বৃহস্পতিবার ২৫শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ১২ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

মুজিববাদ থেকে জিয়াবাদ

আপডেটঃ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ | এপ্রিল ১১, ২০১৯

 
সৈয়দ মুন্তাছির রিমন: একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রশ্নকরি কোথায় আমার স্বাধীনতা। সত্যিকার অর্থে এই পৃথিবীতে স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই। তাই আবার প্রশ্নকরি কোথায় আমার আদশ্য? যদি ধর্মই নীতি ও আদশ্য হয় তাহলে মানবতা কোথায়? হ্যা মানবতা! যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষিত হয় সেটাই মানবতা।
 
এবার আসা যাক আমার জন্মভূমির রাজ্যে। আজ এদেশে ২২ টি পরিবার থেকে ২২ হাজার পরিবার হয়েছে। এরাই দেশের প্রধান নিয়ন্ত্রক। এদের সুবিধার জন্য রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের পলিসি পরিবর্তন ও পরিমার্জন হয়। যতদিন দেশে ছিলাম ততদিন মেধা কিংবা পারিবারিক উন্নত মন মানসিকতায় সহজ ও সরল জীবন পেয়েছি। তবে এদেশের চলমান সমাজ ব্যবস্থা, অফিস ও আদালত আমায় বিরুপ আচরণ করেছে। তবুও ঐ ২২ কিংবা ২২ হাজার পরিবারে একজন হয়েও সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের সাথে প্রতারণা করিনি। তাই শোষকের সাথে আপোষ করিনি। হ্যা জীবন চলার পথে তথাকথিতদের বিদ্রোপ বা প্রতিকুল পরিবেশে লড়াই আর কৌশলে অধিকার আদায় করে নিতে হয়েছে।
 
আমি ভেবেছি বাস্তবতা। আমি দেখেছি আমার পরিবার, আমার স্বাধীনতা, আমার রাষ্ট্র অতঃপর চেয়েছি একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ। আমি প্রত্যক্ষ ভাবে নিজ চোখে রাষ্ট্রের সকল কাঠামো অবলোকন করেছি। কিন্তু ভবিষ্যত দেখেছি অন্ধকার। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বপ্ন সুখি শান্তিময় দিন গুলোর বইয়ের পাতায় পড়েছি। যেখানে সদ্য স্বাধীন দেশের রাষ্ট্র নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দূর্নীতির করাল গ্রাসে লুটপাটের মহড়া দেখে ফুফিয়ে ফুফিয়ে কেঁদেছেন। তিনি প্রকাশ্যে প্রতিরোধের পরিকল্পনা প্রনয়ন করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবায়নের সময় ওরা দেয়নি। বরং চিরকালের জন্য গোটা পরিবারকে মুছে দিয়েছে। তারপর মুক্তিযুদ্ধোরা তীলে তীলে স্বাধীন দেশে অবহেলা আর লজ্জায় আত্নহত্যা করেছে।
 
অন্যদিকে ইতিহাসের পট-পরিক্রমায় রাজনীতির নৈরাজ্যে কেউ মুজিববাদ কিংবা কেউ আবার জিয়াবাদ নতুবা ধর্মবাদ নিয়ে দলে দলে কোন্দলে রাজপথ মাতিয়ে ব্যক্তি স্বার্থ আদায়ে সরব হয়েছে। আর সাধারণ জনগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার গুলো গলাটিপে হত্যা করছে। বৃটিশ তাড়িয়েছি কিন্তু তার শোষণ তাড়াতে পারিনি। এদেশের প্রতিটি দপ্তর কিংবা যন্ত্রে পেতাত্তা ও ইতর সম্প্রদায় বেড়ে উঠে।
 
এদেশে কি নেই? এই বাংলায় সবই আছে। কিন্তু একটি মৌলিক পদার্থ নেই। যে পদার্থটি প্রাণীকে মানুষ হিসেবে উচ্চ মর্যাদায় নিয়ে যায়। আর সেটি হলো নীতি-আদর্শ্য ও দেশপ্রেম। আমার কথা গুলো সবাই চোখ বুঝে মেনে নেয়। কিন্তু রাতের অন্ধকারে ঠিকই পতিতালয়ে আসন পাতে।
 
এদেশের নাগরিক হিসেবে তুমি কি জানো কিংবা কখনো কি ভেবে দেখেছ? এই ২২টি কিংবা ২২ হাজার পরিবারের আরেকটি রাষ্ট্র আছে। সাধারণ ভাবে রাষ্ট্রের ভিতর রাষ্ট্র। সমাজের ভিতর সমাজ। যে রাষ্ট্র ও সমাজ রাত্রি ১০টার পর শুরু হয়। আর তখন আসল কলকাঠি নাড়া হয়। এদেশে দিনের আলোয় যা কিছু চোখের সামনে দৃশ্য বা অদৃশ্যে ঘটে তা অভিনয় কিংবা কোন সিনেমা হলের চিত্রনাট্য মাত্র।
 
এদেশের একটি উদাহরণ কি দিতে পারবে? যেখানে দেশপ্রেম নিয়ে সাধারণ জনগণের কল্যাণে কাজটি করা হয়েছে। তুমি হয়তো সরকারের (প্রতিটি) অনেক উন্নয়নের ইতিহাস তুলে ধরবে। আমিও এসব ভাল করে জানি। তাই সবার দৃশ্যমান একটি প্রকল্পের কথা বলি তা হলো ফ্লাইওভার। এই ফ্লাইওভার নির্মাণে ঢাকা শহরে কি যানযট কমেছে? না-কমেনি। বরং আরো বেড়েছে। সাধারণ ভাবে প্রশ্ন জাগে বাড়লো কিভাবে? আরে বোকা তুই বুঝিসনি? এই ফ্লাইওভার দেওয়ার কারণে ব্যবসা ভাল হয়েছে। আগের চেয়ে বেশি গাড়ী আমদানি হয়েছে। রোড় পারমিট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ীর লাইসেন্স আরো কত কী? শুধুই টাকার খেলা।
 
আমরা কি পেরেছি? কিংবা কোন আইন কি বাস্তবায়ন করতে পারবো আগামী ৫ বছর কোন নতুন গাড়ী রোড় পারমিট দেওয়া হবে না। কোন অন টেস্ট গাড়ী রাস্তায় চলতে পারবে না। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন করে রাজপথ কাঁপিয়ে দিয়েছি। কিন্ত লাভ কি হলো? মিডিয়া আর ফেইসবুকের খাবার মুখে তুলে দিয়েছি। কিছু বুদ্ধিজীবীদের হলুদ খামটা মোটা করে দিয়েছি। আর জনগণ ও রাষ্ট্রের অবনতি হয়েছে। সুবিধাবাদীদের বিজয় হয়েছে। গণতন্ত্র ও মানবতা হুছুট খেয়েছে।
 
লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট।