সোমবার ২২শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ৯ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সবুজ স্টিকার হলে রেস্টুরেন্টের মান ভালো-কমলা হলে অনিরাপদ

আপডেটঃ ১:৪২ পূর্বাহ্ণ | জানুয়ারি ২১, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক -: রেস্টুরেন্টে সবুজ স্টিকার দেখলে বুঝতে হবে, এখানকার মান এ+ (এ-প্লাস) অর্থাৎ উত্তম। রেস্টুরেন্টের মান খারাপ হলে থাকবে কমলা রঙের স্টিকার। এই স্টিকার দেখলে বুঝতে হবে, এটি অনিরাপদ।

কমলা স্টিকারযুক্তরা ১ মাসের মধ্যে রেস্টুরেন্টের মান ভালো না করলে বাতিল হবে তাদের লাইসেন্স। ভোক্তা ও ভোজনরসিকদের স্বার্থে এ প্লাস, এ, বি, সি- এই চার ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ঢাকা মহানগরীর সব হোটেল ও রেস্তোরাঁকে।রোববার রাজধানীর পল্টনের ফারস হোটেলে এই গ্রেডিং পদ্ধতি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

গ্রেডিং সিস্টেমের আওতায় খাবারের মান, বিশুদ্ধতা, পরিবেশ, ডেকোরেশন, মনিটরে রান্না ঘরের পরিবেশ দেখা যাওয়ার ব্যবস্থা ও ওয়েটারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ভিত্তিতে রেস্তরাঁগুলোতে চার ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করা হবে। এসব বিচারে ৯০ নম্বরের বেশি স্কোর হলে সবুজ বর্ণের স্টিকার এ প্লাস, স্কোর ৮০ এর বেশি হলে নীল বর্ণের স্টিকার বা এ, ৫৫ থেকে ৭৯ পর্যন্ত স্কোর হলে হলুদ বর্ণের বি এবং ৪৫ থেকে ৫৫ স্কোর হলে কমলা বর্ণের সি ক্যাটাগরির স্টিকার থাকবে।এ প্লাস এর মানে হচ্ছে- রেস্টুরেন্টটি উত্তম, এ মানে ভালো, বি মানে গড়পড়তা ভালো এবং সি মানে গ্রেড পেন্ডিং।

যারা খাবার খেতে যাবেন- তারা রেস্টুরেন্টে প্রবেশের সময় স্টিকার দেখেই জেনে নিতে পারবেন, এখানকার ভেতরের পরিবেশ পরিস্থিতি কেমন, কিচেনের অভ্যন্তরের কী ধরনের দূষণ বা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার রয়েছে।

সবুজ রং আর নীল স্টিকারযুক্ত রেস্টুরেন্টের মান নিয়ে ক্রেতাদের কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না। কিন্তু হলুদ স্টিকারধারী রেস্টুরেন্টকে আপাতত ৩ মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে তাদের মান ও গ্রেড উন্নীত করার জন্য। একইভাবে কমলা বর্ণের স্টিকারধারী রেস্টুরেন্টকে গ্রেডিং বাড়ানোর জন্য এক মাস সময় বেঁধে দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা না হলে, লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

২০১৮ সালের এপ্রিলের ২ তারিখ কস্তুরি হোটেলে স্টিকার লাগিয়ে এই কার্যক্রমের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে রাজধানীর মতিঝিল, দিলকুশা, পল্টন ও সচিবালয় এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে এসব এলাকার মোট ১৮টি এ প্লাস এবং ৩৯টি এ গ্রেডের স্টিকার দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, অনেকে এসএসসি-এইচএসসিতে এ প্লাস পেয়ে থাকে। কিন্তু তারা কি সেটা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে? ছোটকালে কেউ চিন্তা করে ডাক্তার হবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু বড় হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে যায়। তেমনই আপনাদের যারা এ প্লাস ও এ গ্রেড পেলেন, আমরা আশা করি, আপনারা সরকারের দেওয়া এই স্বীকৃতিটুকু ধরে রাখবেন। রেস্টুরেন্টের ভালো মান বজায় রাখতে হবে। মনে রাখবেন, আমরা একাত্তরে জীবন ত্যাগ করেছি, এখন যদি ব্যবসায়িক লোভ ত্যাগ না করতে পারি তাহলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা অনেকটাই কঠিন হবে।ভালো গ্রেডপ্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, আপনাদের এই স্বীকৃতি সরকারি। এই স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে আপনাদের ব্যবসা ও লাভ আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে যাবে। আশা করি, আপনারা সঠিকভাবে ব্যবসা করবেন।তিনি আরো বলেন, ভালো গ্রেডপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫ থেকে ১০ শতাংশ রেস্টুরেন্টের যে মান কমবে না, এটা কেউ গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারবে না। তাই আমি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত মনিটরিংয়ের অনুরোধ জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারমান মাহফুযুল হক, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব রেজাউল করিম সরকারসহ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।