বুধবার ২৬শে জুন, ২০১৯ ইং ১২ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিন ১৪ বছর যাবৎ বিকল  ! নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর

আপডেটঃ ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ | মে ২৬, ২০১৯

এম.জি.ছরওয়ার:-চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃঅনিয়ম যেন নিয়মে এসে দাড়িয়েছে। দুর্নীতি যেন নীতিতে পরিণত হয়েছে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। নেই নিয়ম নেই প্রতিকার শুধু চলছে অজুহাত। সমস্যার আর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে হাসপাতালে আগতদের। এদিকে ২০০৫ সালে চিলমারী হাসপাতালে ৩০০ এম এ এক্স-রে মেশিন আসলেও কেটে যায় প্রায় ১৪ বছর এরপরও চালু হয়নি মেশিনটি কিন্তু মেরামতের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করতে ভুল করেননি কতৃপক্ষ। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিন ১৪ বছর যাবৎ বিকল থাকায় আগত রোগীদের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। তবুও নজর নেই কতৃপক্ষের। জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দিনে দিনে যেন নিজেই রোগের ভারে নুইয়ে পড়ছে। শুধু নেই আর নেই। আর সেই সাথে শুরু থেকেই এক্স-রে মেশিনের সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে উপজেলাবাসী।

অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে কতৃপক্ষ চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি উন্নত মানের ৩০০ এমএ এক্স-রে মেশিন প্রেরণ করেন। এর কিছুদিন পর একজন টেকনিশিয়ানও যোগদান করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে তা চালু করা হয় নি। তবে চালু না করলেও দায়িত্বরত কতৃপক্ষ নষ্ট দেখিয়ে মেরামতের জন্য প্রথমে দফায় ২৮ হাজার পরে ২ লক্ষ ৬ হাজার টাকা বরাদ্দ আসলেও তা কাগজ কলমে দেখিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও ৩য় বারেও মেরামতের জন্য আবেদন করা হয়েছিল তবে সেই বরাদ্দের বিষয় কোন তথ্য দেননি অফিস কতৃপক্ষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্টাফ জানান, আমরা আর কি বলবো মেশিন চালুই হলো না আবার নষ্ট হলো মেরামতের জন্য বরাদ্দ আসলো আবার নষ্টও থাকলো। এলাকার বেশ কিছু লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় হাসপাতালে যে এক্স-রে মেশিন আছে এটাই অনেকে জানেন না।

চিলমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়ে প্রতিদিন পুরুষ, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে গড়ে প্রায় শতভাগ রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেয়। এছাড়াও জরুরী বিভাগ ও আউটডোরে চিকিৎসা নেয় প্রায় শতশত রোগী। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিলমারী উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী সুন্দরগঞ্জের মন্ডলের হাট, কারেন্টবাজার, কাশিমবাজার, উলিপুরের সাদুল্লাহ, বাবুরহাট, বজরা সহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের রোগীর আগমন ঘটে। এতে করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির রোগী বাড়লেও একমাত্র এক্স-রে মেশিনের অভাবে রোগীদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে গিয়ে চড়ামূল্যে এক্স-রে করতে হচ্ছে। বছর কে বছর ধরে রোগীদের ভোগান্তি অভাবনীয় পর্যায়ে পৌছুলেও দেখার কেউ নেই।

এখানে নিয়োজিত এক্স-রে ম্যান সুলতান দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করে অবশেষে কাজের সন্ধানে বদলি হয়ে গেছেন অন্যত্র। একাধিক রোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে কোন পরীক্ষা বা এক্স-রে দরকার হলে হাসপাতালের ডাক্তার এবং স্টাফরা তাদের পছেন্দের ক্লিনিক দেখিয়ে সেখানে থেকে পরীক্ষা করার জন্য বলে দেন আর অন্যদিকে হাসপাতালের মেশিন নষ্ট করে ফেলে রাখছেন। এ ব্যাপারে দায়িত্বতে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোছাঃ মোস্তারী বেগম জানান, এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘদিন থেকেই নষ্ট হয়ে পড়ে আছে এবং মেশিনটি মেরামতের সম্ভাবনা নেই ইতি মধ্যে নতুন মেশিনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে রোগীদের প্রয়োজনে অবিলম্বে একটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন প্রতিস্থাপন করলে এখানে আগত রোগীরা এক্স-রে ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতো।