বৃহস্পতিবার ২৫শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ১২ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

রাজধানীতে হুজি দুই সদস্য সহ ডাকাত দলের ১৪জন গ্রেফতার ॥ আগ্নেয়াস্ত্র,গুলি,গান পাউডার,ককটেল,মুখোশ ও নগদ টাকা উদ্বার

আপডেটঃ ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ০৫, ২০১৯

এস,এম,মনির হোসেন জীবন ॥ রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, ধোলাইপাড়া ও রামপুরার এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সংগঠন ও হুজি দুই সদস্য সহ ডাকাত দলের ১৪ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দারা পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি বিদেশি একে-২২ বোরের রাইফেল, একটি পাইপগান, ৪১ রাউন্ড গুলি, ১২টি জিহাদি বই, গান পাউডার, ককটেল, পাঁচটি কালো রঙের মুখোশ ও সংগঠন পরিচালনা করার কাজে ব্যবহৃত ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়। এছাড়া চারটি বিদেশি পিস্তলের ৩৩ রাউন্ড গুলি, ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, চাপাতি, ছোরা কাটার, হেক্সো ব্লেড, স্পাইড রেঞ্জ ও স্কচটেপ উদ্ধার হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত হুজি সদস্যরা হলেন, হাফিজ ওরফে খালিদ ওরফে ইব্রাহিম গাজী, মামুনুর রশিদ ওরফে বাচ্চু মোল্লা, মোফাজ্জল হোসেন ওরফে বড ভাই ওরফে দাদু (ডাকাত সর্দার), মোহাম্মদ জহির উদ্দিন ভূঁইয়া ওরফে চৌধুরী, আতিকুর রহমান, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ওরফে নয়ন, লাড্ডু মোল্লা, কাইয়ুুম শিকদার, আলাউদ্দিন শেখ, মুন্সি খসরুজ্জামান মেজর ওরফে মেজর, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হাওলাদার, সুব্রত দাস, মিন্টু কর্মকার, এবং অলিউল্লাহ হাওলাদার অলি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান আজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।গত রোববার দিবাগত মধ্য রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, ধোলাইপাড়া ও রামপুরার এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে অস্ত্র,গুলি,গাড়ি ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়। সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত রোববার দিবাগত রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি ধোলাইপাড়া এলাকা থেকে ১২ জন ডাকাতকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে রামপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সংগঠন ও হুজি দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দারা।তিনি বলেন, এ বছরের ১৩ জানুয়ারি ময়মনসিংহের ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানিতে ডাকাতির চেষ্টাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক পুলিশ সদস্যকে গুলি করে তারা পালায়। ডাকাত দলের সদস্যরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি করে বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটেছে।

আব্দুল বাতেন বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি জঙ্গি উজ্জ্বলের নির্দেশে ও সংগঠন পরিচালনা করার লক্ষ্যে কাশিমপুর কারাগারে অবস্থানরত উজ্জ্বলকে যেকোনও উপায়ে মুক্ত করার পরিকল্পনা তাদের ছিল।তিনি আরো জানান,ডাকাতির পরিকল্পনা করতো হুজি আর বাস্তবায়ন করতো ডাকাতরা। এ পর্যন্ত ৯টি ডাকাতি করে ৫ কোটি টাকা লুণ্ঠনের কথা স্বীকার করেছে। ডাকাতি থেকে পাওয়া অর্থ ৩০ ভাগ টাকা সংগঠনের কাজে ব্যয় করে আসছিল।

গ্রেফতার করা ডাকাত আতিকুর রহমানের দেওয়া তথ্য মতে, রামপুরার বাসা থেকে অস্ত্রসহ হুজি সদস্যকে গ্রেফতার করেন গোয়েন্দারা।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা ধোলাইপাড়া পূবালী ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ডকে জিম্মি করে ডাকাতির পরিকল্পনার জন্য জড়ো হয়েছিল। অর্থ সংকটের কারণে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি) ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের মূলত মূল টার্গেট করতো নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার রয়েছে এমন ব্যক্তিদের।