| |

Ad

সর্বশেষঃ

এবারের ঈদে বকশিসের নামে কোন চাঁদাবাজি নেই ———– ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া

আপডেটঃ ২:১০ পূর্বাহ্ণ | জুন ১৪, ২০১৮

এস.এম.মনির হোসেন জীবন ॥ আসন্ন ঈদুল ফিরতে এবারের ঈদে বকশিসের নামে নীরব কোন চাঁদাবাজি নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।
তিনি জানান, রাজধানীর প্রতিটি বাস কাউন্টারে ভাড়ার তালিকা রয়েছে। নির্দিষ্ট হারের চেয়ে বেশি ভাড়া যাতে কেউ নিতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি রয়েছে। সেজন্য আমি প্রতিটি কাউন্টার পরিদর্শন করেছি। নীরব চাঁদাবাজি জিরো-নিল।
ডিএমপি কমিশনার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঢাকা মহানগরীতে যদি আমরা থাকি, তবে কোনও চাঁদাবাজ থাতে পারবে না। আর চাঁদাবাজ যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবেই। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর সায়েদাবাদে বাস কাউন্টার পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের এ সব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রতিটি কাউন্টারে ভাড়ার তালিকা রয়েছে। এখানে বাস মালিক সমিতির লোক আছে, বিভিন্ন নেতাসহ আমাদের পুলিশ সদস্যরাও রয়েছেন। কেউ যাতে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারের বেশি ভাড়া নিতে না পারে, সেজন্য মোবাইল কোর্ট রয়েছে। আমি নিজে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা পরিষ্কার বলেছেন— কাউন্টারে নির্দিষ্ট হারের বেশি ভাড়া নিচ্ছে না।
ঈদের ছুটি প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ঈদের ছুটি হবে, এসময় আমরা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে যে পাহারা দিতে পারবো, এটি সম্ভব নয়। তবে আমরা সবাইকে অনুরোধ করে বলেছি আপনারা নিজেদের বাসস্থান, প্রতিষ্ঠানে মিনিমাম সিকিউরিটি ব্যবস্থা রেখে যাবেন।
আমরা প্রতিটি এলাকায় শপিং মলের ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সামনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ মোতায়েন করবো। এছাড়া, বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের টহল টিম থাকবে। প্রতিটি মহল্লায় পুলিশের কয়েক স্তরে তল্লাশি চৌকি থাকবে। প্রতিটি এলাকা সিসিটিভির আওতায় রাখা হবে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, গত ঈদ-উল-আজহায় কোনও এলাকায়, শপিং মলে, স্বর্ণের দোকানে চুরি ও ডাকাতি বা লুটের ঘটনা ঘটেনি। ওই সময় আমাদের নিরাপত্তা জোরদার ছিল। এবারও আমরা সর্বশক্তি প্রয়োগ করে জনমানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর থাকবো। আমরা প্রতিটি এলাকা ও পাড়া-মহল্লার সিকিউরিটি গার্ডদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করবো।
মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিহা ও যুদ্ধ চলছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের যে অভিযান চলছে, বলবো সেটি আমাদের জিহাদ বা যুদ্ধ। ইতোমধ্যে রাজধানীর শত শত মাদক স্পট আমরা ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছি। মাদকের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে, তাদের কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরো বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষেরা যাতে নির্বিঘ্নে যেতে পারেন, সেজন্য রাজধানীর সব প্রবেশ এবং বাহির পথগুলো যানজট মুক্ত রাখতে পুলিশ কাজ করছে। বিভিন্ন বাস কাউন্টার, ল ঘাট ও রেলওয়ে স্টেশনে যাতে কোনও যাত্রী হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার না হন, সেজন্য পর্যাপ্ত পুলিশের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতও রয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন,ইতোমধ্যে অজ্ঞান পার্টির একটি বড় চক্রকে আমরা গ্রেফতার করেছি, বিভিন্ন প্রতারক চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে, জালটাকার চক্রও ধরেছি। তারা যাতে সক্রিয় হতে না পারে, সে জন্য আমরা তৎপর রয়েছি।
এর আগে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সায়েদাবাদ বাস স্ট্যান্ডের কয়েকটি কাউন্টার পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন বাসে উঠে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন।