বুধবার ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

৭৮৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন

আপডেটঃ ৩:৫০ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ১৬, ২০১৪

৭ হাজার ৮৩৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

মঙ্গলবার সকালে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, একনেকে ৬টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প ৬টির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৮৩৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫ হাজার ৪৪১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য থেকে ২ হাজার ৩৩৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা মেটানো হবে।

প্রকল্প ৬ টির মধ্যে ৪টি নতুন প্রকল্প এবং ২টি সংশোধিত প্রকল্প। ৫টি প্রকল্প সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এবং বাকি প্রকল্পটি সরকারি ও প্রকল্প সাহায্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

গ্রামীণ এলাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে আজকের একনেক সভায় এ সংক্রান্ত ৩ টি প্রকল্প পাস হয়। প্রকল্প ৩ টি হলো – ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণ ঢাকা বিভাগীয় কার্যক্রম- ২’, ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় কার্যক্রম- ২’ এবং ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণ চট্রগ্রাম-সিলেট বিভাগীয় কার্যক্রম- ২’।

প্রকল্প ৩ টির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৭ শ ১৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড জুলাই, ২০১৪ হতে জুন ২০১৮ এর মধ্যে প্রকল্প ৩টি বাস্তবায়ন করবে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় দেশের ৭২ টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে ৫৭ টি সমিতি এ ৩ টি প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে। ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও চট্রগ্রাম বিভাগের ৪৩টি জেলায় এ ৩ টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

একনেক সভায় জানানো হয়, ২০২০ সালের মধ্যে দেশের সব গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে হলে মোট ৩,২৬,২৬৩ কি.মি. বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন থাকতে হবে।এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে প্রয়োজনীয় ৯৪,৫৪৯ কি.মি. লাইনের মধ্যে ৭১,৫০০ কি.মি. বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন এরইমধ্যে তৈরি করা হয়েছে।

অনুরুপভাবে, রাজশাহী-রংপুর বিভাগে প্রয়োজনীয় ৮৪,১৫৩ কি.মি. লাইনের মধ্যে ৬১,৩৭৬ কি.মি. বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন তৈরি করা হয়েছে এবং চট্টগ্রাম-সিলেট বিভাগে প্রয়োজনীয় ৭৭,৪২৭ কি.মি. লাইনের মধ্যে ৬৬,৩০০ কি.মি. বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন এরইমধ্যে তৈরি করা হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, এই ৫ বিভাগে অবশিষ্ঠ ৫৬,৯৫৩ কি.মি. লাইনের মধ্যে অন্য ২ টি প্রকল্পের আওতায় ৩৩,৬১৯ কি.মি. লাইন নির্মাণের সংস্থান রয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রকল্প ৩টি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই ৫ টি বিভাগে ২৬,১৯০ কি.মি. নতুন বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ করা হবে এবং ২৮১০ কি.মি. বৈদ্যুতিক লাইন নবায়ন-পুনর্বাসন করা হবে।

এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮৯৪০ কি.মি. নতুন বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ ও ১০৬০ কি. মি. বৈদ্যুতিক লাইন নবায়ন-পুনর্বাসন করা হবে। রাজশাহী-রংপুর বিভাগে ৭৭০০ কি. মি. নতুন বৈদ্যুতিক লাইন ৮০০ কি. মি. বৈদ্যুতিক লাইন নবায়ন-পুনর্বাসন করা হবে।

সিলেট-চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৫৫০ কি. মি. নতুন বৈদ্যুতিক লাইন ্ও ৯৫০ কি.মি. বৈদ্যুতিক লাইন নবায়ন-পুনর্বাসন করা হবে। এতে করে সারাদেশে বিদ্যুৎ গ্রাহক সংযোগ সাড়ে ১১ লক্ষ বৃদ্ধি পাবে বলে সভায় জানানো হয়। এই তিনটি প্রকল্পের আওতায় ৯৬টি ৩৩/১১ কেভি নতুন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ ও ৩৮.৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে বলেও সভায় জানানো হয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০২১ সাল নাগাদ প্রত্যেক গ্রামে যাতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায় সরকার তাতে বদ্ধপরিকর।’

একনেক সভায় ‘ইনক্লুসিভ সিটি গভর্ণনেন্স প্রজেক্ট (আইসিজিপি)’ শীর্ষক ২ হাজার ৪৩ কোটি টাকার অপর একটি প্রকল্প পাস হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জুলাই ২০১৪ থেকে জুন ২০২০ এর মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

মোট প্রকল্প বরাদ্দের মধ্যে জিওবি ৫শ ৪৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য হিসেবে জাইকা ২ হাজার ৩শ ৯৭ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দিবে। দেশের ৪টি নতুন সিটি কর্পোরেশন যথা- নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, রংপুর ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

সভায় জানানো হয় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্ধারিত ৫টি সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মৌলিক নাগরিক সেবা সমূহের পরিবৃদ্ধি করা হবে। সিটি কর্পোরেশন সমূহের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধার সৃষ্টি হবে বলেও সভায় জানানো হয়।

প্রকল্পের আওতায় সিটি কর্পোরেশনের অধীনে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে ইনক্লুসিভ ধারণা প্রবর্তনের মাধ্যমে নাগরিকদের সেবার মানকে মানসম্পন্ন ও বেগবান করা হবে।

ই-গভর্ণেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণের সফট্্ ্ওয়্যার স্থাপন, চলমান কম্পিউটার কার্যক্রম ও জনসেবায় ক্ষুদে বার্তা পদ্ধতিও এ প্রকল্পের আওতায় করা হবে বলেও সভায় জানানো হয়।

এছাড়াও আজকের সভায় ‘নরসুন্দা নদী পুনর্বাসন কিশোরগঞ্জ পৌরসভা সংলগ্ন এলাকা উন্নয়ন (২য় সংশোধিত)’ এবং “অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) শক্তিশালীকরণ (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক অপর দুটি প্রকল্প একনেক সভায় পাশ হয়।

সভায় কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ. মান্নানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।