| |

Ad

তালিকাভুক্ত শীর্ষ পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ীরা এখন ও অধরা -গাজীপুরের টঙ্গী বাজারের ’’ ইয়াবা ডন ’’কে এই লুঙ্গী-গামছা সালাম ব্যাপারী ॥

আপডেটঃ ২:৫৯ অপরাহ্ণ | জুন ০২, ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার,টঙ্গী থেকে ফিরে ॥ রাজধানীর অদূরে শিল্পনগরী হিসেবে খ্যাত গাজীপুর মহানগরী শিল্পনগরী টঙ্গীতে নতুন করে এক ’’ইয়াবা ডন’’ লুঙ্গী-গামছা মো: আব্দুস সালাম ব্যাপারী উন্থান হয়েছে। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পবিত্র রমজান মাসেও তার নেতৃত্বে টঙ্গীতে চলছে রমরমা ইয়াবা ট্যাবলেট বেঁচাকেনা। সারা দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে তিনি এখনও পর্যন্ত অধরা রয়ে গেছেন। জনমনে প্রশ্ন ? তাহলে কে এই ইয়াবা ডন সালাম ব্যাপারী। কি তার আসল পরিচয় ? কে তার আশ্রয় ও শেল্ডারদাতা। এটিই এখন একমাত্র দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। খবর একাধিক বিশ্বস্থ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যসুত্রের।
অভিযোগে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরী ও টঙ্গী থানা যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে সালাম ব্যাপারী পুরো টঙ্গী বাজার দক্ষিণ আরিচপুর গরুরহাঁট ও বাজার এলাকা নিয়ন্ত্রন করছে। বর্তমানে আব্দুস সালাম ব্যাপারী ওরফে ইয়াবা সালাম স্থানীয় এন,ইসলাম নামে জৈনক এক চিকিৎসকের বাড়ির ৬ষ্টতলায় ভাড়া বাসায় মাসিক ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় সপরিবারে বসবাস করছেন। আব্দুস সালাম ব্যাপারী আজ থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর আগে গাজীপুরের টঙ্গীতে আসেন। টঙ্গীতে পা রেখে প্রথমে ফুটপাতে লুঙ্গী ও গামছা বিক্রি শুরু করেন । এ থেকে আব্দুস সালাম ব্যাপারীক টঙ্গী বাজার এলাকার জনগন লুঙ্গী-গামছা সালাম নামে পরিচিতি লাভ করে। এভাবে তার কর্মজীবন শুরু। এরপর সে টঙ্গী বাজার এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় ও শেল্ডারে আস্তে আস্তে রাজনীতিতে আসেন। ওই নেতার আর্শীবাদে অল্প কিছু দিনের মধ্যে সালাম ব্যাপারী অনেকটা পরিবর্তন হয়। রাত দিন সে ওই নেতার পিছনে পিছনে ঘুরঘুর করে নিজেকে যুবলীগের একজন দলীয় কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করে। এরপর সে পুরো টঙ্গীতে ওই প্রভাবশালী নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে টঙ্গী বাজার এলাকা চষে বেড়াতে শুরু করে। অল্প কিছু দিনের মধ্যে তার ব্যাপক পরিবর্তন আসে। দলীয় কর্মকান্ডে ও রাজপথে প্রায় আব্দুস সালামের উপস্থিতি প্রথম সারিতে দেখা যায়। কিছু দিনের ব্যবধানে আব্দুস সালাম ওই প্রভাবশালী নেতার আর্শীবাদ পুষ্ট হয়ে উঠেন। সে কারনে সবাই তাকে ভয়ের চোখে দেখে। তার বিরুদ্বে প্রতিবাদ করা তো দূরের কথা, কথা বলার সাহস ও কারো নেই। সবাই তাকে ভয় পান। কারণ সে প্রভাবশালী নেতার লোক বলে। দেখলে মনে হয় সে একজন বড় মাপের নেতা। তার চলাফেরা স্টাইল অন্য নেতাদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। মাদকের অভয়ারন্য টঙ্গী বাজারস্থ দক্ষিণ আরিচপুর গরুরহাঁট এলাকাটি আব্দুস সালঅম ব্যাপারী ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ন্ত্রন চলে আসে। এভাবে তার পথচলা শুরু হয়। বর্তমানে সারা দেশ ব্যাপী আইনশৃংখলা বাহিনীর চলমান মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে আব্দুস সালাম ব্যাপারী প্রশাসনের চোখের আড়ালে ও আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে এখনও পর্যন্ত সে বহাল তবিয়তে থেকে দেদাচেছ ইয়াবা ব্যবসা করছেন বলে এলাকাবাসি ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অভিযোগ করেছেন। তার সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী হলো ল্যাংরা ইয়াবা মনির, রুবেল ওরফে কানা রুবেল (কালবার্ট এলাকায়) তার দলের একজন সেল্সম্যান হিসেবে ইতিপূর্বে মাদক সহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল। টঙ্গীতে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে মনির কয়েক দিন আগে টঙ্গী থেকে প্রশাসনের গ্রেফতার এড়াতে কৌশলে গা-ঢাকা দিয়েছে। বেশ কিছু দিন আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি’র) একটি টিম টঙ্গী আরিচপুর রুট কালবার্ট জামাল বেকারী নিজ বাসা থেকে রুনিল আমিনকে মাদকদ্রব্য সহ আটক করে। রুনিল আমিনের নামে মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া মাদক সিন্ডিকেটের সদস্য কানা রুবেল ফেন্সিডিল সহ আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে ইতিপূর্বে গ্রেফতার হয়েছিল। প্রতিমাসে আব্দুস সালাম ব্যাপারী ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের অবৈধ ভাবে আয় লাখ লাখ টাকা।
একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, বর্তমানে আব্দুস সালাম ব্যাপারী, ল্যাংরা ইয়াবা মনির, রুবেল ওরফে কানা রুবেল প্রশাসনের নজরধারীতে আছেন। টঙ্গী বাজার এলাকার যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক এক কমিশনারের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করছেন ইয়াবা ব্যবসায়ী লুঙ্গী-গামছা ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম ব্যাপারী। পারিবারিক জীবনে এক ছেলে এক মেয়ের জনক সে।
টঙ্গী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: কামাল হোসেন জানান, টঙ্গীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ইতি মধ্যে আইনশৃংখলা বাহিনীর সাথে কথিত বন্দুকযুদ্বে মারা গেছে শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী। তারা হলো-
গাজীপুরের পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব সুত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,গত ২০ মে ২০১৮ রোববার দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে টঙ্গীর নিমতলী মাঠ এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্বে মারা যায় রনি ওরফে বেস্তি রনি। তিনি টঙ্গীর এরশাদ নগরের তিন নম্বর ব্লকের বাসিন্দা হাফিজুল ইসলামের ছেলে। রনির বিরুদ্ধে টঙ্গী থানায় মাদক মামলা সহ ১৪টি মাদক রয়েছে। এঘটনায় টঙ্গী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. ওমর ফারুক এবং এএসআই মো. আনোয়ার হোসেন।

 ৩১ মে,২০১৮ বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পূবাইলের ভাদুন এলাকায় গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবির হাতে নিহত হন শীর্ষ মাদক বিক্রেতা ও ১৪ মামলার আসামী কামরুল ইসলাম কামু (৩৫)। নিহত কামাল খান ওরফে কামু টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকার মৃত সিরাজ খান ওরফে তমিজ উদ্দিনের ছেলে। তার কাছ থেকে চার হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশের ৩ সদস্য আহত হয়েছেন।
অপর দিকে,চলতি সপ্তাহে টঙ্গীতে মাদকবিরোধী অভিযানে টঙ্গীর হাজীর মাজার বস্তির শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও ইয়াবার ডিলার বাচচু কথিত বন্ধুকযুদ্বে নিহত হয়েছে বলে এলাকাবাসিরা জানিয়েছে। এছাড়া বাচচুর সহযোগী মাদকব্যবসায়ীদেরকে ধরার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের অভিযান অব্যাহত আছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার এড়াতে টঙ্গী ও গাজীপুরের শীর্ষ পর্যায়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ও ডিলাররা গা-ঢাকা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি চলমান সারা দেশ ব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানে টঙ্গী ও গাজীপুরে তালিকাভুক্ত শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ও ডিলার প্রশাসের সাথে কথিত বন্ধুকযুদ্বে মারা গেছে। তাদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমান ইয়াবা, অস্ত্র, গুলি, ম্যাগজিন, গাঁজা, প্রাইভেটকার সহ অন্যান্য মালামাল জব্দ করেছে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।
এবিষয়ে কথিত যুবলীগ নেতা অভিযুক্ত মাদকব্যবসায়ী আব্দুস সালাম ব্যাপারীর সাথে একাধিবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। সে কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে টঙ্গী বাজার এলাকার সাধারণ মানুষ, ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল মরণনেশা ইয়াবার হাত থেকে তাদের সন্তান, পরিবার, তরুন প্রজন্ম ও দেশকে বাঁচানোর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহসী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। সে কারণে মাদকবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে টঙ্গী বাজার এলাকায় অবৈধ মাদক ব্যবসা বন্ধ সহ মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী এবং বিক্রেতাদেরকে অচিরেই আইনের আওতায় আনার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দেশরতœ শেখ হাসিনা ,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) ড. মুহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, এলিট ফোর্স (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি’র পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া,র‌্যাব-১,উত্তরার অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্ট্যান্ট কর্ণেল সারওয়ার বিন কাশেম, গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশীদ সহ আইনশৃংখলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গাজীপুরের টঙ্গীবাজার এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল এবং সংশ্লিষ্টরা।