শনিবার ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ ইং ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

কক্সবাজারে পুলিশের ছাড় বাণিজ্য

আপডেটঃ ৩:৩০ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ১৬, ২০১৪

কক্সবাজার প্রতিনিধি
ঈদকে সামনে নিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ‘ছাড় বাণিজ্যে’ নেমেছে। আইন ও লাঠির ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজন আটক করে রাতের আঁধারে ছেড়ে দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এটি নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এমনটি অভিযোগ ভুক্তভোগিদের। সুত্র প্রকাশ, গত কিছুদিনে পুলিশ প্রায় ৩০জনের মত ছিনতাইকারী আটক করেছিল। কিন্তু থানার দালাল এবং তদবিরবাজদের সহযোগিতায় গভীর রাতে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে ছাড় পেয়েছে ঐসব ছিনতাইকারী। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য শহরের দুর্ধষ ছিনতাইকারি একাধিক মামলার পলাতক আসামি মিজানকে গত ১১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছিনতাইকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বার্মিজ মার্কেট এলাকা থেকে আটক করে। আটকের পর ২ লাখ টাকার বিনিময়ে গভীর রাতে ছেড়ে দেয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে। শুধু তাই নয়, ৬ জুলাই সকালে শহরের বাসটার্মিনাল এলাকার লাল মোহাম্মদের ছেলে আবুল কালাম প্রকাশ ইয়াবা কালামকে ৫ হাজার ইয়াবাসহ হাতে-নাতে আটক করে পুলিশ। কিন্তু ২ ঘন্টা পরে কালামকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। অথচ তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী কালাম দীর্ঘদিন যাবৎ কক্সবাজারের প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে মরণ নেশা ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে। এদিকে ছাড় বাণিজ্য এবং গভীর রাতে আসামী ছাড়া পাওয়ায় পুলিশের ভাবমূর্তি ও ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে শহর জুড়ে চলছে তোলপাড়।
জানা যায়, শহরের টেকপাড়া এলাকার গোলাম মাওলা বাবুল প্রকাশ জজ বাবুলের পুত্র ছিনতাইকারি লিডার মিজান দীর্ঘদিন যাবত শহর ও শহরতলীসহ পর্যটন এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা অপকর্ম করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখছিলো। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহসও পেতনা। যেকারনে প্রতিনিয়ত অহরহ ঘটনার জন্ম দেয়ার পরেও টাকার কাছে জিম্মি হয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতোনা। তবে একের পর এক মামলা হলেও মিজান তার ছিনতাইকারি দলবল নিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াতো এবং তার পেশা হিসেবে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মারামারি পাশাপাশি ভূমিদস্যুদের কাছে ভাড়াটে সন্ত্রাসি হিসেবে জমি ও বসতবাড়ি দখলের মতো জঘন্যতম ঘটনা ঘটাতো। একইভাবে এধরণের অনেক কালাম মিজান আটক হয়, কিন্তু মোটা টাকার কাছে বলি হয়ে গভীর রাতে পুলিশের হাত থেকে ছাড় পেয়ে ফের অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে পুলিশের ফাঁড়ি গুলোতেও চলছে ছাড় বাণিজ্য। ১৩ জুলাই বিকালে ঈদগাও পুলিশ ফাঁড়ি অভিযান চালিয়ে ৪টি বালি উত্তোলন মেশিন ও যন্ত্রাংশ জব্দ করে। পরে পুলিশ কেন্দ্রের আইসি মনজুরকে নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিয়ে গভীর রাতে জব্দকৃত অবৈধ মেশিন ও যন্ত্রপাতিগুলো ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
এ অভিযোগ নিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মাহফুজুর রহমানের কাছে গেলে তিনি জানান, রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন অনুরোধ আমাদের কাছে আসে। সেজন্য ভদ্র লোকদের অনুরোধ রাখতে গিয়ে তাদের জিম্মিয়ে যাচাই-বাচাই করে কিছু লোক আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অপরদিকে লাখ লাখ টাকার বিষয়টি তিনি অবগত নন বলে এড়িয়ে যান।