| |

Ad

আইন মন্ত্রনালয়ের যুগ্মসচিব পরিচয় দিয়ে ঝিনাইদহের বিভিন্ন সরকারী অফিসের কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীদের মোবাইলে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠন পুর্ববাংলার কমিউনিষ্ট পার্টির নামে চাঁদা দাবী !

আপডেটঃ ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯

“র‌্যাবের সাথে যুদ্ধ করে আমাদের বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ। তাদের সাহায্যের জন্য ০১৯০৯০৮৮১১৭ বিকাশ নাম্বারে টাকা দিতে হবে। অন্যথায় সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের খুন জখম করা হবে”

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ-আইন মন্ত্রনালয়ের যুগ্মসচিব পরিচয় দিয়ে ঝিনাইদহের বিভিন্ন সরকারী অফিসের কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীদের মোবাইল ফোন সংগ্রহ করে পরক্ষনে আবার নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠনের নামে চাঁদা দাবী করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সরকারী চাকরীজীবীদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কেও কেও থানায় জিডি করেছেন। আবার কেও গোপনে বিকাশের মাধ্যমে টাকাও পরিশোধ করছেন। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের চারজন নাজির, হরিণাকুন্ডু ও কালীগঞ্জ হিসাবরক্ষন অফিসের কর্মকর্তাসহ অডিটর এবং জেলার ৬ সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের অফিস সহকারীদের কাছে চাঁদ দাবী করা হয়েছে। জানা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রেভিনিউ মুন্সিখানার (আরএম) প্রধান সহকারী মানস কুমারের কাছে আইন মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব পরিচয় দিয়ে ফোন আসে। তার কাছে ঝিনাইদহ জেলার ৬ সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের অফিস সহকারীদের মোবাইল নং চাওয়া হয়। মানস কুমার বিষয়টি ঝিনাইদহ জেলা রেজিষ্ট্রি অফিসকে অবহিত করলে অফিসের এক্সট্টা মহরার জাকির হোসেনকে নিয়ে নাম্বার পাঠানো হয়। কথিত আইন মন্ত্রনালয়ের যুগ্মসচিবের ০১৮৮৫৪৯৫৪৮৬ নাম্বারে ফোনে করে আবার নাম্বারগুলো পাঠানো হয়। নাম্বার দেওয়ার পর থেকে জেলার ৬ উপজেলার সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের অফিস সহকারীদের মোবাইল ফোনে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠন পুর্ববাংলার কমিউনিষ্ট পার্টির বিপ্লব ও গাজী মহিউদ্দীন পরিচয় দিয়ে একের পর এক চাঁদা দাবী করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের প্রধান সহকারী আশরাফ হোসেন ঝিনাইদহ সদর থানায় গত ৪ ফেব্রয়ারী একটি জিডি করেছেন। যার জিডি নং ১৭৩। ডিসি অফিসের প্রধান সহকারী মানস কুমার খবরের সত্যতা স্বীকার করে জানান, আইন মন্ত্রনালয়ের যুগ্মসচিব পরিচয় দিয়ে ফোন করার কারণেই তিনি নাম্বারগুলো সংগ্রহ করে দেন। তিনি বলেন অনেক সময় ভুয়া পরিচয় দিয়েও এমন কান্ড ঘটানো হয়। বোঝা যাচ্ছে এ ক্ষেত্রে তাই ঘটেছে। ঝিনাইদহ সদর সাব রেজিষ্ট্রার মৃত্যুঞ্জয়ী শিকারী বলেন, ডিসি অফিস থেকে মোবাইল নাম্বার চাওয়ার কারণে আমরা দিয়েছি। এখন সরকারের এজেন্সিগুলোর উচিৎ দুস্কৃতিকারীদের মোবাইল ট্রাকিং করে খুঁজে বের করা। হরিণাকুন্ডু সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের সহকারী ফজলুর রহমান বলেন, আমার কাছেও চাঁদা দাবী করা হয়েছিল, কিন্তু আমি জিডি করিনি। এদিকে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান নাজির জাহিদ হাসান লিপু, নাজির আব্দুল হান্নান, রতন কুমার ও সাইফুল ইসলামের কাছেও চাঁদা দাবী করা হয়েছে। তারাও ঝিনাইদহ সদর থানায় জিডি করেছেন বলে প্রধান নাজির জাহিদ হাসান লিপু জানান। তিনি আরো জানান, ফোন করে পুর্ববাংলা দলের পরিচয় দিয়ে বলা হয় “র‌্যাবের সাথে যুদ্ধ করে আমাদের বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ। তাদের সাহায্যের জন্য ০১৯০৯০৮৮১১৭ বিকাশ নাম্বারে টাকা দিতে হবে। অন্যথায় সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের খুন জখম করা হবে”। একই ভাবে হরিণাকুন্ডু উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিসার মৃগেন্দ্র নাথ সাহা, অডিটর রুজদার আলী ও কালীগঞ্জ হিবাস রক্ষন অফিসারকে মোবাইলে চাঁদা দাবী করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান খান বলেন, আমরা এ বিষয়ে অবগত আছি। নাম্বারগুলোর রেজিষ্ট্রেশন না থাকার কারণে পরিচয় সনাক্তকরা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ট্রাকিং করে দুর্বৃত্তদের অবস্থান জানার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, এরা প্রতারক চক্র। এদের হুমকীতে বিচলিত না হতে সংশ্লিষ্টদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।