সোমবার ২২শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ৯ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্তে সতর্কতা

আপডেটঃ ১১:৩১ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৯

টেকনাফ প্রতিনিধি : মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বন্ধে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার র্গাড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ায় বৌদ্ধ ও হিন্দুসহ বিভিন্ন জাতি ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যরা নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এজন্য এই বাড়তি সর্তকতা নেওয়া হয়েছে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, গত ৪ জানুয়ারি মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবসে রাখাইনে বৌদ্ধ বিদ্রোহীরা চারটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালায়। এ হামলায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ৭ সদস্য নিহত হন। এর পর সেখানে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে মিয়ানমার থেকে কয়েকটি রাখাইন পরিবার বান্দরবনের রুমা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চইখ্যং বমপাড়ায় প্রবেশ করে। অনুপ্রবেশকারী ৩৫ পরিবারের ১৬০ জনের একটি তালিকাও করা হয়েছে। এখন গ্রামবাসী চাঁদা তুলে তাদের খাবার জোগান দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম জানান, মিয়ানমারের নতুন কোনও নাগরিক যাতে ঢুকতে না পারে, সেজন্য সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। তিনি আরও জানান, গত ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে ভারত থেকে প্রায় একহাজার চারশ’ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে; যারা এখন উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে রয়েছে।

এদিকে, বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত ক্রিস্টিন এস বার্গনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান, মিয়ানমার থেকে যাতে আর কেউ অনুপ্রবেশ না করতে পারে, সেজন্য বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী মুসলমান রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে নির্বিচারে গণহত্যা ও নির্যাতন চালানোর কারণে দেশটি থেকে কমপক্ষে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে দেশটি থেকে আরও চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের সহযোগিতায় কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় তাদের জন্য শরণার্থী শিবির খোলা হয়েছে। তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। এ অবস্থায় মিয়ানমার থেকে নতুন করে আর কাউকে আশ্রয় দিতে আগ্রহী নয় সরকার।