মঙ্গলবার ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

স্কুলছাত্রীদের বোরকা পরার অধিকার সংরক্ষণ চেয়ে রিট

আপডেটঃ ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ১১, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :বোরকা পরায় দেশের বিভিন্ন স্কুলে নিগ্রহের শিকার হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্কুলছাত্রীদের বোরকা পরার অধিকার নিশ্চিতে দায়ের করা রিটের ওপর আগামী ১৪ মার্চ আদেশের দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে রিটের ওপর আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন আদালত।

রোববার বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আদেশের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ।

গত ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দৈনিক আল ইহসান ও মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকার সম্পাদক আল্লামা মুহম্মদ মাহবুব আলম ও মোহাম্মদপুরের তাজ জামে মসজিদের খতিব আল্লামা আবুল খায়ের মুহম্মদ আজিজুল্লাহর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহম্মদ আহাসান ও শেখ ওমর শরীফ রিটটি দায়ের করেন।

রিটে দেশের স্কুলগুলোতে স্কুল ইউনিফর্মের ওপর বোরকা পরিধানে ছাত্রীদেরকে বাধা না দেওয়ার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা এবং ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে ছাত্রীদেরকে বোরকা পরিধানে বাধাদানকারী স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়।

রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়।

পরে আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ বলেন, ছাত্রীরা বোরকা পরাকে কেন্দ্র করে বিভিন্নভাবে নিগ্রহের শিকার হন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আমরা গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে একটি আইনি নোটিশ পাঠাই। কিন্তু সে নোটিশের কোনো জবাব না পাওয়ায় আমরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করি। এ রিটের ওপর আগামী ১৪ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি নিয়ে আদালত আদেশ দেবেন।

প্রসঙ্গত, রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশের বিভিন্ন স্কুলে বোরকা পরিধানকারী ছাত্রীরা নিগ্রহের শিকার হওয়ায় তারা সংক্ষুব্ধ হয়েছেন। সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা থানার মাইজপাড়া মাহমুদুন্নবী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী বোরকা পরায় তাকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করে তাকে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে দেননি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ কাশেম।

ওই ঘটনার পরদিন সেই ছাত্রীর মা বোরকা পরার অনুমতির জন্য গেলে প্রধান শিক্ষক মারমুখী আচরণ করে তাকেও বের দেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্কুলে সংঘটিত একই ধরনের আরো কিছু ঘটনা বিভিন্ন সময়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।