| |

Ad

টঙ্গীতে সরকারী জায়গা জবর দখল ও গাছ কেটে মার্কেট বানিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা

আপডেটঃ ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯

এস,এম,মনির হোসেন জীবন ॥ সাদিয়া আফরিন শ্রাবন – [চ্যানেল সেভেন ] ॥ বিশ^ ইজতেমাকে সামনে রেখে গাজীপুর মহানগরী শিল্প নগরী টঙ্গী বাজরের হোন্ডা রোডে রাতারাতি সরকারী জায়গা জবর দখর করে এবং গাছ কেটে সাফাই করে রাস্তার পাশে অবৈধ মার্কেট এবং দোকানপাট বানিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু কতিপয় কিছু ব্যবসায়ীরা। গাজীপুর মহানগরী টঙ্গী পশ্চিম থানার টঙ্গী বাজরের হোন্ডা রোডে এ ঘটনা ঘটে।
 শুক্রবার সকালে সরজমিনে পরিদর্শন করে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরী টঙ্গী পশ্চিম থানার টঙ্গী বাজারস্থ হোন্ডা রোডে সেনা কল্যাণ মার্কেটের দক্ষিনপাশে রাস্তা সংলগ্ন সরকারী জায়গা জবরদখল করে এবং গাছ কর্তন করে গাজীপুর সিটি করপোরেশন এর ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ মো: গিয়াস উদ্দিন সরকারের সাময়িক ভাবে বরাদ্ধকৃত কাউন্সিলর অফিসের পাশে এ অবৈধ মার্কেট তৈরী করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মো: লিটন,তার সহযোগী মাসুদ মোল্লা ও সুজন গংরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় কাউন্সিলর আলহাজ মো: গিয়াস উদ্দিন সরকারের কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে হোন্ডো রোডে সরকারী রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত ও খালি জায়গায় গত ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কতিপয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মিলে গোপনে সিন্ডিকেট তৈরী করে রাতের অন্ধকারে তারা একটি বড় সেগুন গাছ ও জাম হাছ কেটে সেখানে রাতারাতি একটি টিনসেট মার্কেট তৈরী করেছে। যা আগে কথনও ছিলনা।

সুুত্রে জানা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র আলহাজ এডভোকেট মো: জাহাঙ্গীর আলমের বৈধ কোন অনুমতি ছাড়া স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কতিপয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা চলতি বছরের ৫৪তম বিশ^ ইজতেমাকে সামনে রেখে তারা এই অবৈধ মার্কেট তৈরী করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। টঙ্গী বাজারস্থ হোন্ডা রোডের উত্তর পাশে সারিবদ্ধ ভাবে গড়ে তুলা হয়েছে এসব অবৈধ দোকানপাট। সারি সারি ভাবে তৈরী করা হয়েছে নতুন এসকল দোকান। সেখানে কমপক্ষে ২০ থেকে ৪০টি অবৈধ দোকানপাট ইতি মধ্যে গড়ে তুলা হয়েছে। তার মধ্যে পাখির দোকান,পাখির খাদ্য বিক্রির দোকান সহ বিভিন্ন দোকান রয়েছে। নতুন ভাবে তৈরী করা বেশ কিছু দোকান এখনও ভাড়ার অপেক্ষায় রয়েছে। যে গুলো বিশ^ ইজতেমার সময় অন্য লোকদের কাছে ভাড়া দেওয়া হবে। লাখ লাখ টাকা খবর করে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা স্থানীয় প্রশাসন, মেয়র, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদেরকে কোন ধরনের তোয়াকা না করে বেআইনী ভাবে পেশিশক্তির বলে তারা এই মার্কেট তৈরী করেছেন বলে স্থানীয় এলাকাবাসিরা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে জানান, অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি মো: লিটন,মাসুদ মোল্লা ও সুজন গংরা মিলে এই অবৈধ মার্কেট তৈরী করেছেন। তার মধ্যে সুজন একজন পেশাদার পাখি ব্যবসায়ী বলে জানা যায়। তাদের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। আইনকে তারা কোন ধরনের তোয়াক্কা করেনা। যেন এসব সরকারী রাস্তার পাশের পরিত্যক্ত জমি গুলো তাদের বাপ দাদার বিষয় সম্পত্তি হয়ে গেছে। মার্কেট তৈরী করার সময় রাতের অন্ধকারে প্রভাবশালীরা পুরানো একটি সেগুন ও জাম গাছ তারা বেআইনি ভাবে কেটে জোর পূর্বক ভাবে নিয়ে গেছে।

এবিষয়ে জানতে অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি মো: লিটন ও মাসুদ মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আমরা স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ মো: গিয়াস উদ্দিন সরকারের লোকজন। তার টঙ্গী বাজারস্থ হোন্ডা রোডের অফিসটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের মধ্যে পড়েছে। সেটি অচিরেই ভাঙ্গা হবে। সে কারণে আমরা রাস্তার পাশে মার্কেট তৈরী করেছি। এতে কারো কিছু করার নেই।

প্রভাবশালী ব্যক্তি মো: লিটন জানান, আমরা সেখানে মার্কেট বানিয়েছি তার মধ্যে কাউন্সিলর আলহাজ মো: গিয়াস উদ্দিন সরকারের ও একটি অফিস ঘর রয়েছে। তার অফিসের পাশে আমরা কিছু দোকানপাট নির্মান করেছি।

মার্কেট তৈরী করার বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন এর নির্বাচিত মেয়র আলহাজ এডভোকেট মো: জাহাঙ্গীর আলমের বৈধ কোন অনুমতি কিংবা জমি বরাদ্ধেও কোন কাগজপত্র কিংবা পারমিশন আছে কিনা-? জানতে চাইলে অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি মো: লিটন ও মাসুদ মোল্লা তারা কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

এবিষয়ে জানতে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ মো: গিয়াস উদ্দিন সরকারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। সে কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এবিষয়ে জানতে গাজীপুর মহানগরী টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: এমদাদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে সে জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে, এবিষয়ে আমার কাছে কোন অভিযোগ আসলে আমি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এবিষয়ে জানতে গাজীপুর সিটি করপোরেশন এর নির্বাচিত মেয়র আলহাজ মো: জাহাঙ্গীর আলমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।টঙ্গী বাজার এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মানুষের দাবী- অচিরেই এই অবৈধ মার্কেট উচেছদ সহ আশপাশের অবৈধ স্থাপনা গুলো ৫৪তম বিশ^ ইজতেমা শুরুর আগেই ভেঙ্গে ফেলার জন্য বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্থানীয় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মো: জাহিদ অহসান রাসেল (এমপি), গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র আলহাজ মো: জাহাঙ্গীর আলম, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সহ সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি সময়ে টঙ্গী বাজার হোন্ডা রোড বাজার থেকে এলিট ফোর্স র‌্যাব-১ ও বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা পৃথক পৃথক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অসংখ্য বণ্যপ্রাণী উদ্বার করেছে। এঘটনায় বেশ কিছু পাখি ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে।