রবিবার ২৬শে মে, ২০১৯ ইং ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

রাজধানীতে মানব পাচারকারী সংঘবদ্ধ প্রতারক ও দালাল সিন্ডিকেট চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব

আপডেটঃ ৫:৪৭ অপরাহ্ণ | মে ১৭, ২০১৯

এস,এম,মনির হোসেন জীবন ॥ বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ইউরোপে পাঠানোর সময় সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় জড়িত মানব পাচারকারী সংঘবদ্ধ দালাল ও প্রতারক সিন্ডিকেট চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। আটককৃতরা হলেন- আক্কাস মাতুব্বর (৩৯), এনামুল হক তালুকদার (৪৬) ও আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া (৩৪)।

আজ শুক্রবার ভোররাতে রাজধানীর আব্দুল্লাপুর, খিলক্ষেত ও বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাদের আটক করে এলিট ফোর্স র‌্যাব-১ এর একটি দল।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক সিনিয়র এএসপি (মিডিয়া) মো: মিজানুর রহমান ভুঁইয়া আজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এবিষয়ে আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ওই সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বক্তব্য রাখেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এসময় এলিট ফোর্স র‌্যার-১ এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্ট্যান্ট কর্ণেল সার ওয়ার বিন কাশেম, র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক মেজর রইসুল আযম মণি সহ অন্যান্য র‌্যাব কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।সংবাদ সম¥েলনে কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান সাংবাদিকদেরকে বলেন, সম্প্রতি লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে কমপক্ষে ৩৯ জন বাংলাদেশি নিখোঁজ হয়েছেন। জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ১৪ জন। এ ঘটনার পর আবারও আলোচনায় আসে বাংলাদেশ থেকে নৌপথে মানবপাচারের বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন অ লে স্বল্প আয়ের মানুষদের টার্গেট করে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখাতো এরা। এর পর বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে অবৈধভাবে সাগর পথে তাদের ইতালি পাঠানো হতো, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

মূফতি মাহমুদ খান বলেন, আটককৃতদের মধ্যে আক্কাস মাতুব্বরের বাড়ি শরীয়তপুর, এনামুল হক তালুকদারের বাড়ি সিলেট ও আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এদের মধ্যে সিলেটের জিন্দাবাজার এলাকায় এহিয়া ওভারসিজের মালিক এনামুল হক। তিনি রাজ্জাককে সঙ্গে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। আক্কাত মাতুব্বর একজন দালাল।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তারা বলেন, ঘটনার তদন্তে নেমে ইউরোপে মানবপাচারের সঙ্গে দেশজুড়ে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি চক্রের তথ্য পেয়েছে (র‌্যাব)। এর মধ্যে ৫ থেকে ৬টি চক্রের মাধ্যমে পাচার হওয়া বাংলাদেশিরা সেদিন নৌ-দুর্ঘটনায় পতিত হন।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানান, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে বিদেশে প্রেরণকালে এলিট ফোর্স র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত র‌্যাব ২০৯ টি অভিযান পরিচালনা করেন। তার মধ্যে ৭০৪ জন পুরুষ ও ১১০ জন নারীসহ সর্বমোট ৮১৪ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় মোট ৬০৯ জন গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মূফতি মাহমুদ খান বলেন, ভিকটিমদের পাসপোর্ট তৈরি, ভিসা সংগ্রহ, টিকিট ক্রয় এই সিন্ডিকেটের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। ইউরোপে পৌঁছে দিতে তারা ৭-৮ লাখ টাকা অর্থ নির্ধারণ করে, এর মধ্যে সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা লিবিয়ায় পৌঁছানোর আগে এবং বাকি টাকা লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাত্রার আগে পরিশোধ করতে হয়। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দুই মাস থেকে এক বছর সময় লাগে। এর মধ্যে অধিকাংশ টাকা পরিশোধ হয়ে যায়, ফলে ইচ্ছা থাকলেও আর ফেরত আসতে পারেন না ভুক্তভোগীরা।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, গত ৯ মে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরের নৌকা ডুবিতে প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশি ছিলেন ৩৯ জন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভিকটিমের স্বজনরা শরীয়তপুরের নড়িয়া ও সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় দুইটি মামলা দায়ের করেন। তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।