বৃহস্পতিবার ১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

চৌগাছায় ড্রাগন চাষে মডেল হয়ে দাড়িয়েছে পাতিবিলার তরিকুল ইসলাম

আপডেটঃ ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ২৪, ২০১৮

আব্দুল আলীম, চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধিঃ চৌগাছার পাতিবিলা গ্রামের আয়ুব হোসেনের মাস্টার্স পাশ ছেলে তরিকুল এখন ড্রাগন চাষীদের মডেল হয়ে দাড়িয়েছে ।
 
গিয়েছিলাম সোমবার (১৯ নভেম্বর) সকালে পাতিবিলা গ্রামে ড্রাগন চাষী তরিকুল ইসলামের খোঁজে । মোবাইলে কথা হলো এবং দেখা হলো তার ড্রাগন বাগানে বেলা ১২ টার দিকে । ড্রাগন চাষী তরিকুল ইসলামের কাছে তার লেখাপড়ার যোগ্যতা এবং চাষী হবার ইতিহাস জিজ্ঞাসা করলাম । জবাবে তরিকুল ইসলাম একে একে জীবনের গল্প খুলে বললো ।
 
 তরিকুল ইসলাম বলেন আমি এসএসসি ১৯৯৩ সালে এবং এইচএসসি ১৯৯৫ সালে পাশের পর ঢাকা জগন্নাথে লেখাপড়া শুরু করে সেখান থেকে ২০০৫ সালে মাস্টার্স শেষ করি । এরপর খুব দৌড়াদৌড়ি করেও কোন চাকুরী যোগাড় করতে পারিনি । পড়ে গেলাম বেকার জীবনের অভিশপ্ত ছোবলে । অনেক দিশেহারা হয়ে পড়ি । অনেকের দেখাদেখি এক সময় পাতিবিলা বাজারে ঔষধের দোকান দিয়ে গ্রামে পল্লী চিকিৎসার পেশাকে হাতে নিয়ে জীবনকে নতুন করে শুরু করি । কিন্তু এতে ভালোভাবে চলা কষ্ট হয়ে যায় । চিন্তায় থাকি অন্য কিছু করার । আমি নিয়মিত বিটিভির মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানটি দেখতাম আর কিভাবে অন্য কোনো পন্থায় নিজের জীবনে সফলতা আনা যায় তা চিন্তা করতাম । একদিন অনুষ্ঠানে দেখলাম বাউকুল চাষী সাক্ষাতকার । জানতে পারলাম বাউকুলে নাকি অনেক বড় হওয়া যায় । মনে মনে অনেক জল্পনা কল্পনা করে স্বপ্ন দেখতে লাগলাম বাউকুল লাগিয়ে জীবনে সফলতা আনার । 
 
শুরু করলাম ৭ বিঘা জমিতে আমার জীবনে প্রথম বাউকুলের চাষ । শুরু হলো গ্রামে সকলের হাসি তামাশা  সকলেই আমাকে নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করতে থাকে । কিন্তু থেমে থাকেনি আমি । নিজেকে কখনো দূর্বল হতে দেইনি । নিজের প্রতি ও আমার কর্মের প্রতি বিশ্বাসই আমাকে এতদুর পৌছে দিয়েছে । প্রথম বাউকুলের চাষ করে বেশ কিছু টাকা আয় করে ছিলাম । 
এরপর বিটিভিতে দেখলাম ড্রাগন চাষীর সাক্ষাতকার । ড্রাগনের অনেক দাম । মাথায় ধরলো ড্রাগন চাষের । কুলের চাষ বাদ দিয়ে গত আয়ের টাকায় শুরু করলাম ড্রাগনের চাষ । ২০১৬ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর প্রথমে প্রায় তিন বিঘা জমিতে ৫০০ পিলারে ড্রাগনের চারা লাগালাম । গাছ বড় হতে সময় লাগবে বলে এর মাঝে পেয়ারা গাছ রোপন করলাম । ড্রাগন গাছ বড় না হওয়া পর্যন্ত যখন বাগান ফাকা দেখা যাচ্ছিলো তখন তো মনে হবে যে সবই হইতো লোকসান হবে । আর এই জন্যই ড্রাগন লাগাবার পরে গ্রামের লোকেরা আমাকে অতি মাত্রায় ঠাট্টা করে । বলতে থাকে মাস্টার্স পাশ করে বাড়ি থেকে পাগল হয়ে গেছে । এই জন্য কাজ না করে, চাকুরী না করে হক লাহাক কাজ করছে । কিন্তু প্রায় দুই বছর পরে দুই লক্ষ টাকার পেয়ারা সহ দশ লক্ষ টাকার ড্রাগন বিক্রয় করেছি । তবে আশা আছে আগামী বছর ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার বিক্রয় করতে পারবো । এখন সকলেই আমাকে সোনার দেশের সোনার ছেলে ভাবে । আমাকে দেখে আমার পাশে দুই জন চাষী তিন বিঘা করে ড্রাগন চাষ শুরু করেছে । সকলেই আমার কাছ থেকে এখন সাজেশন নেই । আমি এখন আমার ইচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে সফল হতে পেরে জীবনে খুবই খুশি এবং আমি বর্তমানে একজন সুখী মানুষ ।
 
খরচের কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন ৫০০ পিলার দেড় লক্ষ টাকা এবং প্রতিটি চারা ৪০ টাকা হারে ২০০০ টি চারা ও আনুষঙ্গিক সহ মোট ৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে । তবে এখন চারার দাম কম । ড্রাগন চাষে চাষীর লোকসান যাবে না । ধৈর্য ধরলেই লাভের মুখ দেখবেই ইনশাল্লাহ । তবে তিনি বেকার দের উদ্দ্যেশ্যে বলেন যে প্রত্যেক বেকার ছেলেই যদি ইচ্ছা করে যে কোন কাজে মনের শক্তি নিয়ে এগিয়ে গেলে সফল হবেই । বেকারত্বের গেলানী তাকে আর বইতে হবে । সমাজে সেই হবে সাধারণের গৌরব ।