মঙ্গলবার ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

 সাতক্ষীরার ১০০ শয্যার সদর হাসপাতালের- বিপরীতে মাত্র ৪ জন ডাক্তার !

আপডেটঃ ১:৩৪ অপরাহ্ণ | মার্চ ০৩, ২০১৯

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার ১০০ শয্যার সদর হাসপাতালে দৈনিক গড়ে ২০০ রোগী ভর্তি থাকে। এমন একটি হাসপাতালে ডাক্তারের সংখ্যা মাত্র ৪ জন।এ ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিনে আউটডোরে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসে আরও ৬০০ থেকে ৮০০ জন রোগী। তখন এ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার অবস্থা হয়ে ওঠে আরো করুণ। সম্প্রতি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে বিএমএ ভবনে এক মতবিনিময় সভায় চিকিৎসক নেতারা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

স্বাচিপ সভাপতি ডা. মোকলেছুর রহমান এর সভাপতিত্বে মত বিনিময়ে অংশ নেন- বিএমএ সভাপতি ডা. আজিজুর রহমান, স্বাচিপ সাধারণ সম্পাদক ডা. মনোয়ার হোসেন, বিএমএ সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শামসুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডা. শাজাহান আলী এবং জেলা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সভাপতি ডা. হাবিবুর রহমান।এ ছাড়া সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী ও  সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামানও মত বিনিময়ে অংশ নেন ।

এ সময় স্বাস্থ্যসেবায় দুরাবস্থার কথা তুলে ধরে চিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে চিকিৎসক সংকট, দুর্নীতি এবং অবহেলার কারণে চিকিৎসা খাতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি  হয়েছে।তারা জানান, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসার সরঞ্জাম রয়েছে প্রচুর। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে রোগীরা যথার্থ সেবা পাচ্ছেন না। এমন অবস্থায় একজন সরকারি ডাক্তার তার নৈমিত্তিক দায়িত্ব ফেলে রেখে বেসরকারি ক্লিনিকে অথবা প্রাইভেট প্র্যাকটিসে সময় দিলে স্বাস্থ্যসেবা মুখ থুবড়ে পড়বে।

চিকিৎসকরা জানান, এমবিবিএস পাস করার পর বিসিএসের অপেক্ষায় ৪ বছর শেষ করছেন একেক জন ডাক্তার। পাবলিক সার্ভিস কমিশনে চলছে দীর্ঘসূত্রিতা। এডহক ভিত্তিতে চিকিৎসক নিয়োগ ও পদায়ন না করা হলে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন করা অসম্ভব।সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এক্সরে ফিল্ম থাকে না, ওষুধের সরবরাহও  কম।  একই সাথে একজন ডাক্তার যেমন জরুরী বিভাগের সেবা দিচ্ছেন তেমনি গভীর রাতে জরুরি কলেও সেবা দিচ্ছেন তিনি। এভাবে চিকিৎসা সেবা কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না। আবার একজন ডাক্তার নাইট ডিউটি ছেড়ে ভোর ৬ টায়  ফিরে আবারও সকাল ৮ টায়  কাজে যোগদান করলে তার কাছ থেকে কতটা সেবা পাওয়া যাবে!

সাতক্ষীরা সরকারি মেডিকেল কলেজে এনাটমি ও ফিজিওলজিতে কোন শিক্ষক নেই। সেখানে এনাটমি পড়ান একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ। সেখানে মিড লেভেলের ডাক্তার কম। সাতক্ষীরা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রয়োজন ৫৭ জন ডাক্তারের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ১৬ জন । একজন রোগীর  জন্য ৩ শিফটে ৩ জন ডাক্তার দরকার হয়।  একই সাথে দরকার ৯ জন সেবিকাও। অথচ সেই জনবল এখানে নেই।বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা’র সুপারিশ অনুযায়ী ভর্তি হওয়া প্রতি ১০ জন রোগীর পেছনে একজন ডাক্তার থাকতে হবে। সেই হিসাবে সাতক্ষীরায় ভর্তি হওয়া ২০০ রোগীর জন্য প্রতি শিফটে ২০ জন হলে দৈনিক দরকার ৬০ জন ডাক্তার।

তারা জানান, সদর হাসপাতালে প্রয়োজন ২৭ জন, স্থলে আছে ৪ জন। কালিগঞ্জ উপজেলায় ২১ জনের বিপরীতে আছে ৪ জন, আশাশুনিতে ২১ জনের বিপরীতে ৪ জন, কলারোয়ায ৩৪ জনের স্থলে ৪ জন, তালায় ৩৩ জনের বিপরীতে ৭ জন, দেবহাটায় ১৬ জনের বিপরীতে ৫ জন এবং শ্যামনগর হাসপাতালে ৩৩ জনের স্থলে ৫ জন ডাক্তার রয়েছেন। । এসব হাসপাতালে প্রয়োজন ২০২ জন চিকিৎসক, কিন্তু রয়েছেন মাত্র ৫১ জন।