মঙ্গলবার ২৪শে জুন, ২০১৯ ইং ১১ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

চিলমারীতে ৩ কেজি ধানে মিলে ১ কেজি লবন !

আপডেটঃ ১:২৮ পূর্বাহ্ণ | মে ২৫, ২০১৯

এম.জি.ছরওয়ার:-চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃকখনো খড়া অথবা বন্যা আবার কখনো রোগ পোকা বা দুর্যোগ কেড়ে নেয় কৃষকের ক্ষেতের ফসল তবুও থেমে থাকে না কৃষক চালিয়ে যায় তাদের কার্যক্রম। সব কিছু মেনে নিলেও এবারে ধানের নিম্ন দাম আর লোকসান মেনে নিতে পারছেনা কৃষক। শুধু ঝড়ছে দু’চোখের জল। মুখে নেই কোন কথা, নেই কোন উৎসব শুধুই বাড়ছে হতাশ। চলতি মৌসুমে চিলমারী উপজেলার ভাল ফলন দেখে কৃষকের মন যেমন আনন্দে ভরে গিয়ে ছিল ঠিক ফসল ঘরে তোলার সময় ধানের দাম না থাকায় কৃষকরা যেন বোবা হয়ে গেছে। তিন কেজি ধানের মূল্য দিয়ে এক কেজি লবন মিললেও এক মণ ধানে মিলছেনা এক কেজি গরুর মাংস! জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারীতে চলতি বোরো সৌসুমে ফলন বেশ ভাল হয়ে ছিল। ফলন দেখে কৃষকরাও বেশ খুশি ছিল। ছিল তাদের মনে নানান স্বপ্ন, ছিল বুক ভরা আশা। কিন্তু আশা আর স্বপ্ন কৃষককে বিলিন করে দিয়েছে ধানের নিম্ন দাম। ধানের দাম নিয়ে অখুশি হয়ে পড়েছে কৃষক। চিলমারী উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ও এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ধান প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। অথচ এক কেজি গরুর মাংস বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা। কৃষকদের সাথে কথা হলে তারা ক্ষোভের সাথে জানান, হামার কি কেউ খবর নিবে? হামার ক্ষতি হইলেই কি আর মরলেই কি?কৃষক আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, ৬০ শতক জমির ধান চাষ ও সার বাবদ খরচ যা হয়েছে এখন ধান কাটতে শ্রমিকের মুজুরী দিতেই প্রায় শেষ। এখন লেকসান গুনতে হচ্ছে মণ প্রতি প্রায় দেড়শত টাকা পর্যন্ত। কৃষক সিফুল মিয়া বলেন, ধান বিক্রি করে শ্রমিকের মূল্য দিতেই মূল ধন শেষ এছাড়াও ধানে দাম না থাকায় কেউ জমি বর্গা নিতেই চাচ্ছে না। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৬ হাজার ৮ শত ৪০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৩৭ হাজার ৬ শত ৭৫ মেঃ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছ।এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ খালেদুর রহমান বলেন, এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই এছাড়াও অনেক কৃষকদের বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ দিচ্ছি যেন তারা ক্ষতির মুখে না পড়ে এবং লোকসান হলেও তা যেন পুষিয়ে নিতে পারে।