মঙ্গলবার ২৫শে জুন, ২০১৯ ইং ১১ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদ হতে পারে ভ্রমনপিপাসুদের পর্যটন কেন্দ্র

আপডেটঃ ১:০৪ পূর্বাহ্ণ | জুন ০৯, ২০১৯

এম.জি.ছরওয়ার:-চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ এক সময়ের নাম জাগানো ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই, হাকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে’ ভাওয়াইয়া ও পল্লীগীতির সম্রাট আব্বাস উদ্দিনের গাওয়া এ গানের সেই কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী নদীবন্দরে গড়ে ওঠা ব্রহ্মপুত্র নদের এলাকাটি হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে এখান থেকে সরকার প্রতি বছর পেতে পারে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আয়। দীর্ঘ দিন নদী ভাঙ্গনের পর সাম্প্রতিক কালে শতকোটি টাকা ব্যায়ে ব্রহ্মপুত্রের ডান পাড়ে রক্ষা প্রকল্প নির্মিত হয়েছে।

এর ফলে ব্রহ্মপুত্রের ডানতীরে মনোরম পরিবেশ আরো দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। শুধু তাই নয় নদীতে পাল তোলা নৌকা, জেলে দের মাছ ধরার দৃশ্য, নদীর মাঝে মাঝে ছোট ছোট চরসহ বিভিন্ন ধরনের মন মুগ্ধকর দৃশ্য যে কারো নজর কেড়ে নেয়। নদীর পশ্চিমে সবুজ শ্যামলের ভরা বিভিন্ন শস্য ক্ষেত। নদীর তীরে সকাল বেলার সূর্য্য যেমন হাসতে হাসতে পূর্বদিকে ডিমের কুসুমের মত লালীমা ছড়িয়ে উদিত হতে দেখা যায়, তেমনি বিকেল বেলাতে আকাশের সিঁড়ি বেয়ে লাল আভা ছড়াতে ছড়াতে পশ্চিম আকাশে মুখ লুকায় সেই সুন্দর দৃশ্যে। বর্তমানে তা পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করেছে। প্রতি রমজান ঈদ ও কোরবানী ঈদ উপলক্ষে ঈদের দিন থেকে শুরু করে ঈদের ২য় ও ৩য় দিনে কুড়িগ্রামের চিলমারী, উলিপুর ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, তরুন-তরুনী নির্বিশেষে শত শত স্থানীয় পর্যাটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে চিলমারীর রমনা নদী বন্দর।

বিশেষ করে ঈদের দিনে বিনোদন খোঁজতে ভিড় জমান সাধারণ মানুষ চিলমারী নদীর কুলে এবং নদীর পাদদেশে মনোরম দৃশ্য দেখতে আসে। এবং নদীর কিনারায় ব্লকের উপর দিয়ে সেই পথে চলতে থাকে। কিন্তু বিনোদন ও রেস্ট হাউজ না থাকায় চরম বিপাকে পড়তে হয় তাদের। আগত দর্শনার্থীরা নিরাপত্তাজনিত নানা সমস্যায়ও পড়েন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুললে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে অবসর সময় কাটাতে আসবে বলে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অভিমত ব্যক্ত করেন।

ঘুরতে আসা আছমা, আশা, লিটন মিয়া ও আকলিমা সহ অনেকে জানায়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি চিলমারী নদী বন্দর। এই চিলমারী জুড়েই রয়েছে নানা রকম দৃষ্টিনন্দন স্পট। এখানে পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করা অবশ্যই প্রয়োজন তা হলে একদিকে সুন্দর পরিবেশ গড়ে উঠবে অন্যদিকে সরকার রাজস্ব আয়ও করতে পারবে। অপরদিকে স্থানীয় বাসিন্দা  মমিনুল ও আমিনুল সহ বেশকিছু মানুষ জানান, আমরা তো অতসব বুঝি না পর্যটন কেন্দ্র কি? তবে এই এলাকাটি এখন দেখতে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে তাই তো দেশিও মানুষ ছাড়াও মাঝে মধ্যে বিদেশী মানুষও আসে ছবি তোলে নৌকায় ঘুরে বেড়ায় আবার অনেকে থাকার জায়গাও খোজে এবং পর্যটন পর্যটন বলে। বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম জানান, চিলমারী উপজেলা ব্রিটিশ আমল থেকে নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সে সময় থেকে গড়ে ওঠে চিলমারী  নদীবন্দর। এই নদীবন্দরে দেশ-বিদেশ থেকে বহু জাহাজ এসে ভিড়ত। ব্রহ্মপুত্র নদের ঘাটে গড়ে ওঠে বিশাল বাণিজ্য কেন্দ্র। মারওয়ারী ব্যবসায়ীরা এই নদীবন্দর হয়ে তাদের পণ্য আনা-নেয়া করতেন। এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে আবারো প্রাণ ফিরবে এই নদী বন্দরের  এবং সাথে সাথে সরকারও এই এলাকা থেকে রাজস্ব আয় পাবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা  জানান, দেশের অনেক জায়গার তুলনায় চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদী ও ব্লক বসানো নদীর পাড় ভ্রমণপিপাসুদের জন্য একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবে বেশ পরিচিত। নদীর ডান তীরে  রক্ষা প্রকল্প নির্মান হওয়ায় আরো সোর্ন্দয্য হয়ে উঠেছে এলাকাটি যা দৃষ্টি আকর্ষণ করে সবার।

এরই পাশে রয়েছে সবুজ মাঠ। সবুজে ঘেরা এই মাঠ দেখলে সবার মন জুড়ে যায়। তাই দিন দিন মানুষের পদচারণ এখানে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই চিলমারী স্পটে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে সরকারের রাজস্ব আয়ের একটি বিশাল খাত তৈরি হবে। তাই চিলমারীকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবী।