| |

Ad

কে এই বদি !!!

আপডেটঃ ৪:৪৬ অপরাহ্ণ | জুন ০২, ২০১৮

---

সালাউদ্দিন আহমেদ : এজাহার মিয়া’র জন্ম মায়ানমারে। জন্মসূত্রে তিনি ছিলেন রোহিঙ্গা। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে তিনি নাফ নদীর তীরে এস বসতি গড়েন এবং স্বর্ণ চোরাচালান শুরু করেন। ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালানের ব্যবসার নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন। চোরাচালান ব্যবসার পাশাপাশি এজাহার মিয়া টেকনাফে একটি হোটেল দেন। সেই হোটেলের নাম ছিল “নিরিবিলি”। ১৯৭৮ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান টেকনাফ সফরে আসলে এজাহার মিয়া’র হোটেলে আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। সে সুবাধে পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের সাথে এজাহার মিয়ার ঘনিষ্টতা বেড়ে ওঠে। এ ঘনিষ্টতার কারণে এজাহার কোম্পানি বিএনপি’র রাজনীতির সাথে যুক্ত হন এবং এজাহার মিয়ার হাত ধরে টেকনাফে বিএনপি’র সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়। এজাহার মিয়া ছিলেন টেকনাফ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

টেকনাফ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও তৎকালীন শীর্ষ চোরাচালানকারী এজাহার মিয়ার সুযোগ্য পুত্রই হলো দেশের ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত ব্যক্তি আবদুর রহমান বদি। দেশব্যাপী তার ব্যাপক পরিচিতি এসেছে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী ও চোরাচালানকারী হিসেবে। পিতার হাত ধরে পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতিতে তার আগমন এবং রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি। এই বদি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে হেরে যান। পরে তাকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়া হলেও তা ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তিনি বিএনপির মনোনয়নে টেকনাফ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়।

তার কয়েক বছর পর রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে গিরগিটির মত রং পাল্টিয়ে যোগ দেন আওয়ামীলীগে। যোগদান করে মনোনয়ন বাগিয়ে নেন। দেশের শীর্ষ এই মাদক ব্যবসায়ী বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের সাংসদ। অপরাধ, অরাজকতা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও বিএনপি – জামায়াত প্রীতির কারণে তিনি ব্যাপকভাবে বিতর্কিত।

বিজ্ঞজনের ধারণা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভবনা না থাকায় রাজনীতি ও ইয়াবা ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য বদি আশ্রয় নিয়েছেন নানা অপকৌশলের।

অপকৌশলগুলো হ’লঃ-

১। বদি তার নির্বাচনী এলাকায় প্রচুর রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের সুযোগ করে দিয়েছেন, যারা নির্বাচনের সময় বদির ভোট ব্যাংক হিসেবে কাজ করবে।

২। সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে উখিয়া-টেকনাফের ১১টি ইউনিয়নের ৭টি ইউপিতে তার প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থীদের পরাজয় নিশ্চিত করেছেন এবং তার আস্তাভাজন লোক যারা বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি ও ইয়াবা ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত তাদের নির্বাচিত করে এনেছেন।

৩। বিপুল অঙ্কের কালো টাকা মায়ানমার, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন ব্যাংকে পাচার করেছেন।

৪। মায়ানমারসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সাথে বদির গোপন সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে বদি বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দেশে প্রবেশ করিয়েছেন।

৫। আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে নিজস্ব ভোট ব্যাংকের মাধ্যমে জয়লাভের চেষ্টা করবে।

অভিজ্ঞজনের ধারনা বদিকে এখনই দলের পদ থেকে বহিস্কার করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবী।