বৃহস্পতিবার ২৫শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ১২ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

নুসরাতের চিকিৎসা- সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে ফাইল

আপডেটঃ ২:২৫ পূর্বাহ্ণ | এপ্রিল ১০, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টায় দগ্ধ ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানোর পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে তার মেডিক্যাল ফাইল সেখানে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন এ তথ্য জানিয়েছেন।  এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেছেন, ‘নুসরাতের কন্ডিশন বিবেচনা করে তাকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হবে।’

সোমবার সন্ধ্যায় ঢামেকে নুসরাতকে দেখতে এসে জাহিদ মালিক বলেন, ‘আমি তাকে দেখেছি।  তার পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছি।  তার উন্নত চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক।  তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো হবে। ’

সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী নুসরাতের সব মেডিক্যাল ফাইল সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে।  সেখানকার চিকিৎসকেরা আমাদের পরবর্তী কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তা জানাবেন।’

গত ৬ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাত জাহান রাফির (১৮) গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা।  এতে তার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।

দগ্ধ ছাত্রীর বাড়ি সোনাগাজী পৌরসভার চরচান্দিয়া গ্রামে।  সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে না নেওয়ায় অধ্যক্ষ তার লোকজনকে দিয়ে নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা চালান বলে মেয়েটির স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।

দগ্ধ ছাত্রীর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, ‘শনিবার সকালে আমার বোন আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে ওই মাদরাসা কেন্দ্রে যায়।  সেখানে বোরকা ও নেকাব পরিহিত চারজন তাকে মাদরাসা ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়।  নুসরাত রাজি না হওয়ায় ওই চারজন তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।’

অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে ফেনী সদর হাসাপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আনা হয়। সোমবার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নুসরাতকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৭ মার্চ ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে রাফির শ্লীলতাহানি করেন বলে তার ভাই জানান।  রাফি পরিবারকে বিষয়টি জানালে তার মা সোনাগাজী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন।  মামলার পর পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।