| |

Ad

সারাদেশে বর্ষণ – বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সঙ্কেত –

আপডেটঃ ১২:১৩ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৩, ২০১৮

  

বিশেষ সংবাদদাতা, চট্টগ্রাম:   তিতলি পশ্চিমবঙ্গে দুর্বল-  ভারতের উড়িষ্যা হয়ে  ‘তিতলি’ গভীর নিম্নচাপ ও এরপর গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে দুর্বল নিম্নচাপের আকারে আরও উত্তর-পূর্বে স্থলভাগের দিকে সরে যাচ্ছে। তিতলির বর্ধিত প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে গতকালও (শুক্রবার)। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দুয়েকটি জেলা ছাড়া দেশের প্রতিটি জেলায় ঘনঘোর মেঘের সাথে বৃষ্টিপাত হয়েছে। সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় হাতিয়ায় ১০৫ মিলিমিটার। 
এ সময় ঢাকায় ২৪ মিমি, চট্টগ্রামে ৭৭ মিমি, রাঙ্গামাটিতে ৭৩ মিমি, সিলেটে ২৮ মিমি, রাজশাহীতে ১৬ মিমি, রংপুরে ২৫ মিমি, খুলনায় ১, যশোরে ১৩, পটুয়াখালীতে ২৯ মিমিসহ সর্বত্র হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হয়েছে। মেঘ-বাদলের ফলে সারাদেশে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৮ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ও নিচে নেমে গেছে। ঢাকার তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ২৬.২ এবং সর্বনিম্ন ২৩.৭ ডিগ্রি সে.। অগামীকাল রোববার থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাসের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। 
উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য, গভীর সঞ্চালশীল মেঘমালা ও সমুদ্র অশান্ত থাকায় চারটি বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সঙ্কেত দেখানো হচ্ছে। 
আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া বিভাগ জানায়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর বিভাগরে কিছু কিছ জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। আগামী ২ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। এর পরের ৫ দিনে আবহাওয়ায় কিছুটা পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। 
সর্বশেষ গতকাল সন্ধ্যায় বিশেষ বুলেটিনে আবহাওয়াবিদ মোঃ ওমর ফারুক জানান, ভারতের উড়িষ্যা এবং এর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও আরো দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় উড়িষ্যা-গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। 
দুর্বল হয়ে পড়তে থাকা নিম্নচাপটির প্রভাবে বাংলাদেশ সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। 
উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সমুদ্রে না গিয়ে সকল মাছ শিকারী ট্রলার নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। 
জোয়ারে ডুবেছে আগ্রাবাদ চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী চার দিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৬ট পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তর। ধুলোবালির জঞ্জালমুক্ত নগর-জনপদে মানুষ এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছেন। মৌসুমী রোগ-ব্যাধির প্রকোপ কমে গেছে। 
ঘূর্ণিঝড় তিতলি ভারতের দিকে কেটে গেলেও তার বর্ধিত প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। হিমেল দমকা হাওয়াসহ বর্ষণের সাথে প্রবল জোয়ারে ডুবে গেছে নগরীর আগ্রবাদ, হালিশহর, কাট্টলী, সাগরিকা, পতেঙ্গা, বাকলিয়া, চকবাজার, চান্দগাঁও, মোহরাসহ বিভিন্ন এলাকা। 
টানা চতুর্থ দিনের বৃষ্টিপাত ও বিকেলের জোয়ারে আগ্রাবাদ সিডিএ, বেপারী পাড়া, হালিশহর, পোর্ট কানেকটিং রোড হাঁটু পানিতে ডুবে যায়। অগণিত এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগের মধ্যেই চলাফেরা করতে হয়। গণপরিবহনের সঙ্কটে ছুটির দিনে দূর পাল্লা ও বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীদের কষ্ট পোহাতে হয়। নগরীর নিম্নাঞ্চলসমূহে বসতঘর, দোকানপাট, গুদাম পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে বিভিন্ন মালামাল। 
গতকাল দুপুরের পর বর্ষণ স্তিমিত হয়ে আসে। তবে চট্টগ্রামসহ উপক‚লীয় অঞ্চলের আকাশ বর্ষাকালের মতো ঘনঘোর কালো মেঘে ঢাকা রয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, আজও (শনিবার) চট্টগ্রাম বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। 
সমুদ্র উত্তাল থাকায় ট্রলার নৌযানে মাছ ধরা এখনও বন্ধ রয়েছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে মাছের মোকাম ও বাজারগুলোতেও গত ৪ দিন ধরে সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সাগর শান্ত হয়ে এলে ফিশারি ঘাটগুলোতে অলস বসে থাকা শত শত ট্রলার নৌযান নিয়ে জেলেরা ছুটবেন গভীর সমুদ্রের দিকে।