| |

Ad

সর্বশেষঃ

’’স্কিলস টুয়েন্টিওয়ান ’’ বাংলাদেশ দক্ষতার উন্নয়নে নতুন একটি পদক্ষেপ খুব শিগগিরই দেশে ট্রেনিং ইন্সস্টিটিউট তৈরী করা হবে ————- শিক্ষামন্ত্রী

আপডেটঃ ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ | মে ২৯, ২০১৮

এস,এম,মনির হোসেন জীবন ॥ জামিলা আক্তার পারুল ॥ খুব শিগগিরই দেশে একটি ট্রেনিং ইন্সস্টিটিউট তৈরী করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ’’স্কিলস টুয়েন্টিওয়ান ’’ বাংলাদেশ দক্ষতার উন্নয়নে নতুন একটি পদক্ষেপ। এ প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাঁট, খুলনা, কাপ্তাই, ফেনী, জামালপুর, সিলেট, গাইবান্ধাতে তৈরী হবে ৭টি মডেল কারিগরি ও কর্মমূখী শিক্ষা প্রশিক্ষন কেন্দ্র। যেখানে দক্ষতা ব্যবস্থার পূর্ণগঠনের সবগুলি উপাদানই বিদ্যমান থাকবে।
তিনি আরো বলেন, দক্ষতা ব্যবস্থার গুনগত মান নিশ্চিত, দক্ষ প্রশিক্ষক-ব্যবস্থাপক এমনকি শিক্ষার্থীদের চাকরীর জন্য তাদেরকে সঠিক নির্দেশনা তৈরীর মতো বিষয়গুলো এসব মডেল ইন্সস্টিটিউটে নিশ্চিত করা হবে। সরকারের নেতৃত্বে ও উন্নয়ন সহযোগীদের অংশীদারিত্বে কারিগরি শিক্ষার সেক্টর ওয়াইড এ্যাগ্রোচ কাঠামো গঠন করতে সেক্রেটারিয়েট হিসেবে কাজ করবে ’’স্কিলস টুয়েন্টিওয়ান’’।শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, কারিগরি দক্ষতার উন্নয়নের লক্ষ্যে ’’ স্কিলস টুয়েন্টিওয়ান ’’ পদক্ষেপ একটি সমন্বিত ও সুষম কারিগরি ও কর্মমূখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে যা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। আগামী দিনে দেশের তরুন প্রজন্মের মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশ গড়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখবে।  সোমবার বিকেলে রাজধানীর রেডিসন হোটেলের উৎসব হলে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর অর্থায়নে এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তত্বাবধানে ’’ স্কিলস টুয়েন্টিওয়ান -অর্ন্তভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে নাগরিকদের ক্ষমতায়ন’’- প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু উদ্বোধনী অনুষ্টানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশনের ভারপ্রাপ্ত হেড অব কো-অপারেশন ডোরেথে বোসে, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো: আলমগীর, ’’স্কিল টুয়েন্টিওয়ান প্রকল্পটির চীফ টেকনিক্যাল এডভাইজার ¯েœহাল সোনেজি ও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার এডিশনাল সেক্রেটারী অশোক কুমার ঘোষ বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া অনুষ্টানে স্কিলস টুয়েন্টিওয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (আইএলও-ইউয়ের) উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, একটি কার্যকর কারিগরি ও কর্মমূখী শিক্ষা ব্যবস্থাই বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক সমস্যা মোকািেবলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ’’স্কিলস টুয়েন্টিওয়ান’’ আমাদের কর্মশক্তিকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলে সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়ত হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ’’স্কিলস টুয়েন্টিওয়ান’’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আইএলও-ইউয়ের বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার আধূনিকায়নে অতীত সফল উদ্যোগ গুলোর উপর ভিত্তি করে। সে কারণে প্রকল্পটির অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে রয়েছে দক্ষতার উন্নয়ন ব্যবস্থার পূর্নগঠনকে আর ও শক্তিশালী করা।
তিনি আরো বলেন, কারিগরি হলো ভিত্তিমূলক শিক্ষা। এটাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে গুনগত শিক্ষার ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে আগের চেয়ে জোরালো করে গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্যে সরকার ও শিক্ষামন্ত্রনালয় কাজ করছেন।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে আমরা কারিগরি ও ভিত্তিমূলক শিক্ষাকে ২০ ভাগে নিয়ে আসতে চাই। এজন্য সকলের সহযোগীতা চাই। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদেরকে কারিগরি শিক্ষার দিকে এগিয়ে আসতে হবে। এবিষয়ে প্রস্তাব করতে চাই।
তিনি আরো বলেন, ইতি মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ৪০০ শিক্ষক সিঙ্গাপুর ও চায়না থেকে এবিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে এসেছেন। এছাড়া প্রায় ১০০০ শিক্ষার্থী এবিষয়ে ট্রেনিং নিয়েছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশনের ভারপ্রাপ্ত হেড অব কো-অপারেশন ডোরেথে বোসে বলেন, বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন রয়েছে। আর তাই দেশটিতে বিদ্যমান দক্ষতার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী কর্মী, চাকরীদাতা এবং সর্বোপরি পুরো জাতির উন্নয়নের লক্ষ্যে ইউ-বাংলাদেশকে সহায়তা করবে ’’ স্কিলস টুয়েন্টিওয়ান’’।
এক্ষেত্রে নানা সমস্যা এবং বাধার চিত্র তুলে ধরে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো: আলমগীর বলেন, আগামী দিনে স্কিলস টুয়েন্টিওয়ান এ সমস্যা গুলো মোকাবিলা করে কারিগরি শিক্ষাকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশেষ করে চাকরীর বাজারে বিদ্যমান অসামঞ্জস্যতা, অবাধগম্যতা, নারী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা।
’’স্কিল টুয়েন্টিওয়ান প্রকল্পটির চীফ টেকনিক্যাল এডভাইজার  সোনেজি বলেন, একটি আধূনিক ও অর্ন্তভুক্তিমূলক দক্ষতার ব্যবস্থা বাংলাদেশের ভবিষ্যত উন্নয়নের শক্ত ভিত্তি। আর স্কিলস টুয়েন্টিওয়ান’’ এ বিষয়টি মাথায় রেখেই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে অর্ন্তভুক্ত করেই কাজ করে যাবে।
মোট ২০ মিলিয়ন ইউরো বাজেটের এ প্রকল্পটিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৯.৫ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের শিক্ষা, শ্রম, যুব উন্নয়ন, প্রবাসী কল্যাণ, পার্বত্য চট্রগ্রাম মন্ত্রনালয়, কারিগরি শিক্ষা বিভাগ ও অধিদপ্তর কাজ করবে।