বুধবার ১৯শে মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

দমনে ব্যর্থ বনবিভাগ

আপডেটঃ ১১:৪০ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৮, ২০১৪

জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী কক্সবাজার
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ঝাউবাগানটি উদ্বেগজনক ভাবে উজাড় হয়ে যাচ্ছে। সৈকতের সমিতি পাড়া ও বাসইন্যা পাড়া এলাকার কতিপয় দুববৃত্তের হাতে উজাড় হচ্ছে ৪ কিলোমিটার জুড়ে অনেক কষ্টের বিনিময়ে গড়ে তোলা এই সুন্দর ঝাউ-বাগানটি। রাতে কাটা হয় পুরো গাছটি আর সকালে বালুচর থেকে তুলে ফেলা হয় গাছের গোড়ালিটিও। এভাবে গাছের গোড়ালি পর্যন্ত তুলে ফেলে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়। বর্ষা মওসুম আসার সাথে সাথেই সৈকতের ঝাউ বাগানের গাছ কাটা হচ্ছে ব্যাপকভাবে। এ সময় গাছ কাটা গেলে ‘ঝড়ে পড়া’ বলে চালিয়ে দেয়া যায়। এ সুযোগে গত দুই সপ্তাহে কমপক্ষে শতাধিক ঝাউ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এ সময়ে বন কর্মীরা উদ্ধারও করেছে অর্ধ শতাধিক কাটা ঝাউ গাছ। দুর্বৃত্তদল কর্তৃক এভাবে ফ্রি-স্টাইলে ঝাউ গাছ কাটা অব্যাহত থাকলে কক্সবাজার সৈকতের বিজড়িত ঝাউ বাগানটির অস্তিত্ব নিয়েও আশংকা দেখা দিয়েছে।
সৈকতের কলাতলি থেকে উত্তরে নাজিরারটেক পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে এই ঝাউবাগান। কক্সবাজার পর্যটন শিল্পের বিকাশে অন্যতম উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে এ ঝাউবাগান। অথচ সৈকতের এমন সৌন্দর্য লুন্ঠন করছে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তদল। ইতোমধ্যে ঝাউবাগানের বিস্তীর্ণ এলাকার ঝাউগাছ কেটে গড়ে তোলা হয়েছে শত শত বসতি। জবর দখলবাজরা সৈকতের ঝাউগাছ কেটে প্রথমে বালুচর দখলে নেয়। তারপর সেখানে বসতি গড়ে তুলে। পরবর্তীতে আরো বালুচরের জমি দখলের কৌশল হিসাবে ঝাউগাছের আড়ালে তৈরি করে একটি ল্যাট্রিন। জেলা প্রশাসকের মালিকানাধীন সৈকতের বালু চরের এই খাস জমি জবর দখল নিয়ে কারো মাথা ব্যথাও নেই।
সৈকতের ঝাউবাগান উদ্বেগজনক ভাবে উজাড় হয়ে যাওয়ায় বন বিভাগের স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা চিঠি আকারে একটি আকুতিও বিলি করেছেন বিভিন্ন মহলে। তিনি যেকোন ভাবে এইসব উপকারি ঝাউগাছ রক্ষার আবেদন জানিয়েছেন। ঝাউবাগান রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্বে নিয়োজিত বন বিভাগের উক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা তাপস কুমার দেব জানান-‘অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে ঝাউবাগানের উত্তরে নাজিরারটেক ও সমিতি পাড়ার বির্স্তীর্ণ সৈকতের শত শত গাছ কেটে লোকজন জবর দখল পুর্বক কাঁচা ঘরবাড়ি নির্মান করছে।
কক্সবাজার দক্ষিন বিভাগের বন কর্মকর্তা আবদুল আউয়াল সরকার বলেন কক্সবাজার সৈকতে ১০০ হেক্টর বালুচরে ঝাউবাগান সৃজন করা হয়। বালুচরের মালিক হচ্ছেন জেলা প্রশাসন আর বাগান সৃজন করছে বন বিভাগ। দুর্বৃত্তদল অহরহ ঝাউগাছ কেটে নিচ্ছে এটা সত্যি। এ কারনে ইতোমধ্যে ২০ টি বন মামলা দেয়া হয়েছে ৩৫ জন দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। লোকবলের অভাবেই গাছ কাটা যাচ্ছে-এটাই বাস্তবতা। এত বড় বাগান পাহারার জন্য মাত্র ১ জন ফরেষ্ট গার্ড ও ৩ জন মাষ্টার রুলের ওয়াচার রয়েছে। এত স্বল্প সংখ্যক লোক দিয়ে কিভাবে হাজার হাজার গাছ পাহারা দেয়া সম্ভব ?’ অপরদিকে মাষ্টাররুলে নিয়োজিত ওয়াচারদের বিরুদ্ধেও ঝাউগাছ কেটে বালুচর দখল করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

…………………..