| |

Ad

টঙ্গীতে শিলমুন আব্দুল হাকিম মাষ্টার উচ্চ বিদ্যালয়ের দারোয়ানকে পৈশাচিক নির্যাতন – দোষীদের শাস্তির দাবি-নিজেকে রোজাদার বললেও মারধর বন্ধ করেনি হামলাকারীরা।

আপডেটঃ ৩:৩০ অপরাহ্ণ | জুন ০২, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক; গাজীপুরের টঙ্গীর শিলমুন আব্দুল হাকিম মাষ্টার উচ্চ বিদ্যালয়ের দারোয়ান ফখরুল আলম জিলানীকে (৩৫) মধ্যযুগীয় কায়দায় পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ৪৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক মনির হোসেন সাগর ও গ্রাম আওয়ামীলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন স্কুলের পানির পাম্প ছাড়াকে কেন্দ্র করে দারোয়ান জিলানীকে দলবল নিয়ে মারধর করেন। এসময় মারধরের হাত থেকে বাঁচার জন্য নিজেকে রোজাদার বললেও মারধর বন্ধ করেনি হামলাকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, শিলমুন এলাকায় খাবার পানির স্বল্পতার কারণে শিলমুন আব্দুল হাকিম মাস্টার উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুলের পানির পাম্প থেকে এলাকাবাসীকে প্রতিদিন পানি দেওয়া হতো। তবে কয়েকদিন আগে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন হেলাল পানি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। কাউন্সিলরের নির্দেশে বুধবার পানি দেওয়া বন্ধ রাখে স্কুলের দারোয়ান জিলানী। বৃহস্পতিবার দুপুরে ৪৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক মনির হোসেন সাগর ও গ্রাম আওয়ামীলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন দলবল নিয়ে স্কুলের দারোয়ান জিলানীকে পানি বন্ধ রাখার কারণ জিজ্ঞেস করেন। এসময় স্কুলের দারোয়ান জিলানী কাউন্সিলর হেলালের নির্দেশে পানি বন্ধ রেখেছে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে যুবলীগ সভাপতি মনির। যুবলীগ আহবায়ক মনির হোসেন সাগর কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন হেলালের অনুসারী। কাউন্সিলরের নামে মিথ্যাচার করছে দাবি করে মনির হোসেন সাগর ও গ্রাম আওয়ামীলীগ সভাপতি আনোয়ার হাতে তৈরি এক প্রকারের বিশেষ চাবুক দিয়ে স্কুলের দারোয়ান জিলানীকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জথম করে ফেলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়। বিষয়টি তাৎক্ষনিক টঙ্গী থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রজব আলীকে জানায় দারোয়ান জিলানী ও এলাকাবাসী।

আহত দারোয়ান জিলানী বলেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিনের নির্দেশে আমি পানি বন্ধ রাখি। কিন্তু যুবলীগ আহবায়ক মনির ও তার সহযোগীরা আমি মিথ্যাচার করছি এমন দাবি করে আমাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তাদের মারধরের হাত থেকে বাঁচার জন্য আমি রোজা রেখেছি বলার পরও তারা আমাকে মারধর করতে থাকে।

কান্নাজড়িত কন্ঠে জিলানী বলেন, দীর্ঘ একযুগ ধরে এই স্কুলের দারোয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সামান্য বেতনে পরিবার নিয়ে শিলমুন এলাকায় বসবাস করছি। কখনো কারো সাথে কোন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়নি। আমাকে যেভাবে মারধর করেছে কোন পশুকেও এভাবে কেউ মারেনা। বিষয়টি আমি তাৎক্ষনিক টঙ্গী থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রজব আলী ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েছি। তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

এ বিষয়ে জানতে ৪৭নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মনির হোসেন সাগরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে টঙ্গী থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রজব আলী মুঠোফোনে বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছি স্কুলের দারোয়ান জিলানীকে দায়িত্বরত অবস্থায় পানি ছাড়াকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক মনির হোসেন সাগর ও গ্রাম আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মারধর করেছে। যেহেতু তারা আমাদের দলীয় কর্মী তাই বিষয়টি আমরা স্থানীয় এমপি জাহিদ আহসান রাসেলকে জানিয়েছি। এমপি সাহেব ইফতার মাহফিলে ব্যস্ত থাকায় এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তবে এলাকাবাসী এ বিষয়ে সুস্থ বিচারের দাবি জানিয়েছেন।