রবিবার ২১শে জুলাই, ২০১৯ ইং ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

বর্ষবরণে নাশকতার ঠেকাতে র‌্যাবের নিরাপত্তা বলয় জোরদার সহ বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে ———– র‌্যাবের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক

আপডেটঃ ২:০৩ পূর্বাহ্ণ | এপ্রিল ১৩, ২০১৯

এস,এম,মনির হোসেন জীবন ॥ পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাবের) ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, পহেলা বৈশাখ তথা বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে রাজধানীর রমনা পার্ক, সোহরওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গুলোতে নাশকতা ঠেকাতে র‌্যাবের নিরাপত্তা বলয় জোরদার সহ বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখের দিন রাজধানীতে যে কোন ধরনের নাশকতা ঠেকানোর জন্য রাজধানীর সবগুলো ভেন্যুকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে এবং তা সার্বক্ষনিক ভাবে র‌্যাব পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি যে কোন ধরনের নাশকতা ঠেকাতে র‌্যাব সদস্যরা প্রস্তুত আছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিকল্পনা ইতি মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে দেশের মানুষ নববর্ষ উদযাপন করতে পারে।

 শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর রমনা বটমূলে পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানকে ঘিরে র‌্যাবের সার্বিক নিরাপত্তা বলয় ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

র‌্যাবের এই প্রেসব্রিফিংয়ে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, র‌্যাবের আইনও গনমাধ্যম শাখার মূখপাত্র কমান্ডার এম মূফতি মাহমুদ খান, র‌্যাব-৩ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমরানুল হাসান সহ র‌্যাবের অন্যান্য ব্যাটালিয়ন কর্মকর্তারা এসময় সাথে ছিলেন।

পহেলা বৈশাখ ঘিরে কোনো ধরনের হুমকি আছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কর্নেল মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কোনো হুমকির খবর আমাদের কাছে নেই। রাজধানীতে র‌্যাবের পাঁচটি ব্যাটেলিয়ানের অধিকাংশ কর্মকর্তারাই নববর্ষের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।

ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল জাহাঙ্গীর আলম প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদেরকে বলেন, রমনা বটমূল, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে নববর্ষের দিন বড় ধরনের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। পাশাপাশি অন্যান্য স্থানে বর্ষবরণের নানা ধরনের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।

এসব অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য নাশকতার ঠেকানোর জন্য র‌্যাবের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।তিনি বলেন, এছাড়া রাজধানীর বাইরে দেশের অন্যান্য জায়গায় নববর্ষের বিশেষ প্রোগ্রাম হচ্ছে সে সব জায়গায় ও র‌্যাব সদস্যরা পূর্ণ নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।কর্নেল জাহাঙ্গীর আলম প্রেসব্রিফিংয়ে বলেন, রাজধানীতে নববর্ষ উপলক্ষ্যে সব ভেন্যু সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসা হবে। রমনা বটমূলসহ গুরুত্বপূর্ণ সব ভেন্যুতে ডগ স্কোয়াডসহ বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট সুইপিং করবে। নববর্ষের বড় বড় ভেন্যুতে আমাদের মোবাইল পেট্রোল, মোটরসাইকেল পেট্রোল, অবজারভেশন পোস্ট থাকবে।

তিনি আরো বলেন, বড় ভেন্যুগুলোর সার্বিক মনিটরিং কার্যক্রম করার জন্য আমরা কন্ট্রোলরুম স্থাপন করেছি। বড় ভেন্যুতে মোবাইল কোর্টসহ মেডিকেল টিম থাকবে, যাতে দেশের মানুষ  নববর্ষ উদযাপন করতে পারে।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, শুক্রবার থেকেই বর্ষবরণ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় র‌্যাবের গোয়েন্দা কার্যক্রম চলছে এবং আগামীকাল থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে তা মনিটরিং করা হবে; যা নববর্ষের রাত দশটা পর্যন্ত থাকবে। ইতোমধ্যেই গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছি এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করছি, যা চলমান আছে এবং অনুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত চলমান থাকবে।

তিনি বলেন, নববর্ষ উদযাপনে রমনায় স্ট্রাইকিং রিজার্ভ, ইভটিজিং রোধে মোবাইল কোর্ট থাকছে। টহল, ফুট পেট্রোল, ওয়াচ টাওয়ার, মোটর সাইকেল পেট্রোলের ব্যবস্থা থাকছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি রমনা বটমূলের পাশে বয়স্ক, নারী ও শিশুদের বিশ্রামের জন্য বৈশাখী লাউঞ্জ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ক্লান্ত বয়স্কদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরা বিশ্রাম নিতে পারবেন।

র‌্যাব-৩ এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমরানুল হাসান সাংবাদিকদেরকে বলেন, নববর্ষের আয়োজন ঘিরে রমনাসহ ঢাবি এলাকায় কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করা হয়েছে। এখানে আমরা পাশ্ববর্তী কয়েকটি ক্যাম্পের সহযোগিতা নিয়েছি। তিনি আরো বলেন,পহেলা বৈশাখ উদযাপন নিয়ে রমনা বটমূলসহ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে র‌্যাব-৩। রমনা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা নিজেদের ক্যাম্পের মধ্যে পড়ায় এ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে তারা।