শনিবার ২৪শে মে, ২০১৯ ইং ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

‘নারী হিসেবে সংগ্রাম করেছি চলাফেরায়’

আপডেটঃ ৩:৫৫ অপরাহ্ণ | মার্চ ০৮, ২০১৯

বিনোদন ডেস্ক: লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ২০১০ সালে শোবিজে আমার পথচলা শুরু। মফস্বল থেকে এসে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম। এ প্রতিযোগিতায় আমার প্রশিক্ষক ছিলেন হাজরা ও টুম্পা আপু। এ দুজনই আমাকে খুব পছন্দ করতেন, আমিও তাদের খুব শ্রদ্ধা করতাম। তখন এ দুজনই বলতেন- লাক্স প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়াটাই তোমার প্রধান লড়াই নয়, এ প্রতিযোগিতার পর শুরু হবে তোমার মূল সংগ্রাম। তুমি কী করতে চাও, বিপদ-আপদ আসলে কীভাবে পথ চলবে তা তোমাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এ প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর টেলিভিশন নাটকে কাজ শুরু করি। খালিদ মাহমুদ মিঠু ভাইয়ের নাটকে প্রথম কাজ করি। এতে কাজ করতে গিয়ে অভিনয়ের অনেক কিছু মিঠু ভাইয়ের কাজ থেকে শিখেছি। যাকে বলে অভিনয়ের হাতেখড়ি। প্রথম শুটিংয়ের পর অভিনয়ের প্রতি খুব আগ্রহ বোধ করলাম। এরপর আরো একটি একক নাটকে ও মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ ভাইয়ের একটি টেলিফিল্মে কাজ করি। তবে রাজ ভাইয়ের টেলিফিল্মটি টেলিভিশনে প্রথম প্রচারিত হয়। তারপর আখতার ফেরদৌস রানা ভাইয়ের একটি ধারাবাহিক নাটকে কাজ শুরু করি। এ নাটকের শুটিংয়ের জন্য ৭-৮ দিন রাজশাহীতে ছিলাম। এ সময় বেশ কজন সিনিয়র শিল্পী আমার সঙ্গে ছিলেন। এতে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ভাইয়ের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করি। এই নাটকের শুটিং করার সময়ই উপলব্ধি করি, অভিনয় করতেই বেশি আনন্দ পাচ্ছি। আমি অভিনয়টাই করতে চাই।

তারপর যে যেখানে ডেকেছেন আমি গিয়েছি। যে গল্পে কাজ করতে বলেছেন সেটাতেই করেছি। মানে গুরুত্বের সঙ্গে অভিনয়টা মন দিয়ে করার চেষ্টা করেছি। তখন অনেকের উৎসাহও পেয়েছি। ওই অর্থে আমাকে আসলে সংগ্রাম করতে হয়নি। কারণ কখনো কাজ কিংবা নিউ ট্রেন্ডের পেছনে ছুটিনি। হ্যাঁ, সংগ্রাম ছিল সেটা-একা একা ঢাকায় থাকি, একা একা শুটিং যাওয়া-আসা। তারমধ্যে ওইভাবে কোনো অভিভাবক ছিল না। এমনকি মিডিয়াতেও কেউ আমার পরিচিত ছিল না। আমার উপর কোনো ছায়া ছিল না। পরবর্তীতে ছায়াটা নিজেকেই তৈরি করতে হয়েছে। এটা একটা সংগ্রাম ছিল কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে কোনো সংগ্রাম করতে হয়নি। কারণ যখনই যে কাজটি করেছি তা মন দিয়ে করেছি। ভেতর থেকে অনুভব করে, ভালোবেসে করেছি। সততার সঙ্গে করেছি। এজন্য কাজের পেছনে আমাকে ছুটতে হয়নি।

নারী হিসেবে সংগ্রাম করেছি চলাফেরায়। অনেক সময় দেখা যেত শুটিং শেষ হয়েছে অনেক রাতে। আবার প্রোডাকশনের গাড়িও নেই। তখন একটি সিএনজি নিয়ে বাসায় ফিরতে হয়েছে। কিংবা বাসে যাওয়া-আসা করেছি। এক ঘটনা বলি, একটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিং করছিলাম। শুটিং শেষ হতে রাত বেশি হলে প্রোডাকশনের গাড়ি আমাকে একটা দূরত্ব পর্যন্ত নামিয়ে দিয়ে যেত। কিন্তু বাসা পর্যন্ত পৌঁছে দিত না। আমি তখন মিরপুরে থাকি। যাইহোক, রাতের বেলায় মিরপুর সনি সিনেমা হলের সামনে গাড়িটি আমাকে নামিয়ে দিয়ে যায়। নেমে দেখি কোনো রিকশা, সিএনজি কিছু নেই। ওখান থেকে বাসায় হেঁটে যেতেও ২০ মিনিট সময় লাগে।

ওই গাড়িটি সিনিয়র একজন ড্রাইভার চালাচ্ছিলেন। তাকে সমস্যার কথা বলার পরও আমাকে বাসা পর্যন্ত নামিয়ে দেননি। তারপর বাধ্য হয়ে সেই রাতে লাগেজ টেনে নিয়ে একা বাসায় ফিরেছিলাম। আরেক দিন ওই একই ড্রাইভার আমাকে বনানীতে নামিয়ে দেন। তখন রাত ১টা বাজে। বুঝতেছিলাম না কি করব। তারপর পরিচালককে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করি-এখন আমি কী করব? তারাও তখন ওইভাবে কোনো সহযোগিতা করেনি, কিছু বলেওনি। এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। এমন অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। তাছাড়া অন্য কোনো খারাপ অবস্থার মুখোমুখি কখনো হইনি।

ইদানীং মিডিয়াতে কাজ করাটা তুলনামূলক কঠিন। আর এটা আমরাই নষ্ট করেছি। কারণ আমরা সবাই এখন প্রচুর কাজের পেছনে ছুটি। যে মেয়েটা গতকাল মিডিয়াতে পা রেখেছে সে আজকেই সব কাজ করে ফেলতে চায়। এমন প্রত্যাশা লালন করছে এবং বিপদে পড়ছে। কিন্তু আমি সৌভাগ্যবান যে, শুরুতে বড় বড় পরিচালক ও সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। এখন তো শিল্পীর চেয়ে পরিচালক অনেক বেশি। কেমন গল্প, কোন চ্যানেলে যাবে, কে পরিচালনা করবে তার কিছুই আমরা শুনছি না, জানছি না। শুধু শুটিং করে যাচ্ছি। যার কারণে এই অঙ্গনে পথচলাটা এখন আর মসৃণ নেই। এজন্য নিজেদেরকেই এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নিজেদেরকেই এ বিষয়ে আরো সচেতন হতে হবে। ভালো মন্দ মিলিয়েই যেহেতু জীবন তাই ঘাত-প্রতিঘাতও জীবনের অংশ। অভিনয়টা ভালোবাসি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অভিনয়টাই করে যেতে চাই।