মঙ্গলবার ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ ইং ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

৩০ হাজার টাকায় রফা গ্রেফতার কৃত আসামীকে ছেড়ে দিলেন পুলিশ

আপডেটঃ ৩:৩৬ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ১৬, ২০১৪

আলতাফ হোসেন সরকার, রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম থেকে : তাং ১৫-৭-১৪
ত্রিশ হাজার টাকায় রফা করে গ্রেফতার কৃত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। টাকার বিনিময়ে আদালত কর্তৃক গ্রেফতারী পরয়ানা আসামীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে কাউনিয়ারচর বাজারে পৌঁছলে, এলাকার ইউপি সদস্যের মধ্যস্থতায় রাতের আঁধারে তাকে ছাড়িয়ে আনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে এমন ঘটনাটি ঘটেছে, মঙ্গলবার ভোররাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তি ডাংধরা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের কারখানা পাড়া গ্রামে।
এলাকাবাসী ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই উপজেলার জোয়ানেরচর পুর্বপাড়া গ্রামের মোক্তার হোসেন মেম্বারের কন্যাকে ১০ বছর আগে ঐ একই এলাকার কারখানা পাড়া গ্রামের মো. ইমান আলী ওরফে তুফানুর পুত্র ফরজ আলীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই মেয়েটিকে যৌতুকের জন্য স্বামী ও শ্বাশুড়ি মিলে অত্যাচার করতে থাকে। এ নিয়ে এলাকায় অনেক শালিস বৈঠক হলেও ছেলে পক্ষ ২ লাখ টাকা ছাড়া কিছুতে মেয়ে নিতে রাজি হয় নি। পরে কন্যার বাবা এলাকার মেম্বার হওয়ায় তার সম্মানের দিক চিন্তা করে নগদ ২ লাখ টাকা মেয়ে জামাইকে দিয়ে বিষয়টি আপোষ করেন।
বেশ কিছুদিন সংসার হলেও আবার শুরু হয় ওই গৃহবধুর উপর অমানুষিক অত্যাচার। অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মেয়েটি তার বাবার বাড়িতে চলে আসে। এ নিয়ে জামালপুর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়। দীর্ঘদিন আসামী ফরজ আলী পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করতে পারে নি পুলিশ। ঘটনার দিন বাদী পুলিশকে আসামী সম্পর্কে সঠিক ধারনা দিলে সানন্দবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এ এসআই শামীম হোসেনের নেতৃত্বে একদল ফোর্স মঙ্গলবার রাত ২ টার সময় আসামীকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় আসামী ও তার আত্মীয় স্বজনের চিৎকারে কারখানা পাড়ায় এক শোরগোল পড়ে যায়। খবর পেয়ে ঐ এলাকার ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার ও আ’লীগ নেতা আবু তালেব এর মধ্যস্থতায় ৩০ হাজার টাকা পুলিশকে ঘুষ দিয়ে গ্রেফতারী পরয়ানা আসামী ফরজ আলী ছাড়িয়ে নেয়।
মামলার বাদী মোক্তার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, অনেক দিনের মামলা হলেও পুলিশ আসামী ধরছে না। পরে আমরা কোথায় আসামী আছে এমন তথ্য দিলে পুলিশ ফরজ আলীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। কিন্তু কাউনিয়ারচর বাজারে যাওয়া মাত্রই তালেব মেম্বার ৩০ হাজার টাকা পুলিশকে দিয়ে আসামীকে ছাড়িয়ে আনে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য তালেব আলী মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান-আসামীকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে ঠিক, তবে টাকা পয়সা আমার হাতে লেনদেন হয় নাই।
এ ব্যাপারে সানন্দবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এ এস আই শামীম হোসেন এর মতামত নেয়ার জন্য তার সেলফোনে কল দিলে তিনি সাংবাদিকদের জানান- আমরা ঐ এলাকায় আসামী ধরার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ধরতে পারি নাই।
সানন্দবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি শফিকুর রহমান সেলফোনে সাংবাদিকদের জানান- ত্রিশ হাজার টাকার অভিযোগ বাদীসহ এলাকাবাসী আমাকেও জানিয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে।