| |

Ad

বিএনপি নেতা ও ইউপি সাবেক মেম্বার মোস্তফা এখন কোটিপতি মোস্তফা এখন জেল হাজতে ॥ ২ হাজার কোটি টাকার মালিক

আপডেটঃ ৯:২০ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

এস,এম,মনির হোসেন জীবন ॥ রাজধানীর উত্তরায় জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি’র) ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ সাধারণ সম্পাদক, তুরাগ থানা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও তুরাগ থানার হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ এর সাবেক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার হাজী মো: মোস্তফা ওরফে কোটিপতি মোস্তফা বর্তমানে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বিষয় সম্পত্তির মালিক। গত জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে আটক করে । বর্তমানে বিএনপি নেতা মোস্তফা এখন কারাগারের জেলহাজতে আছেন। তার বিরুদ্বে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫টি মত রাজনৈতিক মামলা, একটি ট্রিপল হত্যা মামলা, ডিএমপি’র উত্তরা পূর্ব,পশ্চিম,তুরাগ থানা সহবিভিন্ন থানায় নাশকতার মামলাসহ অসংখ্য জিডি সহ পুলিশ ও আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। খবর একাধিক বিশ^স্থ তথ্য সুত্রের।

অনুসন্ধ্যানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ এর সাবেক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার হাজী মো: মোস্তফা ওরফে কোটিপতি মোস্তফার পিতার নাম মৃত মিছির আলী মেম্বার। হরিরাপুর ইউনিয়নের বাইলজুরী গ্রামে তার জন্ম। বর্তমানে উত্তরা পশ্চিম থানার ১৩ নম্বর সেক্টর এবং রানাভোলা গ্রামে সে বসবাস করে আসছিল। ৪ ভাইয়ের মধ্যে মোস্তফা হলো সবার বড়।

জানা যায়, বিএনপি নেতা হাজী মো: মোস্তফা মেম্বাার এখন কোটিপতি। তুরাগ থানার রূপায়ন সিটি উত্তরার প্রজেক্টের তার নিজের ৪ থেকে ৪ বিঘা জমি রয়েছে। রানা ভোলা গ্রামে তার রয়েছে বিশাল আলিশান বাড়ি,বিষয় সম্পত্তি। উত্তরা পশ্চিম থানার ১৩ নম্বর সেক্টরে নিজের বসবাসরত একটি বহুতল ভবনের বাড়ি, উত্তরা সোনারগাঁও জনপথ সড়কের ১০ কাঠার একটি প্লট। (বর্তমানে) উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর কাঁচাবাজার),নামে বেনামে উত্তরায় একাধিক প্লট,জমি,ব্যাংক ব্যালেঞ্জ, সহ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার মালিক সে। তার পিতা মৃত মিছির আলী একসময় বাইলজুরী এলাকার মেম্বার ছিল।

একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানান, বিএনপি শাসনামলে তুরাগ থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও তুরাগ থানার হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ এর সাবেক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নির্বাচিত হন হাজী মো: মোস্তফা ওরফে কোটিপতি মোস্তফা। পরপর ২ বার মেম্বার হওয়ার সুবাধে সে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সে নিজে গড়ে তুলেন নামে বেনামে টাকার পাহাড়, জমিজমা,বিষয় সম্পত্তি আর ব্যাংক ব্যালেঞ্জ। বিএনপির আমলে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ও ক্ষমতার দাপটে তুরাগ ও উত্তরা এলাকায় ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করে মোস্তাফা মেম্বার। গড়ে তুলের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী।

বিএনপি শাসনামলে (বর্তমানে) তুরাগের হরিরামপুর ইউনিয়টি ছিল ঢাকা-১১ নির্বাচনী এলাকা। সে সময় এখানকার এমপি ছিল বিএনপি নেতা এস,এ খালেক। পরবর্তী সময়ে বিএনপি নেতা হারুন মোল্লা এবং ঢাকা-৫ আসনের বিএনপি নেতা মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম অত্র এলাকার এমপি নির্বাচিত হন। সেময় এই মোস্তফা মেম্বারের ক্ষমতার দাপটে রাতারাতি সে কোটিপতি বনে যায়।

জানা যায়, ২০০১ সালে বিএনপি শাসনামলের শেষ দিকে তৎকালীন উত্তরা থানা বিএনপি’র সভাপতি ও হরিরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন কুদরত ই এলাহী লিটন। পরপর সে ২বার চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ছিল হাজী মো: মোস্তাফা। বিএনপি আমলে রাজউক উত্তরা প্রথম ও দ্বিতীয় প্রকল্প হুকুম দখল করা হয়। সে সময়ে মোস্তফা মেম্বার তার সহযোগীদেরকে সাথে নিয়ে উত্তরায় নামে বেনামে একাধিক প্লটের মালিক হন। মানুষকে ভয়ভীতি প্রদশন,হুমকী, ধমকী,নির্যাতন,খুন,ঘুম সহ নানা ভাবে নির্যাতন চালিয়েছে। মানুষের জমি,সরকারী প্লট জোরপূর্বক ভাবে জবরদখল ও কোটি কোটি টাকা নিজেই আতœসাৎ করেছে। তখন তার দাপটে এলাকার কেউ কথা বলতে সাহস পেত না। সবাই তাকে ভয়ের চোখে দেখতো। কেউ যদি তার কথার প্রতিবাদ করতে তাহলে তাকে হতে হতো বলির পাঠা। তার বিরুদ্বে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে জেলহাজতে পাঠানো সহ নানা ভাবে হয়রানী করতো মোস্তফা মেম্বার।

একটি সুত্র জানান, বিএনপি’র শাসনামলে হরিরামপুর ইউনিয়ন সাবেক ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি মেম্বার তৈয়াবুর রহমান,সাবেক ইউপি মেম্বার মজিবুর রহমান ও তার চাচা কাদেরকে আওয়ামীলীগের সমর্থক ও কর্মী হওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসারমূলক উত্তরা থানা বিএনপি’র সভাপতি ও হরিরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন কুদরত ই এলাহী লিটন ও বিএনপি নেতা ও ইউপি মেম্বার মোস্তফার নির্দেশে প্রকাশ্যে দিবালোকে বিএনপি একদল সন্ত্রাসী তুরাগের নয়ানগর বাজরে গুলি করে ৩জনকে হত্যা করে। ওই ট্রিপল মামলার আসামী ছিল বিএনপি নেতা হাজী মো: মোস্তফা। এছাড়া এজাহারভুক্ত আসামী ছিল তুরাগের ফুলবাড়িয়া গ্রামের বিএনপি কর্মী মো: আলাল, মো: রব সহ অনেকে। তৎকালীন সময়ে এটি ছিল রাজধানীর একটি চাঞ্জর‌্যকর ট্রিপল হত্যা মামলার ঘটনা।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ইউপি মেম্বার মোস্তফার স্ত্রীর নামে বাসার কাজের মেয়ে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে বেশ কিছু দিন জেল খেটেছেন। তার স্ত্রীর নামে থানায় মামলা সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্বে ২০ থেকে ২৫টি মত রাজনৈতিক মামলা, একটি ট্রিপল হত্যা মামলা, ডিএমপি’র উত্তরা পূর্ব,পশ্চিম,তুরাগ থানা সহবিভিন্ন থানায় নাশকতার মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।