শনিবার ২৪শে মে, ২০১৯ ইং ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

চৌগাছা সোনালী ব্যাংকে ৫০০ টাকার বান্ডিলে ১০০ টাকার নোট-কর্মকর্তাদের ব্যবসা নাকি অবহেলা

আপডেটঃ ২:০৪ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ১৩, ২০১৯

আব্দুল আলীম-চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধিঃ যশোরের চৌগাছা উপজেলায় সোনালী ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে ৫০০ টাকার বান্ডিলের ভিতরে ১০০ টাকার নোট পেয়েছেন উপজেলার সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধূলিয়ানীর সহকারি শিক্ষক আব্দুল আলীম।মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ১৬ টি চেকে সোনালী ব্যাংক, চৌগাছা শাখায় মোট ২,৩০,০০০ (দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা উত্তোলনের জন্য জমা দেন। চেক গুলো ব্যাংকের মহিলা কর্মকর্তার হাত দিয়ে কম্পিউটারে ভেরিফিকেশন হয়ে ক্যাশিয়ার জয়নালের কাছে যায়।

এরপরই ক্যাশিয়ার ‘জয়নাল’ ঐ শিক্ষকদের হাতে ৫০০ টাকার চারটি বান্ডিলে দুই লক্ষ ও ১০০০ টাকার একটি বান্ডিলে ত্রিশ হাজার টাকা মিলে মোট দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার টকা প্রদান করেন। কিন্তু শিক্ষক আব্দুল আলীম ক্যাশিয়ার সাহেবকে বলেন পাঁচশত টাকার বান্ডিলের ভিতরে সব দুর্বল ও ছেড়া কাটা নোট আপনি ১০০০ টাকার নোটের বান্ডিল দেন। তিনি বলেন হবে না, ঐটাই নিতে হবে। আর কোনো কথা না বলে আব্দুল আলীম তার বিদ্যালয়ের অপর শিক্ষক আব্দুল আজিজকে পাঁচশত টাকার দুইটা বান্ডিল গণনা করতে দেন এবং নিজে দুইটা বান্ডিল গণনার কাজ করেন। আব্দুল আজিজ একটা বান্ডিল গুণে শেষ করে আরেক বান্ডিলের গণনা শুরু করে দেখেন মাঝের দিকে একশত টাকার নোট। বিষয়টি ক্যাশিয়ার ‘জয়নাল’ কে অবহিত করলে তাড়াতাড়ি বান্ডিলটি ফেরত দেওয়ার কথা বলে। এসময় উপস্থিত প্রেসক্লাবের সাংবাদিক আব্দুল আলীম ছবি নিয়ে টাকা ফেরত দিয়ে বান্ডিল পরিবর্তন করে নেন। 

তবে ব্যাংকে উপস্থিত টাকা উত্তোলনকারী সাধারণ ব্যক্তিরা সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদেরকে খুবই নিন্দা করেন। তাদের অনেকেই বলেন সোনালী ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তাই এই ভাবে ব্যবসা করেন। এব্যাপারে টাকা উত্তোলনকারী আব্দুল আলীম বলেন, বান্ডিলটা তাদের নিজের হাতের তৈরি ছিলো সুতরাং দায়ভার চৌগাছার শাখার। তার ধারণা মাথায় টুপি এবং পরণে পাঞ্জাবী দেখে টাকাটা চালিয়ে দিতে পারবে বলেই হিসাব করে ক্যাশিয়ার কাজটি করেছে। এতদিন ফেসবুকে দেখেছি পাঁচশত টাকার বান্ডিলে একশত টাকার নোট কিন্তু সেটা আমার ভাগ্যেই জুটেছে। এভাবে নিশ্চয় ব্যাংকের ক্যাশিয়ার টাকা ইনকাম করেন। তিনি আরও বলেন, সোনালী ব্যাংক চৌগাছা শাখার ম্যানেজার ব্যাতীত অধিকাংশ কর্মকর্তাদের আচরণ ভালো না। তারা গ্রাহকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। প্রায়ই স্কুলের শিক্ষকগণ তাদের আচরণকে ভালো বলে না।

এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংকের চৌগাছা শাখার ম্যানেজারের এর কাছে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি পাঁচশত টাকার বান্ডিলের ভিতরে একশত টাকার নোট থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেন। তিনি আরও বলেন, আমি হেড ক্যাশিয়ার রফিকুল ইসলামসহ ক্যাশিয়ার জয়নাল ও ভিতরে থাকা অন্যান্য কর্মকর্তা কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেছে যে হ্যা পাঁচশত টাকার বান্ডিলে একশত টাকার নোট ছিলো। তবে বান্ডিলটা পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।