মঙ্গলবার ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

রাজধানীর উত্তরা অবৈধ মিনি বাসের  দাপট-কার জোরে ?

আপডেটঃ ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ | মে ২২, ২০১৯

মোঃ সাইফুল ইসলাম(একা)- উত্তরা-:যানজটের নগরী ঢাকার গণপরিবহনে সবচেয়ে বিপদজনক মিনি বাস বাহনটির। ‘রুট পারমিট’ অন্য কাগজ পত্র না থাকলেও ‘অবৈধ’ কাগজ নিয়ে সব রুটেই চলছে দুর্দান্ত প্রভাবে। এমনকি এদের কাগজ আছে কি নেই সে নিয়েও কারো কোনও মাথা ব্যাথা নেই। চকচকে প্রাইভেট কার থামিয়ে গাড়ির কাগজ পরীক্ষা করলেও, এসব মিনি বাস নিয়ে নেই মাথা ব্যথা ট্রাফিক পুলিশের। এরা ধরা ছোয়ার বাহিরে। দাঁড় করিয়ে কখনও কাগজ চেক করতে দেখা যায় না।
 
গায়ে কেবল নিজেদের ইচ্ছেমতো রুট  লিখে নিলেই হয়। এসব কারণ হিসেবে ট্রাফিক সার্জেন্ট ও অন্যান্য গাড়ির চালকরা বলছেন, ট্রাফিক পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে তাদের লেনদেনের চুক্তি আছে। এমনকি এসব গাড়ির মালিকানায়ও আছে পুলিশ !
 
সকাল সাড়ে দশটা। টঙী স্টিসন রুট থেকে  নবীনগর  দিকে যেতে হাতের বামে থেমে গেল কামারপাড়া একটি  জনসেবা বাস। গায়ে লেখা স্টিসন রুট টু নবীনগর । গাড়ি থেকে নেমে ছেলেকে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ালেন হাসিবা খাতুন(৩৮)। তিনি বলেন, ‘যেখান-সেখানে এসব। অকেজো পুরাতন মিনি বাস  বন্ধ হয়ে গেলে পথেই নেমে যেতে হয়। এদের সঙ্গে কথা বলে কোনও লাভ নেই।’
 
কেন এসব গাড়িতে ঝুঁকি নিয়ে চলেন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বড় বাসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগে। এরা একটু আগে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। মূলত সে কারণেই উঠা। তবে এসব গাড়ির হাল ভীষণ খারাপ।’ গত এক বছরে কখনও এদের গাড়ির কাগজ চেক করতে দেখেছেন কিনা প্রশ্নে তিনি না সূচক বক্তব্য দেন।
 
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। ধউর বেড়িবাঁধ  আটকা গাড়ি। হঠাৎ ডান পাশের মহল্লা কামারপাড়া  রাস্তায় ঢুকে পড়ে একের পর এক জনসেবা সৈকত ও আব্দুল্লাহপুর টু  মিরপুর-১। একজন তালতলা  নামবো বলে চিৎকার দিতে সামনের রিক্সাকে ধাক্কা দিয়ে আব্দুল্লাহপুর টু মিরপুর ১। মিনি বাস টি  ব্রেক করে এবং ওই যাত্রীকে নামিয়ে দেয়, মহল্লার ভিতরেই চলে  বেপরোয়া গতিতে । এভাবে মহল্লায় কেন গাড়ি ঢুকলো প্রশ্নে। চালক মনির বলেন, ‘এই জ্যামে না বসে ভিতর দিয়ে আগে যেতে পারবো।’ কিন্তু যাত্রীরা তো বলে  আপনি মেডিকেল ও  তালতলা দিয়ে যাবেন বলে উঠেয়েছেন, প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘কথা বলে লাভ নাই, তালতলা একজন ছিল তাকে নামিয়ে দিয়েছি ধউর।’
 
কোনও রুট নির্ধারিত না থাকা বিষয়ে ট্রাফিক সার্জেন্টরা বলছেন, ‘এটির পিছনে বড় ধরণের সিন্ডিকেট আছে। এদের কেউই কিছু করতে পারে না।’
জনসেবা, সৈকত ও আব্দুল্লাহপুর টু মিরপুর,এই মিনি বাস  চালনোর ক্ষেত্রে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে ।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হেলপার বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে ট্রিপ প্রতি  ৩০০ শত টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। এর বলে গাড়ির  কাগজ ছাড়া চালাইতে পারি। না হলে তো বসেই থাকা লাগতো।’
 
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক করা শর্তে একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট জানান, এসব গাড়ির মালিক-চালকদের সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশ ও থানা পুলিশ  কতিপয় কিছু সাংবাদিক আরো বিআরটিএ কর্মকর্তাদের লেনদেনের চুক্তি রয়েছে। আমরা জানি কিন্তু কিছু বলি না। কারণ এদের সব জায়গায় সেটিং আছে। খামখা আমাকে আমার জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে, কী দরকার।
 
তিনি আরও বলেন, ‘এসব গাড়ি চালায় ১৮বছরের কম বয়সী কিশোররা, হেলপার হিসেবে থাকে ১২-১৫ বছরের নীচের শিশুরা। আমাদের সামনে দিয়েই এসব চলছে। কিন্তু বলার কিছু নাই।’
 
রাজধানীর রাস্তায় বিপুল সংখ্যক অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারণে ভয়াবহ যানজটের কথা স্বীকার করে ট্রাফিক পুলিশের উপ কমিশনার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মাঝে মাঝে আমরা ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র ও ফিটনেস না থাকা যানবাহন আটকের জন্য অভিযান চালাই। এসব ক্ষেত্রে কখনও কখনও এদের মালিকরা এসে রাজধানীতে চলাচল করবে না এমন মুচলেখা  দিয়ে এবং কাগজপত্র সংশোধন করে নেবে সেই শর্তে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু কথা রাখে না।’
 
এসব মিনি বাসের সঙ্গে পুলিশের মালিকানার সম্পর্ক থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার এ বিষয়ে জানা নেই।’নিউজ সুত্রে এ বিষয়ে মালিকসমিতির সভাপতি মোঃ আনোয়ারের  মুঠফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে বন্ধ দেখান।