| |

Ad

কাম টু দ্যা পয়েন্ট- প্রশ্নটা থেকেই গেল বিবেকের কাছে

আপডেটঃ ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ১৩, ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার- চ্যানেল সেভেন – প্রিয় পাঠক, আজকের লেখার শিরোনামটা একটু হ-য-ব-র-ল মনে হবে হয়তো । তারপরও কষ্ট করে পুরো লেখাটা যদি পড়েন, তাহলে হয়তো শিরোনামের জড়তা টেকে যাবে। কিছু দিন আগে আমার একটি লেখাতে মাদকের ভয়াল থাবা ও আধিপত্তের বিস্তার বৃদ্ধির উপর বিষদ আলোচনা করেছি। আজকে সেই দিকে যাবো না। তবে পুর্বের লেখার পরিসংহার হিসেবে আজকের লেখার ইতি টানবো। সঙ্গত কারণেই পুর্বের কিছু কথা চলে আসে, নয়তো পাঠক মহলের বুঝতে অসুবিধা হতে পারে।

আমার পুর্বের লেখার মূল বিষয় ছিল একজন মাদক সেবনকারি যতটা অকল্যাণ ভয়ে আনে পরিবার ও সমাজের, তারচেয়ে বহুগুন বেশি অকল্যাণ ছড়ায় একজন মাদক ব্যবসায়ি। সেবনকারি ও ব্যবসায়িদের দ্বারা যদি নীতি-নৈতিকতা নির্বাসন হয়, দেশের বিরাজমান শান্তি নষ্ট হতে থাকে। তাহলে যারা তাদের লালনকারী, মদতদাতা, ও সুবিধাভোগী তাদের কারণে দেশ ও জাতির কল্যান তো হবেই না, বরং দেশ হবে ও জাতির গোরস্থান।

আজকে যারা দেশের আইন শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে রয়েছেন, তারা যদি আইনের সঠিক প্রয়োগ না করেন, তারা প্রাপ্ত ক্ষমতার জন্য অতীতে বিনিয়োগকৃত অর্থের ঘাটতি পুরণ ও লালিত স্বপ্নের বিত্ত বৈববের লক্ষ্য পুরণে নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে জাতির কাছে করা শপথ ভুলে গিয়ে জাতির গোরস্থান তৈরিতে শামিল হন, তাহলে এ জাতিকে ধংস করতে দ্বিতীয় কোন শত্রুর প্রয়োজন হবে না।

বর্তমানে যেভাবে সারা দেশে ছেয়ে আছে মরণ নেশা ইয়াবা, এটা যতটা ক্ষতি করছে সেবনকারিকে তার চেয়ে দশগুণ ক্ষতি করছে জাতিকে। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই জাতি হবে মেধা শূন্য, আর একটি মেধা শূন্য জাতির অন্যতম বৈশিষ্ট হচ্ছে মানুষের প্রতি মানুষের যে মনুষত্ববোধ তা হারিয়ে যাওয়া।

১০ অক্টোবর, ২০১৮ সাল মাত্র ১ঘন্টা সময়ে ব্যবধান টঙ্গীর নতুন বাজার ও আরিচপুর ঘটে যাওয়া দুটি সহিংস ঘটনা তারই পুর্বাবাস বলে ধারণা করছে অভিজ্ঞ জনেরা। কাছা কাছি সময়ে দুটি ঘটনার মূলে হচ্ছে মরণ নেশা ইয়াবা। প্রথম ঘটনাটি নতুন বাজারস্থ ক্যো-অপারেটিভ ব্যাংক মাঠ বস্তির মাদক ব্যবসায়ির পরিবারে জন্য বাধা সৃষ্টিকারি পুলিশের সহযোগী (সোর্স) হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখা। সোর্স সাগরকে কুপিয়েছে মাদক ব্যবসায়ি পিচ্ছি বাদল। প্রশ্ন হচ্ছে সাগর কার সহযোগী ? কাউকে সহযোগীতা করার অপরাধে যদি জীবন দিতে হয়, তাহলে যাদের সহযোগিতা করেছে তাদের অবস্থা কি হতে পারে।

এমন প্রশ্ন আসাটা মোটেও অস্বাভাবিক নয়। এর উত্তরটা আমাদের সবারই জানা, কিছুই হবে না। কারণ পানি উচু’র দিকে গড়ায় না। সাগরদের মতো মাদক সেবিকে কিছু লগু অপরাধের কারণে সাজানো মামলায় চালান দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা। তার পর সামান্য কিছু অর্থের লোভ দেখিয়ে বা উদ্ধাকৃত মাদক থেকে সেবনের জন্য যৎ সামান্য দিয়ে যারা তাদের ব্যবহার করে ফায়দা লুটতেছে তাদের কি কোন বিচারিক আদালত আছে ?

যদি থাকে কই ইতিহাসের পাতায় ১টি উদাহরণ কি কেউ দিতে পারবেন। সোর্স ব্যবহারের জন্য কারো সাজা হয়েছে ? কিন্তু সোর্স হয়ে পুলিশ তথা আইন শৃংখলা বাহিনী সহযোগীতা করার জন্য প্রাণ দিতে হয়েছে এদের সংখ্যা গুণে শেষ করা যাবে না।

দ্বিতীয় ঘটনাটি প্রথমটি ঠিক ঘন্টার কাটার এমাথা হতে ওমাথায়। আধা কিলোমিটার দূরত্বে আচিরপুর এলাকায় হতদরিদ্র ঘরের স্কুল পড়–য়া মোঃ শামিম ওরফে রুটি শামিম ওরফে পিচ্ছি শামিম (১৭)। বয়সের তুলনায় এই ছেলেটি এখনও মাদকের ভয়াবহতা পুরোপুরি বুঝার কথা না। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে বখে যাওয়া ছেলেটি কি এমন বড় অপরাধ করেছে যে আজ তাকে মৃত্যুসাথে পাঞ্জা লড়তে হচ্ছে।

আমরা যদি একটু গভীরে প্রবেশ করি, তাহলে অদৃশ্য অনেক কিছুর সন্ধান পাবো। কে বা কারা এই কিশোর ছেলেটিকে দিয়ে অপরাধের কার্যসিদ্ধির ফাদা লুটেছে। তাদের বিচারিক আদালত কোনটা ? প্রশ্নটা থেকে গেল বিবেকের কাছে।

লেখার এই খানে একটি বিষয় না বললে আজকের লেখার একটি বিরাট তথ্যগত ত্রুটি থেকে যাবে। যা থেকে বি ত হবে পাঠক মহল। যেই রাতে পুলিশের সহযোগী (র্সোস) সাগর গুরুত্বও জখমী হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তার পরের দিন সকাল বেলার একটি দৃশ্য যে কোন বিবেকবান মানুষকে হতাশ করবে। যে মাদক ব্যবসায়িকে ধরতে সাগর পুলিশকে সহযোগিতা করতে মৃত্যুপথযাত্রী, সেই মাদক ব্যবসায়ি পরিবারের প্রধান অর্থাৎ পিচ্ছি বাদলের পিতা মাদকের স¤্রাট নজরুল খোদ থানার বারান্দায় পায়চারি করছে।

তখন টঙ্গী থানা কি পুলিশ শূন্য ছিল ? এমন প্রশ্ন করাটা খুবই স্বাভাবিক নয় কি প্রিয় পাঠক ? এবারও প্রশ্নটা থেকে গেল বিবেকের কাছে ।

স্থানীয় একজন সংবাদ কর্মী টঙ্গী পুর্ব থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ কামাল হোসেন কে দুটি ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি যে উত্তর দিয়েছেন। তা আজকের লেখায় উল্লেখ্য করা হলে সাধারণ মানুষের এখনো আইনের প্রতি যে শ্রদ্ধা টুকু রয়েছে তা ম্লান হয়ে যাবে।

তাই লেখার শেষ দিকে এসে ছোট্ট দুটি ঘটনার আলোকে বলতে হয়, যাদেরকে সরকার জাতিকে নিরাপদ রাখার পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তারা যদি নিজেদের সংবরণ করতে না পারে, তাদের লোভাতুর আশায় দেশের বারোটা বাজতে বেশি বাকি নেই।
সবশেষ কথা হচ্ছেÑ বাংলাদেশে মেধাবী সৎ, নীতিবান ভালো মানুষের অভাব নেই। যদি ভালো মানুষের চেয়ে খারাপ মানুষ বেশী হত, তাহলে ঘরবাড়ির চেয়ে জেলখানা বেশী থাকত। আসল কথা হচ্ছেÑ অল্প কিছু খারাপ মানুষের দাপটে ভালো মানুষেরা নিশ্চুপ। এছাড়াও যারা ভালো মানুষ সেজে বসে আছে। তারাও আসলে ভাল মানুষ নয়- ভালো মানুষের মত অভিনয় করা খারাপ মানুষের দল। এদের ভয়ে বসে থাকলে চলবে না।

প্রিয় পাঠক, মনে করছেন আপনি একা, কিন্তু সবাই মিলে একা নই। সাহস করে এগিয়ে আসুন সঙ্গী পাবেন অনেককেই। এখনই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে মাদকের বিরুদ্ধে। আর যারা ভালো মানুষের মুখোশ পড়ে জাতিকে ধংসের দিকে ঠেলে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে তাদের চিহ্নিত করতে হবে। দেশের বর্তমান অবস্থা কোন সভ্য-গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহনযোগ্য হতে পারে? দেশের স্বার্থে, জনগণের মঙ্গলে, মানবতার স্বার্থে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন বজায় রাখার জন্য কোনটি উচিৎ আর কোনটি অনুচিৎ-এ সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব কার? এ কথা ভাববার সময় কিন্তু এখনই।

এখানে স্বাধীনভাবে কেউ ভাল মানুষ খুঁজতে চায় না। সবাই গা ভাসিয়ে সবার সাথে তালে তাল মিলিয়ে চলে। এ ভাবেই আর কত দিন ? আবারও প্রশ্নটা থেকে গেল বিবেকের কাছে।

বাংলাদেশের আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব পালনকারি পুলিশ প্রশাসনের প্রতি বিনীত অনুরোধ, একজন অপরাধীকে তার প্রাপ্য শাস্তির আওতায় এনে প্রচলিত আইনকে সমুন্নত রাখুন। অপরাধীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাকে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করবেন না। একটা নেশাগ্রস্থ তরুণ কে নেশাখোর হিসেবে না ভেবে, একটা মানুষ হিসেবে ভাবুন।

তাকে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে সংশোধনে সহায়তা করুন। চিন্তা করুন একজন অভিবাবকের স্থানে দাঁড়িয়ে, এই নেশাখোর গুলো হয়তো কোন কারণে জীবনের আনন্দ ভুলে গেছে। হাসি কান্না টের পায় না। বুঝে শুধু নেশা। নেশার জন্য তারা অনেক কিছু করতে পারে। তবে এই নেশাখোর তরুণ গুলোকে প্রচলিত আইনের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে যদি সঠিক পথে এনে একবার নিজেকে ভালোবাসতে শিখানো যায়, ওদের দমাবার কারো সাহস নাই।

আমাদের ভালোবাসার মাধ্যমে ওরা ছাই থেকে জ্বলে উঠতে পারে। মাদকাসক্ত তরুণদের চেয়ে ক্ষতিকারক হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী। তারচেয়ে ভয়াবহ জাতির শত্রু হচ্ছে তাদের প্রতিপালকেরা। তাই সরকারের জিরো টলারেন্স কার্যক্রমকে আরও তরানিত্ব করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ কমাতে দেশে মরণ নেশা ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকের ব্যবহার ও ব্যবসা বন্ধ করতে আপনার ভূমিকা কি প্রশ্নটা থেকেই গেল বিবেকের কাছে।

মো. রফিকুল ইসলাম
সাংবাকিদ ও কলামিস্ট
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সাপ্তাহি সাইক্লোন।