শুক্রবার ১৯শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ৬ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সামনে নির্বাচন-আমার জন্য দোয়া করবেন -প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আপডেটঃ ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ০৫, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক-: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধর্মীয় শিক্ষা সংযুক্ত করা হলেই একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ হয়। আর এ জন্যই সংসদে আইন পাস করে কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এসময় তিনি কওমী মাদ্রাসার আলেমদের কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, ‘সামনে নির্বাচন, আমার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন চাইলে আবারও জনগণের খেদমত করতে পারবো। আর যদি না চান…আমি পুরোটাই আল্লাহর ওপরই ছেড়ে দিয়েছি।’ রবিবার ( ৪ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা ‘হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমি বাংলাদেশ’ আয়োজিত শোকরানা মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমেই পূর্ণতা পায়। আমরা এই কওমি শিক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়েছি। পাশাপাশি সংসদের মাধ্যমে আইন পাস করেছি। যাতে পরবর্তী সময় কেউ এ স্বীকৃতি খর্ব করতে না পারে।’ কওমি শিক্ষার স্বীকৃতির বিষয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা অসহায় এতিমদের জায়গা দেন। তাদের থাকাখাওয়ার ব্যবস্থা করেন। যাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই, আপনারা তাদের জন্য শেষ ঠিকানা। এত কিছুর পর আপনাদের স্বীকৃতি থাকবে না তা তো হয় না।’
কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তরের (ইসলামিক শিক্ষা ও আরবি) স্বীকৃতি দিয়ে আইন পাস করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীকে ‘কওমি জননী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংবর্ধনা আমার জন্য না, এটা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করা দরকার যে আমি কওমি সনদটা দিতে পেরেছি।’
তিনি বলেন,‘যারা দীন ইসলামের খেদমত করছেন তাদের মধ্যে উপস্থিত হতে পারাটা সৌভাগ্যের বিষয়। আমাকে যখন আল্লামা শফী সাহেব বললেন যে এই বিল আমরা পার্লামেন্টে পাস করেছি, তিনি একটি সংবর্ধনার আয়োজন করবেন। তখন আমি বললাম, সংবর্ধনা আমার জন্য, বরং এটা হবে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করার। ’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসার মধ্য দিয়ে মুসলমানরা শিক্ষাগ্রহণ শুরু করেছিলেন। মাদ্রাসা করেছিলেন কারা? ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন যারা।’ এসময় উপস্থিত হুজুররা ঠিক ঠিক বলে হাততালি দিয়ে ওঠেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে মাথা নত করি না। আমি যে বারবার গ্রেনেড হামলা, গুলি থেকে বেঁচে যাই, মনে হয় এটা আল্লাহরই ইচ্ছা। আপনাদের স্বীকৃতি দেবো না এটা কখনো হতে পারে না। আপনারা সকলে এমনভাবে কাজ করবেন, যাতে মাদ্রাসা থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে তারা যাতে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করে যেতে পারে।  আমরা চাই দেশ এগিয়ে যাবে, এজন্য আমি একটি আরবি ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় করে দিতে চাই। এজন্য জায়গাও ঠিক করে রেখেছি।’
যারা সত্যিকার ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী তারা কখনো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ বিশ্বাসী হতে পারে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম নিয়ে যারা অপপ্রচার করবে তাদের ‍উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মের অপব্যখ্যাকারী ও অপপ্রচারকারীদের বিচার করা হবে।’
মাহফিলে সারাদেশ থেকে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র ও আলেমরা উপস্থিত হন। সকাল ৯টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মাহফিলটি শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী সকাল পৌনে ১১টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। মঞ্চে আসন গ্রহণ করার আগে কওমি নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। শোকরানা মাহফিলে সভাপতিত্ব করছেন আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফী।
অনুষ্ঠানমঞ্চে কওমি আলেম ওলামাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের (তাকমীল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান আইন, ২০১৮ পাস হয়।