া মৌসুমের এদিনের ম্যাচটার পরিচিতি ‘পিংক ওয়ানডে’ নামে। ২০১৩ সাল থেকে শুরু হয় এই আয়োজন।