| |

Ad

টেকপাড়ায় গড়ে উঠেছে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিশাল সিন্ডিকেট তুরাগের ফুলবাড়িয়া টেকপাড়া এলাকায় চলছে ইয়াবা’র ‘’হোম ডেলিভারি সার্ভিস‘’

আপডেটঃ ২:৪৭ অপরাহ্ণ | জুন ০২, ২০১৮

এস.এম. মনির হোসেন জীবন : রাজধানী উত্তরা বিভাগের তুরাগ থানা এলাকাটি বর্তমানে মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী, ডাকাত, ছিনতাইকারী, মলমপার্টি, চোর সহ বিভিন্ন অপরাধীচক্রের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এছাড়া তুরাগের হরিরামপুর ইউনিয়নে রয়েছে প্রায় ৩৩টি ছোট বড় গ্রাম। তার মধ্যে তুরাগের ফুলবাড়িয়া-টেকপাড়া, রানাভোলা, কামারপাড়া, নয়ানগর, ডিয়াবাড়ি, তারারটেক, চন্ডালভোগ, ধউর, আহালিয়া,বাউনিয়া, নলভোগ সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় মরণনেশা মাদকে ছেয়ে গেছে। সেই সাথে ঘরে ঘরে চলছে ইয়াবাি ট্যাবলেটের হোম ডেলীভারী সার্বিস। বিশেষ করে এসব এলাকাগুলো ইয়াবা ব্যবসায়ী ও ডিলারদের বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ”ইয়াবা ট্যাবলেট খাবি খা’’ তার পর ভোগতে ভোগতে একদিন ’’মারা যাবি যা”। মরণনেশা ইয়াবা বর্তমানে দেশের তরুন মেধাবী ও যুব সমাজকে ধবংশের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচেছ। মানুষের জীবন-যৌবন আর মৃত্যুর অপর নাম হল ইয়াবা ট্যাবলেট। সারা দেশব্যাপী ইয়াবা সেবন ও বিক্রি আগের যে কোন সময়েরন চেয়ে কয়েকগুন বেড়ে গেছে। কোন অবস্থাতেই মরণনেশা ইয়াবা ট্যাবলেট পাচার, বেঁচাকেনা বন্ধ এমন কি রোধ করা যাচেছ না। ইয়াবার আক্রমন ও আগ্রাশন থেকে আমাদেরকে যে কোন মূল্যে বের হয়ে আসতে হবে। দেশের বিভিন্ন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে প্রায় ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার মাদকাসক্ত চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। কোন কোন ক্ষেত্রে এর সংখ্যা তুলনামুলক ভাবে একটু বেশি। ইতি মধ্যেই দেশে ইয়াবা আসক্তির সংখ্যা ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলেও ধারণা করছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইয়াবা ব্যবসায়ী চক্র বার্মিজ আচার আর শুটকি মাছের প্যাকেটে করে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আনছে ইয়াবা ট্যাবলেটের অসংখ্য বড় বড় চালান। এরপর টেকনাফের ইয়াবা ডিলাররা সেই ইয়াবা কৌশলে বহন করে নিয়ে আসে রাজধানী ঢাকা,তার আশপাশের জেলা সহদেশের প্রত্যন্ত অঞ্জলের বিভিন্ন জেলা সমুহে। বর্তমানে রাজধানীর অন্যতম ক্রাইমজোন উত্তরা বিভাগের তিন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা গুলো। বিশেষ করে তুরাগ থানা হরিরামপুর ইউনিয়নের ছোট বড় ৩৩টি গ্রামের সহজে পাওয়া যায় মরণনেশা ইয়াবা ট্যাবলেট। এখানে হাত বাড়াইলেই সহজে পাওয়া যায় ইয়াবা। পাশাপাশি ইয়াবা এখন হোম সার্ভিসে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে উত্তরা পশ্চিম থানা, উত্তরা পুর্ব থানা, তুরাগ থানা, দক্ষিনখান, খিলখেত, বিমানবন্দর, উত্তরখান ও টঙ্গী মডেল থানা এলাকায় ইয়াবা বিশাল আস্তানা গড়ে তলা হয়েছে। উত্তরা জোনে ইয়াবা ট্যাবলেট সেন ও বিক্রির বিশাল একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। বিশালবহুল কার, মটরবাইক, দামী প্রাইভেটকার, জীপ গাড়ি, সরকারী কর্মকর্তা, সহ সুন্দরী কলগাল্স মেয়েদের দিয়ে নিয়ে আসছে এই ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান। উত্তরা এলাকায় কোন অবস্থায় ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ রোধ করা যাচেছনা। দিন দিন আরও সেটি বৃদ্বি পাচেছ।
রাজধানীর উত্তরা বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় কিছুদিন আগেও মাদকের ক্রেতার আশায় নির্দিষ্ট কোনো স্থানে অপেক্ষায় থাকত বিক্রেতারা। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি ছিল অনেক বেশি। এখন সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যাছে মাদক কেনাবেচার নিত্য-নতুন কলা-কৌশল। বর্তমানে মোবাইলের মাধ্যমে নিজেদের সাথে যোগাযোগ করছে মাদকসেবী আর বিক্রেতারা। পরে সুবিধাজনক স্থানে লেনদেন শেষ করছে তারা। শুধু তাই নয়, হোম ডেলিভারি সার্ভিসের মতো ক্রেতাদের বাসায় গিয়ে মাদক সরবরাহ করছে খুঁচরা বিক্রেতারা। আর এর সাথে মাদক ব্যবসায়ীরা যোগ করেছে উঠতি বয়সের কিশোরদের।
রাজধানীর উত্তরা বিভাগের হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ছোট বড় ৩৩টি গ্রাম। উত্তরখান আদর্শ ই্উনিয়ন ও দক্ষিণখান ইউনিয়নের কয়েক শতাধিক গ্রাম,পাড়া মহল্লা এখন ইয়াবা ট্যাবলেট ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের জবরদখলে চলে গেছে। প্রভাবশালী ইয়াবা ব্যবসায়ীরা গোপনে একটি শক্তিশালী নিস্ডিকেট তৈরী করে প্রকাশ্যে দিবালোকে এই মরণনেশা ইয়াবা তরুন সমাজ, শিক্ষার্থী, যুবসমাজ, সেবনকারী ও ব্যবসায়ীদের হাতে পৌছে দিচেছন। কোন কোন ক্ষেত্রে পুলিশী ঝামেলা এড়াতে ও গ্রেফতারের ভয়ে খুঁচরা ব্যবসায়ীরা রাত-দিন সেবনকারীদের নিজ নিজ অবস্থান ও বাসা বাড়িতে (হোম সার্ভিসের নামে) গোপনে পৌঁছে দিচেছন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, উত্তরা, তুরাগ, উত্তরখান, দক্ষিণখান, খিলক্ষেত ও বিমানবন্দর জোনে বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে অনুসন্ধান করে ইয়াবা ব্যবসায়ী,সেকবনকারী,খুঁচরা ব্যবসায়ীও ডিলারদের একটি চাঞ্জল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তার মধ্যে রয়েছে-তুরাগের ফুলবাড়িয়া গ্রামের টেকপাড়া এলাকায় ঈদকে সামনে রেখে রমজান মাসে ও দেদাচেছ চলছে মরণ নেশা মাদক ইয়াবা। বর্তমানে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর ১৯ নম্বর রোডের শেষ মাথায় টেকপাড়া কালবার্ট ব্রিজ এলাকায় বসে মাদকের বিশাল হাঁট। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে ভোররাত পর্যন্ত চলে ইয়াবা সেবন ও বিক্রি। টেকপাড়া এলাকার প্রভাবশালী স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিরা এ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে।
পুলিশ, ডিবি ও এলাকাবাসি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যারা ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের মধ্যে কিছু সেবনকারী ও বিক্রয়কারী এবং ডিলারের নাম রয়েছে- তারা হলেন, আলাল, হেলাল,কামাল, পিতা মৃত বাচচু মিয়া, নুরু, শরাফত, হুমায়ুন, বাদল, বশীর ও মামুন প্রমুখ। এদের অনেকের নামে তুরাগের নয়ানগর গ্রামে ট্রিপল হত্যা মামলা, খুনের মামলা, চাঁদাবাজী, মাদক, ছিনতাই মামলা সহ বিভিন্ন অভিযোগ ও তুরাগ ও উত্তরা পশ্চিম থানায় একাধিক জিডি রয়েছে। আবার পুলিশ,ডিবি ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে গ্রেফতার হয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জ জেল খানায় বন্দি আছে। তার মধ্যে অনেক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী জামিনে বের হয়ে ফের মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। ইয়াবা ট্যাবলেটের মধ্যে রয়েছে- ব্র্যান্ডের এসওয়াই, এনওয়াই, আর সেভেন, সেভেন আর, চম্পা, সুপার, ও ডব্লিউওয়াই ইত্যাদি।
খ্জো নিয়ে জানা যায়, তুরাগের ফুলবাড়িয়া টেকপাড়া এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে ক্যারাম বোর্ডেও দোকান রয়েছে। তুরাগ থানা পুলিশকে মাসোয়ারা দিয়ে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এ ব্যবসা প্রকাশ্যে করে যাচেছন। আর এসব ক্যারাম বোর্ডের দোকান গুলো সন্ধ্যার পর বেশ জমজমাট হয়ে উঠে। তরুন বয়সের যুবকরা এখানে এসে মধ্যরাত পর্যন্ত নেশা খেয়ে ক্যারামবোর্ড খেলে। সন্ধ্যার পর টেকপাড়া গ্রামটি লোকের লোকারন্য হয়ে যায়। রাতের বেলায় চুরি, ছিনতাই, অসামাজিক কার্যকলাপ সহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম চলে বলে নাম প্রকাশ্যে অনিচছুক একাধিক বাসিন্দাররা অভিযোগ করেছেন।
এছাড়া তুরাগের ফুলবাড়িয়া টেকপাড়া এলাকায় ওয়াসার অবৈধ পানি সংযোগের হিড়িক পড়েছে। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর ১৯ নম্বর রোড থেকে অবৈধ ভাবে বিশাল লম্বা পানির পাইপ দিয়ে তুরাগ নদীর শাখা নদী খিদিরখালের উপর দিয়ে এসব অবৈধ পানির সংযোগ দিয়ে বাড়ি বাড়ি পানি নিয়েছেন। জানা গেছে, ওয়াসার কতিপয় ব্যক্তিদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে টেকপাড়া এলাকায় এধরনের প্রায় শতাধিক ব্যক্তি অবৈধ উপায়ে পানির লাইন নিয়েছেন।
সরজমিনে অনুসন্ধ্যান ও আইনশৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন তথ্য সুত্রে জানা গেছে, তুরাগের অর্ধ মধ্যবিত্ত পরিবারের কিশোরদের টাকার লোভ দেখিয়ে তাদের দিয়ে ইয়াবার হোম ডেলিভারি সার্ভিস দিছে মাদক ব্যবসায়ীরা। এ ক্ষেত্রে মাদকের টাকা আগেই পেমেন্ট করে দিতে হয় মাদকসেবীদের। আর এ কাজটি সবচেয়ে বেশী হয় বিকেল ও সন্ধ্যায়। আর ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান আসে মধ্যরাতে এবং ভোরে। অনেকে ইয়াবা ব্যবসা করে অল্প দিনে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। তারা গড়ে তুলেছেন টাকার পাহাড়। গাড়ি, বাড়ি ও বিষয় সম্পত্তি।
একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, ইয়াবা চক্রটি মায়ানমার থেকে বিভিন্ন ব্রান্ডের আচার এবং শুটকি মাছের প্যাকেটের ভিতরে বিশেষ কায়দায় ইয়াবা এনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে থাকে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) কর্মকর্তারা সম্প্রতি রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমন সংঘবদ্ধ চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে । গ্রেফতারের পর আটকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশ চাঞ্জল্যকর তথ্য পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মাদক ব্যবসায়ী ও ইয়াবা ডিলাররা দৈনন্দিন জীবনে তাদের রুটে ও নানা নতুন কৌশল পরির্বতন করে ফেলায় আবারো বেড়েছে তুরাগে মাদকের ব্যবহার। শুধু তুরাগেই নয় মাদকের এই সহজলভ্যতার কারণে দেশে দিন দিন মাদকসেবীর সংখ্যা বাড়ছে বলে দাবি করেছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলাম কিবরিয়া।
তিনি আর ও বলেন, আগে মাদক বিক্রির চিহ্নিত স্থান ছিল। আমরা নিয়মিত সেসব স্থাানে অভিযান পরিচালনা করতাম। ফলে মাদকের ব্যবহার ও বিক্রি অনেক নিয়ন্ত্রণে ছিল। এছাড়া মাদক বিক্রেতাদের সহজেই চিহ্নিত করে তাদের গ্রেপ্তার করা যেত। আর এখন বিক্রেতারা কোনো স্থানে না দাঁড়িয়ে মোবাইলে ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের হাতে মাদক তুলে দিচেছ। যার ফলে তাদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সেকারণে দেশে মাদক ব্যাবসায়ীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলাম কিবরিয়া মনে করেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই এর সাথে বেশি জড়িত। তারা প্রথমে ইয়াবা সেবন শুরু করে। পরে নিজেদের মাদকের খরচ যোগাতে আশপাশের পরিচিতদের মধ্যে বিক্রয় শুরু করে। এভাবেই ভয়ানক হারে বাড়ছে মাদক বিক্রেতা আর সেবীর সংখ্যা।
এ বিষয়ে মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল কবির বলেন, মাদক বিক্রেতার সময়ের সাথে সাথে নিজেদের কাজের কৌশল বদলে ফেলেছে। কিন্ত আমরা আগের জায়গাতেই আছি। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবের পাশাপাশি নেই কোনো মোবাইল ট্র্যাকিং ডিভাইস। সেই সাথে যানবাহনের সমস্যাও প্রকট।
মাত্র ৬০ জন লোকের পক্ষে রাজধানীর মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ডিজিটাল মাদক বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিতে হবে। আরো বড় কোনো পদক্ষেপ না নিলে ইয়াবা ডিলার,পাচারকারী ও ব্যবসায়ীদেরকে নির্মুল করা সম্ভব হবে না।
মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ডিসি মো: মাসুদুর রহমান বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর মাদক দমনের প্রধান ভূমিকা পালন করবে। পুলিশ তাদের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। অধিদফতরের সুবিধা অসুবিধা বিষয়গুলো চি‎‎ন্তা করে তা সমাধান করতে হবে। স্বল্প সময়ে মামলাগুলোর বিচার সম্পন্ন করতে হবে। তাহলেই মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্র জানা যায়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে প্রায় ১৫ হাজার মাদকাসক্ত চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ইয়াবাসেবী। একটানা মাত্র দুই-আড়াই বছর ইয়াবা সেবনের ফলেই তারা মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের নার্ভগুলো সম্পূর্ণ বিকল হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাদের অনেকেরই মস্তিস্কের ভারসাম্যতাও বিনষ্ট হওয়ার পথে। পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে দিন দিন ইয়াবা আসক্তের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। আসক্ত তরুণ-তরুণীরা অধিকাংশ উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ইতোমধ্যেই দেশে ইয়াবা আসক্তির সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলেও ধারণা করছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, ইয়াবায় উত্তেজক এম সিটামিন এবং ক্যাফেইন রয়েছে। তাই ইয়াবা আসক্তরা শেষ পর্যন্ত মানসিক বিকারগ্রন্ত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।
হলিফ্যামিলি হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কবির চৌধুরী বলেন, ইয়াবা একটি ভয়ঙ্কর নেশার উপকরণ। এটা সেবনে যৌবন ও জীবনীশক্তি থাকে না। ইয়াবা সেবনে প্রথমে যৌন উত্তেজনা বাড়ে, ঘুম ও ক্ষুধা কম হয়। এটার জন্য তারা ইয়াবা সেবনে সহজে উৎসাহিত হয়। কিন্তু এটা সীমিত সময়ের জন্য। ২-১ বছরের মধ্যে তাদের যৌন উত্তেজনা চিরতরে বিনষ্ট হয়ে যায়। চিকিৎসা করলেও আর ভালো হয় না। তাদের দাম্পত্য জীবন চিরতরে ধ্বংস হয়ে যায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট ডা. বদরুল আলম বলেন, এক থেকে দুই বছর-এর মধ্যে ইয়াবা সেবনকারীদের নার্ভগুলো সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ইয়াবা ক্ষুধা নষ্ট করে দেয়, খাবারে অরুচি আনে, যাতে মারাত্মক অপুষ্টি সৃষ্টি এবং শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স নষ্ট হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. গোলাম রাব্বানি বলেন, ইয়াবা সেবনকারীরা মানসিক রোগে ভুগতে থাকে। অস্থির ভাব এবং যে কোনো সময়ে যে কোনো অঘটন তারা ঘটিয়ে ফেলতে পারে। বেশিরভাগ ইয়াবা আসক্ত সিজেফ্রেনিয়ার মানসিক রোগের শিকার হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রস্তুত করা এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, থাই ভাষায় ইয়াবা মানে ক্রেজি মেডিসিন বা পাগলা ওষুধ। ইয়াবা এক ধরনের মাদক যা হেরোইনের চেয়ে ভয়াবহ এবং হেরোইনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইয়াবার মূল উপাদান মেথ্যাম ফিটামিন ও সঙ্গে থাকে উত্তেজক পদার্থ ক্যাফিন। ২৫ থেকে ৩৫ মিলিগ্রাম মেথ্যাম ফিটামিনের সঙ্গে ৪৫ থেকে ৬৫ মিলিগ্রাম ক্যাফিন মিশিয়ে তৈরি এ ট্যাবলেটের রং সাধারণত সবুজ বা লালচে কমলা হয়ে থাকে। নথিতে আরো বলা হয়, ইয়াবা ট্যাবলেটের স্বাদ যে কাউকে আকৃষ্ট করতে পারে এবং সেবনের পর ধরা পড়ার সম্ভাবনাও থাকে না।
বিশেষজ্ঞরা ইয়াবা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপরই বেশি গুরুত্বারোপের পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থা প্রয়োগের জন্যও প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সহল ও বিশেষঞ্জরা।
এবিষয়ে তুরাগের ফুলবাড়িয়া টেকপাড়া এলাকার সাধারণ মানুষ,ভুক্তভোগী ও সচেতন মানুষ মরণনেশা ইয়াবার হাত থেকে তাদের সন্তান,পরিবার, তুরুন প্রজন্ম ও দেশকে বাঁচানোর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহসী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। সে কারণে মাদক ব্যবসা বন্ধ সহ মাদক ব্যবসায়ীদেরকে অচিরেই একটি মাদকবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ মাদক উদ্বার ও সেবনকারী এবং বিক্রিতারদেরকে আটক করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দেশরতœ শেখহাসিনা ,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) ড. মুহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, এলিট ফোর্স (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি’র পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া,উত্তরা বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) ও র‌্যাব-১,উত্তরার অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্ট্যান্ট কর্ণেল সারওয়ার বিন কাশেম সহ আইনশৃংখলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তুরাগের ফুলবাড়িয়া, টেকপাড়া, রানাভোলা, চন্ডালভোগ, দিয়াবাড়ি, উত্তরা সহ হরিরামপুর ইউনিয়নের ছোট-বড় ৩৩টি গ্রামের সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল এবং সংশ্লিষ্টরা।