মঙ্গলবার ২৪শে জুন, ২০১৯ ইং ১১ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

অচিরেই ডিজিটাল ডাকঘর- মোস্তাফা জব্বার

আপডেটঃ ১:১৯ অপরাহ্ণ | মার্চ ২৪, ২০১৯

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক :ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, অচিরেই ডাকঘরকে ডিজিটাল ডাকঘর হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ডাক বিভাগের যে নেটওয়ার্ক আছে তা কাজে লাগাতে পারলে আগামী ১০ বছরেও প্রতিষ্ঠানটিকে কেউ পেছনে ফেলতে পারবে না, বরং প্রতিষ্ঠানটি লাভবান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হবে। শনিবার বিকেলে রাজধানীর জিপিও-তে অবস্থিত ডাক ভবনে ই-কমার্স মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘একসময় ভাবা হতো, আলসেমি ও বিলাসী করেই হয়তো শহরের মানুষ ই-কমার্স ব্যবহার করবে। কিন্তু তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ডাক বিভাগের নেটওয়ার্ককে ই-কমার্স খাতের সঙ্গে যুক্ত করায় গ্রামের মানুষের কাছে অনলাইন কেনাকাটার আগ্রহ বেড়েছে। ডাক বিভাগের পার্সেল ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরে দেশের ই-কমার্স ব্যবসায়কে আরো দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘গলির দোকান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার না করলে আগামী পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্ব থাকবে না। এটাই বাস্তবতা। সেকারণে ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ের ডিজিটাল রূপান্তর শুরু হয়েছে। আর দোকানে না গিয়ে, পণ্য হাতে না নিয়ে কেনাকাটার যে রূপান্তর বিশ্বজুড়ে চলছে, সেই রূপান্তরের দিকেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’

‘ই-কমার্সের ডাক’ স্লোগানে ৮টি বিভাগীয় শহরে আয়োজিত ই-কমার্স মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মন্ডল, ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল, সহ-সভাপতি রেজওয়ানুল হক জামি ও পরিচালক মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোস্তাহিদল হক এবং ই-ক্যাবের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ই-ক্যাব ও ডাক বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আগামী ৩০ মার্চ থেকে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের পোস্ট অফিস প্রাঙ্গণে পর্যায়ক্রমে ই-কমার্স মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আগামী ৩০ মার্চ চট্টগ্রামে, ৬ এপ্রিল রাজশাহীতে, ১৩ এপ্রিল সিলেটে, ২০ এপ্রিল খুলনায়, ২৭ এপ্রিল রংপুরে, ৪ মে বরিশালে, ১১ মে ময়মনসিংহে এবং ১৮ মে ঢাকায় মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলা উপলক্ষে পণ্য ও সেবা প্রদর্শনীর পাশাপাশি সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

অনুষ্ঠানে ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মন্ডল বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর ই-কমার্স বিষয়ে আমার কোনো ধারণা ছিল না। তারপরও আমরা ই-পোস্ট সেবা চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি পণ্য ডেলিভারি দিতে সফল হয়েছি, একটি পণ্যও খোয়া যায়নি। বড় বড় কুরিয়ার কোম্পানির সঙ্গে চ্যালেঞ্জ দিয়ে এখন আমরা দারাজ, আজকের ডিলের মতো বড় বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে সফল ভাবে সেবা দিচ্ছি। দুশ’র বেশি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এখন আমাদের সেবা নিচ্ছে।’

ই-ক্যাব সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ‘ই-কমার্স সেবাকে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে পোস্ট অফিস নেটওয়ার্কের কোনো বিকল্প নেই। এ কারণেই আমরা প্রতিটি বিভাগীয় শহরের পোস্ট অফিসে এই মেলার আয়োজন করছি।’

তিনি বলেন, ‘দেশজুড়েই রয়েছে পোস্ট অফিসের শক্ত অবকাঠামো। আমরা প্রত্যাশা করছি, আগামীতে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই দেশে ই-কমার্স ব্যবসার বিপ্লব ঘটবে। ই-ক্যাবের ৯০০ সদস্য কোম্পানি এবং ৫০,০০০ এর অধিক এফ-কমার্স ব্যবসায়ীদের নিয়েই আমরা দেশের সম্ভাবনাময় ই-কমার্স খাতকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছি। ই-কমার্স মেলা এর একটি উদ্যোগ। এই মেলার মাধ্যমে আমরা উদ্যোক্তা ও ভোক্তার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করছি।’

বিভাগীয় পর্যায়ে দিনব্যাপী এই ই-কমার্স মেলায় পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে দারাজ, পার্টনার হিসেবে রয়েছে এটুআই ও তথ্য আপা। এছাড়াও মেলা আয়োজনে সহযোগিতা করছে চালডাল, রকমারি, এসএসএলকমার্জ, কম্পিউটার জগৎ, গিকি সোশ্যাল ও দিনরাত্রি।