বুধবার ২৬শে জুন, ২০১৯ ইং ১২ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

কোন পথে যাচ্ছে চালকবিহীন গাড়ি

আপডেটঃ ১:২৬ পূর্বাহ্ণ | জুন ০৮, ২০১৯

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক: চালকবিহীন গাড়ি, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তি। প্রযুক্তিবিদদের ধারণা, এই চালকবিহীন গাড়ি ভবিষতের রোবোটিক আধিপত্যের অন্যতম নিয়ামক হয়ে দাঁড়াবে। এ প্রতিবেদনে একনজরে দেখে নিন চালকবিহীন গাড়ির আদ্যোপান্ত।

প্রথম চালকবিহীন গাড়ি
চালকবিহীন গাড়ির প্রথম দেখা মিলে ২০০৪ সালে। তবে সেটি ছিল খুবই স্বল্প পরিসরে। সফলতার মুখ দেখা প্রথম চালকবিহীন গাড়িটি মাত্র সাত মাইল পথ পাড়ি দিতে পেরেছিল। এটি ছিল মূলত আমেরিকা সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের মানুষবিহীন ট্রাক নির্মাণের একটি প্রজেক্টের অংশ, যেখানে ডারপা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য এই গাড়িগুলো তৈরি করা হয়েছিল।

এর কয়েক বছর পর টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক ঘোষণা করেন যে, তারা তাদের গাড়িগুলোতে চালকবিহীন গাড়ির প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। ২০১৪ সালের ৯ অক্টোবর ‘টেসলা মডেল এস’ গাড়িটির মাধ্যমে কোম্পানিটি চালকবিহীন গাড়ির দুনিয়ায় পা রাখে। পরবর্তীতে উবার এবং লিফ্ট এর মতো রাইড শেয়ারিং সার্ভিসগুলোও চালকবিহীন গাড়ির প্রতি আগ্রহ দেখায়। ২০১৫ সালে উবার তাদের প্রচেষ্টা অংশ হিসেবে কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির রোবোটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পাওয়ার হাউজ থেকে কয়েক ডজন বিজ্ঞানীকে দলে ভেড়ায়।

চালকবিহীন গাড়ি: বর্তমান হালচাল
বর্তমানে এই প্রযুক্তিটি এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কোনো গাড়ি প্রস্ততকারী কোম্পানিই এটিকে উপেক্ষা করতে পারছে না। ফোর্ড, জেনারেল মটরস, নিসান, টেসলা, মার্সিডিজ সহ সকল কোম্পানিই বর্তমানে চালকবিহীন গাড়ি তৈরিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছে। শুধু তাই নয়, ছোট কোম্পানিগুলোও এখন চালকবিহীন গাড়ির অন্যতম অনুষঙ্গ উন্নত রাডার, ক্যামেরা, লিডার, মানচিত্র, ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ইত্যাদি তৈরির মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর এই প্রযুক্তির বাজারে নিজেদেরকে এগিয়ে রাখছে।

চালকবিহীন গাড়ি যেভাবে পথচারীদের চিহ্নিত করে
চালকবিহীন গাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিল সেই প্রযুক্তির উদ্ভাবন করা যার মাধ্যমে এই গাড়িগুলো পথচারী এবং সামনে থাকা অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করতে পারে। মূলত চালকবিহীন গাড়িতে থাকা তিনটি টুলস এ কাজটি করে থাকে।  রাডার, ক্যামেরা এবং লিডার- এই তিনটি টুলস ব্যবহার করেই চালকবিহীন গাড়ির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাকে চিহ্নিত করা হয়।

চালকবিহীন গাড়ির দুনিয়ায় গুগলের পদচারণা শুরু 
চালকবিহীন গাড়ির গোড়াপত্তনের সাত বছর পর, অবশেষে ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর চালকবিহীন গাড়ির একটি প্রকল্প হাতে নেয় গুগল। এ লক্ষ্যে মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটের অধীনে ওয়াইমো নামে নিজস্ব অটোমেটিভ কোম্পানিও তৈরি হয়। আর ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর কোম্পানিটি তাদের তাদের প্রথম চালকবিহীন গাড়ি তৈরি করতে সমর্থ হয়। তবে গাড়িটি পরীক্ষামূলক পর্যায়েই বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এছাড়াও পরবর্তী সময়েও গুগলের চালকবিহীন গাড়ির ভুলে দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ আহতও হয়েছে। আর এ নিয়ে গুগলকে অনেক সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে।

উবারের চালকবিহীন গাড়ির চাপায় এক পথচারীর মৃত্যু
চালকবিহীন গাড়ি নিয়ে সবচেয়ে বড় সমালোচনাটি সৃষ্টি হয় ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ যখন আমেরিকার অ্যারিজোনা প্রদেশের টেম্প শহরে উবারের একটি চালকবিহীন গাড়ির ধাক্কায় একজন পথচারীর মূত্যু হয়। চালকবিহীন গাড়ির কারণে প্রথমবারের মতো মূত্যুর ঘটনা ঘটে সেদিন। যদিও এক্ষেত্রে গাড়িটির পিছনের সিটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একজন চালকও বসা ছিল।

চালকবিহীন গাড়ির ভবিষ্যত
চালকবিহীন গাড়ি কি ভবিষ্যতে চালকদের বেকার করে দিবে? এক কথায় বলতে গেলে সেটি ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ এখনও পর্যন্ত চালকবিহীন গাড়ির প্রযুক্তির অনেক ত্রুটি রয়ে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক প্রযুক্তিতে চালিত এই গাড়িগুলো এখনো পর্যন্ত নিজেদের নির্ভুলতার প্রমাণ দিতে পারেনি। তাই চালকবিহীন গাড়ি কখন পুরোপুরি প্রস্তুত হবে সেটা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না। তবে এটা সত্যি যে, এই প্রযুক্তিটি ধীরে ধীরে সহজলভ্য হচ্ছে। হার্ডওয়্যার এবং রাডারের মূল্যও সহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে। ক্যামেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে টুডি ছবি ধারণ করে তা কম্পিউটারের মাধ্যমে পর্যালোচনা করতে পারছে। যদিও লেজার-শুটিং লিডারগুলো এখনও অনেক ব্যয়বহুল তবে কয়েক ডজন স্টার্টআপ এবং প্রধান কোম্পানিগুলো এর দাম কমাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই সেদিন হয়ত খুব বেশি দূরে নয় যেদিন রাস্তায় শুধুমাত্র চালকবিহীন গাড়িরই দেখা মিলবে।

তথ্যসূত্র : ডিজিটাল ট্রেন্ডস