মঙ্গলবার ২২শে জুলাই, ২০১৯ ইং ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

আগামী শুক্রবার থেকে টঙ্গীতে শুরু হচেছ বিশ^ইজতেমা ॥ মাঠ প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে চলেছে

আপডেটঃ ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯

এস,এম,মনির হোসেন জীবন-টঙ্গী থেকে ফিরে : রাজধানীর অদূরে গাজীপুর মহানগরী শিল্প নগরী টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ ৪ দিনের বিশ্ব ইজতেমা আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে । ইতোমধ্যে ইজতেমা মাঠের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকী ইন্নয়ন কাজ ও বেশ দ্রুতগতিতে চলছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ফজরের নামাজের পর পরই আ’ম বয়ানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। ১৬ তারিখ প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ১৭ তারিখ এবং শেষ হবে ১৮ তারিখ।গতকাল মঙ্গলবার টঙ্গীর তুরাগ তীরে পুরো ইজতেমা ময়দান ঘুরে দেখা যায়, ইজতেমাকে সামনে রেখে পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে সকল প্রস্তুতিমূলক কাজ। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভ্যাকু দিয়ে সমান করা হচ্ছে মাঠের বিভিন্ন অংশ ও রাস্তা ঘাট। দ্বীনি মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ইজতেমা ময়দানে সামিয়ানা টানাচ্ছে, ঠেলা গাড়ীতে বাস নিয়ে আসছে, মাটির কাজ, মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ চলছে মাইক টানানোর কাজ। প্রতিদিন ঢাকা ও গাজীপুরসহ আশপাশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দল বেধে ইজতেমা ময়দানে এসে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বিশাল প্যান্ডেলের কাজ করছেন। ইজতেমার ময়দান জুড়ে বিদ্যুতের তার, গ্যাসের লাইন ও পানির পাইপ টানার কাজও চলছে একই সঙ্গে। ওজু গোসলের স্থান ও টয়লেট পরিস্কার পরিছন্নসহ নানা কাজ করছে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও সিটি কর্পোরেশন। এপর্যন্ত প্যান্ডেলের বেশিরভাগ কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইজতেমার আযোজক কতৃপক্ষ। জেলাওয়ারি ভাগ করা হচ্ছে খিত্তা। মাঠে গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ চটের ছাউনি এখনো বাকি রয়েছে। ময়দানে বাঁশের খুটি পুতা হয়ে গেছে। মাঠের পূর্ব পাশে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বালু দিয়ে মাঠ ভরাটের কাজ করছে। বিদেশী মুসল্লিদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে টিনের ঘর। বিদেশী মেহমানদের কামরার দক্ষিণ পূর্ব পাশে মূল মে র কাজ করা হচ্ছে। তুরাগ নদী পারাপারের সুবিদার্থে সেনাবাহিনী অস্থায়ি সেতু নির্মাণ করছেন। যাতে করে মুসল্লিরা এপার ওপার সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারেন।

প্রতি বছর ইজতেমা অনুষ্ঠানের তিন মাস আগে থেকে মাঠের প্রস্তুতিত কাজ শুরু করা হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর মাত্র ৮ দিন আগে ইজতেমা মাঠ প্রস্তুতির কাজ শুরু করা হলো। গত বুধবার সন্ধ্যা ইজতেমা মাঠে দুই ঘণ্টাব্যাপী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় এমপি জাহিদ আহসান রাসেলের নেতৃত্বে তাবলিগ মুরুব্বীদের নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় গাজীপুর সিটি মেয়র আলহাজ মো. জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশ কমিশনার ওয়াইএম বেলালুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তাবলিগের মুরুব্বীদের মধ্যে মাওলানা জোবায়ের পন্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ইঞ্জিনিয়ার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, মাহফুজুর রহমান, মুফতী নেছার উদ্দিন, মুফতি নূরুল ইসলাম ও মোস্তফাা, সা’দপন্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ইঞ্জিনিয়ার মুহিবুল্লাহ, হাজী মোহাম্মদ হোসেন, হারুন অর রশিদ, শহীদ উল্লা, মনির হোসেন, মুফতী ফয়সাল ও আতাউল্লাহ। দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনা শেষে ক্রীড়া প্রতি মন্ত্রী আলহাজ মো: জাহিদ আহসান রাসেল মাঠের প্রস্তুতি কাজের উদ্বোধন করেন।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর এরই মধ্যে বিশ্ব ইজতেমার মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, অন্যান্য বারের মতো এবারও সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও সাদা পোশাকে ১০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগত মুসল্লি¬দের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে বিশ্ব ইজতেমার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তাবলিগ জামাতের দুটি গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ সভা শেষে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এসব কথা বলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ বলেন, রাজধানীর উপকণ্ঠ টঙ্গীর তুরাগ তীরে আগামী ১৫ থেকে ১৮ ফেব্্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমায় আগতদের জন্য নজীরবিহীন ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে সরকার। প্রয়োজনে সেনবাহিনীর সদস্যরাও ময়দানে থাকবেন।