শনিবার ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ ইং ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

চিহ্নিত ইয়াবা সম্রাট থেকে এমপি বদি

আপডেটঃ ৩:২৭ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ১৬, ২০১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ৪ আসনের একাধিক বার নির্বাচিত এমপি আবদুর রহমান বদি। তিনি প্রকাশ্যে ইয়াবা ব্যবসা না করলেও পরিবারের সদস্যদের দিয়ে সারাদেশে এই মরণ নেশা ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এক সময় করতেন বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতি। তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য বর্তমানে বিএনপি ও জামায়াতের সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে। অবৈধ অর্থের প্রভাব সৃষ্টি করে রাতারাতি আওয়ামী লীগের নেতা বনে গিয়ে তিনি বর্তমানে এমপি।
সুত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখা দলটির কক্সবাজারÑ৪ (টেকনাফÑউখিয়া) আসনের এমপি হিসেবে আবদুর রহমান বদি একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী! তাঁর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা সন্ত্রাসী বাহিনী সীমান্তবর্তী মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে অবাধে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অস্ত্র, গোলাবারুদের পাশাপাশি মাদক আনে। যার নেতৃত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগের একাধিক বার নির্বাচিত এমপি আবদুর রহমান বদি ও তার নিজস্ব বাহিনী। এনিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে শতবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও ইয়াবা স¤্রাটখ্যাত এমপি বদির কিছুই হয়নি। মোটা অংকের কারনে তাঁর বিরুদ্ধে কোন প্রশাসন কিংবা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। কারণ যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বদির রয়েছে দহরম-মহরম সম্পর্ক। যার কারনে কয়েকবার বদির বাড়িতে হেলিকপ্টার যোগে ওবায়দুল কাদের এমপি এসেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে অবাক করেছে বদির সঙ্গে কাদেরের সখ্যেতার বিষয়টি। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
যেসব পত্রপত্রিকা বদির কর্মজীবনের প্রমান্য চিত্র নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছেন তিনি। এছাড়া স্থানীয় পুলিশ ও সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
২০১৩ সালে তাঁর হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আ.লীগের আস্তাভাজন নেতা বীর বাহাদুর এমপি। এ ঘটনায় কক্সবাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ প্রতিশোধ নিতে চাইলে বীর বাহাদুরের পায়ে মাথা রেখে ক্ষমা চেয়ে সে যাত্রায় বেঁচে যায় বদি।
নির্বাচনী হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন তিনি ব্যবসায়ী। অথচ স্থানীয়দের কাছে আবদুর রহমান বদি মানেই হলো মরণঘাতী ইয়াবার দক্ষ কারিগর ও ব্যবসায়ী। অথচ ভাগ্যদেবীর নিষ্ঠুরতায় কক্সবাজারের মানুষকে মেনে নিতে হচ্ছে তিনিই তাদের সংসদ সদস্য। তার বাবা এজাহার মিয়া এখন নামের পাশে যুক্ত হয়েছে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ এজাহার মিয়া। কিন্তু তিনি কোথায়, কখন, কার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তার কোনো প্রমাণ নেই। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা তালিকায়ও এজাহার মিয়ার নাম নেই। স্থানীয়দের দাবি, এজাহার মুক্তিযোদ্ধা নন। ব্যক্তিজীবনে বদির বাবা ছিলেন চতুর। তাই ব্যবসার পাশাপাশি ছিলেন টেকনাফ পৌরসভার মেয়র। পৌরসভার মেয়র থাকার সুবাদে তিনিও মিয়ানমারের সঙ্গে অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এজাহার মিয়া ছিলেন বিয়ে পাগল। এজন্য তিনি ৪টি বিয়ে করেছিলেন। বাবা এজাহার মিয়ার স্বভাব পেয়েছেন বদিও। কাগজপত্র অনুযায়ী এখন পর্যন্ত আবদুর রহমান বদি দুটি বিয়ে করেছেন। ২ বিয়ের কথা বলা হলেও বাস্তবে তিনি আরও অনেক বেশি বিয়ে করেছেন বলে তাঁর নিকটাত্মীয়রা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর বাবা এজাহার মিয়া এরশাদ সরকারকে ম্যানেজ করে হয়েছিলেন টেকনাফ উপজেলার চেয়ারম্যান।
’৯০ দশকের শেষদিকে এরশাদের পতনের পর বদির বাবা সরাসরি যোগ দেন বিএনপিতে। সে সুবাদে বদি ও তাঁর বাবার সঙ্গে টেকনাফ উপজেলায় বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে জড়িতে পড়েন। তখন বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বদি টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে বিভিন্ন চোরাচালানি ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি বদির অপকর্মের কথা জানতে পেরে তাঁকে বয়কট করতে শুরু করে। কিন্তু নাছোড়বান্দা বদি! যে কোনোভাবেই হোক, এমপি হতে মরিয়া।
১৯৯৬ সালে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে টেকনাফÑউখিয়া আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চান বদি। কিন্তু বিএনপির হাইকমান্ড বদির আরএস-বিএস যাচাই-বাছাই করে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সুপারিশ না থাকায় এবং তাঁর নাম কালোতালিকায় থাকায় তাঁকে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু নিরুপায় হয়ে রাতারাতি নিজেকে পাল্টে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা হওয়ার মানসে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি একেএম মোজাম্মেল হককে বশে নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। গুঞ্জন রয়েছে, এজন্য তাঁকে গুনতে হয়েছে মোটা অংকের টাকার মিশন।
টেকনাফ এলাকায় তাঁর আদেশ-নির্দেশ ছাড়া কোনো কিছুই হয় না। তার নির্দেশে টেকনাফ পরিচালিত হয়ে আসছে। অবৈধ অর্থের প্রভাবে টেকনাফে চলছে বদির অঘোষিত শাসন এবং তাকে বাঘের মত ভয় পেয়ে আসছে টেকনাফবাসী। রয়েছে তাঁর বেয়াই ও ভাইয়া বাহিনী। তাঁর বিরুদ্ধে যাঁরা কথা বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নেমে আসে নির্যাতনে পাহাড়।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে আওয়ামী লীগের বিতর্কিত এমপি আবদুর রহমান বদির সঙ্গে যোগাযোগ করতে তাঁর মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা ও ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।