বুধবার ২৬শে জুন, ২০১৯ ইং ১২ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

জোরারগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী  তাজুল ইসলামের পরিবারের জীবন কাটছে অনাহারে-অর্ধহারে !

আপডেটঃ ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ | জুন ১০, ২০১৯

এম.জি.ছরওয়ার: নিজস্ব প্রতিবেদক:মিরস্বরাই-চট্রগ্রাম থেকে ফিরেঃ চট্রগ্রাম জেলার মিরস্বরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার মধ্যম সোনাপাহাড় গ্রামের আহাম্মদ সোবহান এর ছেলে মোঃ তাজুল ইসলাম (৪৮) হতদরিদ্র পরিবারের একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। স্বচল নয়, অচল। তার দুই পা পঙ্গু। এই প্রতিবন্ধীর পরিবারের জীবন কাটছে বর্তমানে অনাহারে-অর্ধাহারে। প্রতিবন্ধী তাজুল ইসলাম ছোট কাল থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। তার জন্মের ১২ বছর পর থেকেই ধীরে ধীরে তার দুটি পা ছিকন হতে থাকে। সোজা হয়ে দাড়াতে খুব কষ্ট সাধ্য হয়ে উঠে। তবুও তিনি থেমে থাকেননি নিজ বাড়ীতে পিতার সহায়তায় টিন সেডের একটি ঘর নির্মাণ করেন।

তাতে স্থানীয় ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের মাঝে আরবী শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে এবং তাই করেন। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদেরকে অারবী শিক্ষা দিয়ে কিছু টাকা-পয়সা জোগাড় করে পরবর্তিতে বিয়ে করেন রাশেদা আক্তারকে। পরিবার পরিজন নিয়ে এভাবে কেটে যায় তার কয়েক বছর। তার মধ্যে জন্ম হয় দুই মেয়ের। সংসারের সদস্যগণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে স্ত্রী রাশেদা আক্তার ও দুই মেয়ে নাছরিন আক্তার (১৪) এবং নাহিদা আক্তার (১০) কে নিয়ে সংসার জীবনে হিমশিম খেলে তখন স্থানীয় টেইলার্স থেকে সেলাই ও কার্টিং এর উপর প্রশিক্ষন নিয়ে তিনি নিজ বাড়ীতে সেলাই কাজ শুরু করেন। তাতে আশে পাশে ব্যাপক সাড়া পায়। সেলাই কাজ করে তার অভাবের সংসারটাকে কোন রকম খেয়ে-দেয়ে কাটাচ্ছিলেন।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস কয়েক বছর পার হতেই তার দুচোখের অালো ক্রমান্বনয়ে নিভু নিভু হতে থাকে। বর্তমানে তার হাটা-চলা খুবই কষ্ট সাধ্য হয়ে দাড়ায়। হাতে লাঠি ধরে কোন রকম হাট বাজারে যাতায়াত করেন। সেলাইয়ের কাজ করা এখন আর তার পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভব নয়।

একটা প্রতিবন্ধীর কার্ড পাবার আশায় ৩নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড এর মেম্বার মোঃ জামাল উদ্দিন সর্দারের কাছে বিগত তিন বছর থেকে আসা যাওয়া করতে গিয়ে অসংখ্য জুতা ক্ষয় করিয়েছেন বলে ক্ষেভ প্রকাশ করেন এই প্রতিবন্ধী তাজুল ইসলাম। কিন্তু তবুও তার ভাগ্যে জুটেনি মিরস্বরাইয়ের সমাজ সেবা অধিদপ্তর কর্তিক প্রতিবন্ধীর কোন কার্ড। বর্তমানে প্রতিবন্ধী তাজুল ইসলাম তার পরিবার-পরিজন নিয়ে অভাব-অনটনের মাঝে সংসার জীবন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে। তাজুলের কথাই ধরা যাক। জীবন সংগ্রামে এসে কতই না কষ্ট তাঁর। নিজে প্রতিবন্ধী হয়েও একজন সুস্থ্য নারীকে বিয়ে করেছেন। তাতে তাঁর স্ত্রী রাশেদা আক্তারের বিন্দুমাত্রও কোন কষ্ট বা ক্ষোভ নেই।

কষ্ট একটাই চোখের সামনে তারা স্বামী-স্ত্রী সহ দুই কন্যা সন্তান নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। সরকারীভাবে যদি একটি প্রতিবন্ধী কার্ড  জুটে হতভাগ্য প্রতিবন্ধী তাজুল ইসলামের কপালে তাহলে কিছুটা হলে সংসারের অভাব-অনটন দূর হবে। নানা রোগশোকে আক্রান্ত প্রতিবন্ধী তাজুল ইসলাম বর্তমানে দুচোখে খুবই ঝাপসা দেখেন। তার কারনে ঠিক ভাবে চলাচলও করতে কষ্ট হয়। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হয়। নিজে কর্মক্ষক না হওয়ায় পরিবারের কাছে যেন সে বোঝা। মাঝে মধ্যেই বৃদ্ধ মা-বাবা ও স্ত্রীর বকুনীও খেতে হয়।

আর দিনে একবেলা খাবার জোটেতো দু’বেলা থাকতে হয় স্ত্রী ও  মেয়েদের নিয়ে অনাহারে। কবে দিন ফিরবে প্রতিবন্ধী তাজুল ইসলামের পরিবারের? সেই অপেক্ষার প্রহর গুনছেন প্রতিবন্ধি তাজুল ইসলাম। করুনা নয়, প্রতিবন্ধী তাজুল ইসলামের  পরিবারের প্রতি সরকারী এবং বিত্তবানদের সহায়তার হাত সম্প্রসারিত হোক এমনটাই প্রত্যাশা সবার কাছে।