বৃহস্পতিবার ২৫শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ১২ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

আজ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন

আপডেটঃ ৩:৫৬ অপরাহ্ণ | মার্চ ১৯, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় আজ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।এছাড়া, স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের প্রায় ৯ হাজার ৬২০ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি অনুমোদন করা হয়েছে।মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও এনইসির চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়।সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।      

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সংশোধিত এডিপিতে দারিদ্র্য বিমোচনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহকে অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আইসিটির উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহায়ক প্রকল্প, সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে এলাকাভিত্তিক প্রকল্প ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে (পিপিপি) বাস্তবায়িত নতুন প্রকল্পসমূহকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও, চলতি অর্থবছরে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন তথা দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।অনুমোদিত সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা ৫১ হাজার কোটি টাকা। স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান বা করপোরেশনের ৯ হাজার ৬২০ কোটি টাকার মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ৮ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা ৬৬০ কোটি টাকা। ১ হাজার ৯১৬টি প্রকল্পের উন্নয়ন সহায়তাসহ সংশোধিত এডিপির সর্বমোট আকার দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬২০ কোটি টাকা প্রায়।

অর্থবছরের শুরুতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা ৬০ হাজার কোটি টাকা।সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মোট প্রকল্পের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯১৬টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১ হাজার ৬২৯টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১৫৪টি এবং জেডিসিএফ অর্থায়িত প্রকল্প ২টি এবং স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা/করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে ১৩১টি প্রকল্প।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে মূল এডিপিতে মোট প্রকল্প ছিল ১ হাজার ৪৫১টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১ হাজার ২২৭টি, কারিগরি প্রকল্প ১১৭টি এবং জেডিসিএফ অর্থায়িত প্রকল্প ২টি এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে হবে ১০৫টি প্রকল্প।বরাদ্দবিহীন সংযুক্ত অননুমোদিত নতুন প্রকল্প ৯৮৫টি, বৈদেশিক ঋণপ্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প ২৫৬টি, পিপিপি প্রকল্প সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭টি, যা মূল এডিপিতে ছিল ৭৮টি।

সংশোধিত এডিপিতে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্পের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৫টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৩২৮টি এবং কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১৭টি।মূল এডিপিতে  ৪৪৬টি প্রকল্প সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত ছিল। যার মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৪৩০টি ও কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১৬টি।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল এডিপি বরাদ্দের ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ৭০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩৯ দশমিক ১৩ ভাগ। একই সময়ে গত বছর ব্যয় হয়েছিল ৬২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা, যা ওই অর্থবছরের (২০১৭-১৮) মোট বরাদ্দের ৩৮ দশমিক শূন্য ১ ভাগ ছিল। কাজেই এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ হাজার ৪০০ (১ দশমিক ১২ শতাংশ) কোটি টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে।

সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবর্গ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি), পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।