| |

Ad

সর্বশেষঃ

জমি লিখে না দেয়ার জের -কলমাকান্দায় বৃদ্ধা মাকে গোয়াল ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন

আপডেটঃ ৪:২৫ অপরাহ্ণ | মে ২৮, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক :চ্যানেল সেভেন :কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) :নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ছেলেকে জমি লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধা মা ফসর বানু (৮৫) কে গোয়াল ঘরে বন্দি করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার ছেলে সবুজ ও পুত্রবধূ সাহেদার বিরুদ্ধে। উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের একটি দলিল দেখিয়ে মা ফসর বানুর অংশের জমি জোর পূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালায় পাষন্ড ছেলে সবুজ। এতে ফসর বানু বাদী হয়ে আদালতে দলিল বাতিল চেয়ে মামলা করেছেন। যার মামলা নং- ৩৪/২০১৮।
রোববার বিকালে ফসর বানু বলেন, তার স্বামী আমজত আলী প্রায় ১০ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। রহিমা, আফরোজা, মিনা, স্বপ্না, শাবানা নামে ৫ মেয়ে ও হান্নান, আক্কাছ, সবুজ নামে তার ৩ ছেলে রয়েছে। ফসর বানুর মেয়ে মিনা তার ভাই সবুজের কাছে পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করলে সবুজ মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত হতে থাকে। তার অন্যতম কারণ সবুজ মায়ের জমিটুকুও লিখে নিতে চায়। মা ফসর বানু জমি লিখে দিতে না চাইলে তার ওপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। সবুজ ও তার স্ত্রী সাহেদা মিলে মাকে গোয়াল ঘরে আটকে রেখে দফায় দফায় নির্যাতন করতে থাকে। ফসর বানুর নামে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ডের টাকাও উত্তোলন করে হাতিয়ে নেয় সবুজ।
ফসর বানুর প্রতিবেশীরা জানান, রোববার মা ফসর বানুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেত দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেছে পাষন্ড ছেলে সবুজ। এসময় প্রতিবেশীরা ওই বৃদ্ধাকে রক্ষা করতে গেলে তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে ফসর বানুর মেয়েরা এ ঘটনার খবর পেয়ে মাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা করাতে চাইলেও হাসপাতালে নিতে দেয়নি সবুজ।
প্রতিবেশী জরিনা বেগম বলেন, জমি লিখে না দেওয়ায় ফসর বানুর পাষন্ড ছেলে সবুজ দীর্ঘদিন ধরে তার মাকে মারপিট করে আসছে। সে মাঝে মধ্যেই তার মাকে গোয়াল ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়েছে। গ্রামের অনেকেই এই নির্যাতনের প্রতিবাদের চেষ্টা করলেও সবুজ এলাকার কোন মানুষকেই তোয়াক্কা করছে না।
ইউপি সদস্য মঞ্জুরুল হক বলেন, এ বিষয়টি এলাকায় চা ল্যের সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর দাবি সবুজকে যেন আইনের আওতায় আনা হয়।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে অভিযুক্ত সবুজ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুজ্জামান বলেন বিষয়টি শুনেছি আমরা খতিয়ে দেখছি। সবুজ দোষী প্রমানীত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার মা ফসর বানুর পূর্নবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।