মঙ্গলবার ২৪শে জুন, ২০১৯ ইং ১১ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

২০২২ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে মেগা প্রকল্পের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন

আপডেটঃ ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ | মে ৩১, ২০১৯

এস,এম,মনির হোসেন জীবন : বর্তমান সরকারের শাসনামলে রাজধানী ঢাকাবাসির যানজট পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে সরকারের বাস্তবায়নাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ২০২২ সালের ডিসেম্বরে মধ্যে সম্পন্ন করা হবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মেগা প্রকল্পটি। তিন ধাপে কাজ ভাগ করে নির্মিত হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (পিপিপি) মেগা প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) অধীন সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানির (ইতাল থাই) সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও অর্থায়ন করছে ব্যাংককভিত্তিক বহুজাতিক এ প্রতিষ্ঠানটি।

প্রকল্প সুত্রে জানা যায়, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে কুড়িল- বনানী- মহাখালী- তেজগাঁও- মগবাজার- কমলাপুর- সায়েদাবাদ- যাত্রাবাড়ী হয়ে চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এর মূল লাইনের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। আর ৩১টি র‌্যাম্পের দৈর্ঘ্য ২৭ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে এ প্রকল্পে উড়াল সড়ক তৈরি হচ্ছে মোট ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা যায়, এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এরমধ্যে সাপোর্ট টু ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ব্যয় ৪ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা ও ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিংয়ে (ভিজিএফ) ব্যয় হচ্ছে ২ হাজার ৪১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সাড়ে ৩ বছরের নির্মাণ সময়সহ (কনসেশন পিরিয়ড) ২৫ বছরে বিনিয়োগ তুলে নেবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইতাল থাই।সুত্রে জানা যায়, তিন ধাপে কাজ ভাগ করে নির্মিত হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। প্রথম ধাপে ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বনানী রেলস্টেশন পর্যন্ত ৭ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার, দ্বিতীয় ধাপে বনানী রেলস্টেশন থেকে মগবাজার রেলক্রসিং পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৩০ কিলোমিটার এবং তৃতীয় ধাপে মগবাজার রেলক্রসিং থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। প্রকল্পটির মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর। চলতি বছরের নভেম্বরে প্রথম ধাপ, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে দ্বিতীয় ধাপ ও ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তৃতীয় ধাপের কাজের মাধ্যমে প্রকল্পটি শেষ করার কথা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৩৩টি পাইল, ৩০০টি পাইল ক্যাপ, ৭৯টি ক্রস বিম, ১৮৭টি সম্পন্ন কলাম, ১১৯টি আংশিক সম্পন্ন কলাম, ১৮৬টি আই গার্ডার নির্মাণ শেষ হয়েছে। শেষ হয়েছে ১৪টি স্প্যানে আই গার্ডার স্থাপনের কাজ।

অপর দিকে, উত্তরা তৃতীয় ফেজ সংলগ্ন বাউনিয়া, বড় কাকড় ও দ্বিগুণ মৌজায় বহুতল বিশিষ্ট ভবন ও অন্যান্য সুবিধা নির্মাণ হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য। এরমধ্যে ভবনের পাইল কাস্টিং ও পাইল ড্রাইভিং শেষ হয়েছে। গ্রেট বিম, ফ্লোরসহ আনুষঙ্গিক নির্মাণও কাজ পুরোদমে চলছে।

এদিকে, গত ২০ মে,২০১৯ দুপুরে রাজধানীর বনানী মহাখালীস্থ সেতু ভবনের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলি নদীর তলদেশে সড়ক টানেল নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনামূলক এক জরুরী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিপিপি প্রকল্পের ভৌত কাজে এ পর্যন্ত ১৩৩৩টি পাইল, ৩০০টি পাইল ক্যাপ, ৭৯টি ক্রস-বিম, কলাম ১৮৭ (সম্পূর্ণ) ও ১১৯টি (আংশিক), ১৮৬টি আই গার্ডার নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও ১ম ধাপের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে এবং ২য় ও ৩য় ধাপের ক্ষতিপূরণ প্রদাান চলমান আছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরে সাবওয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো) নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা কাজের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান (টিওয়াইপিএসএ) ইনসেপশন রিপোর্ট দাখিল করেছে এবং আগামী জুন মাসের মধ্যে ইনটেরিম রিপোর্ট দাখিল করবে। ডিসেম্বর ২০২০ নাগাদ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হবে।এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের (এমপি) বলেন, অর্থায়ন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কেটে গেছে। ফলে দ্রুৃত সময়েই কাজ শেষ করা হবে। আশা করছি ২০২২ সালের ডিসেম্বরেই সম্পন্ন করা হবে এই মেগা প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ।

তিনি আরও বলেন, এ প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজের অগ্রগতি যথেষ্ট ভালো হয়েছে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে এ ধাপের উন্নয়নমূলক কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।