বুধবার ২৬শে জুন, ২০১৯ ইং ১২ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

নার্স তানিয়া হত্যা-এখনও অধরা ধর্ষক বোরহান ও আল আমিন

আপডেটঃ ৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ | জুন ১৩, ২০১৯

নিউজ ডেস্কঃ কিশোরগঞ্জে চলন্ত বাসে কটিয়াদীর মেয়ে নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে গণধর্ষণ শেষে হত্যার ঘটনায় এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও ধরা পড়েনি ধর্ষক বোরহান। তাকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলেও এখনও অধরা রয়ে গেছে তানিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের অন্যতম এই আসামি। একইভাবে অধরা রয়ে গেছে বাসের সুপারভাইজার আল আমিন।

তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে সেজন্য তৎপর রয়েছে পুলিশ। তদন্তসংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বোরহান সম্ভবত দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছে। সেজন্য সে নানাভাবে ধূর্ততার আশ্রয় নিচ্ছে। কোনো পরিচিতজনের সঙ্গে সে এ পর্যন্ত যোগাযোগ করেনি। তবে পুলিশ এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকায় বোরহান দেশ ছেড়ে পালাতে পারবে না বলেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো মনে করছে।

এদিকে বোরহান ও আল আমিনের খোঁজে তৎপর রয়েছে পুলিশ। আল আমিন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘটনার পর পরই আত্মগোপনে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মিলছে না। তবে পুলিশ বলছে, বোরহান ও আল আমিন যেখানেই থাকুক না কেন, তারা ধরা পড়বেই। তারা পুলিশের চোখ এড়িয়ে বেশিদিন থাকতে পারবে না।

জেলা পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে,বোরহান ও আলআমিনকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে কেউ সহযোগিতা করলে তাকে পুলিশের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

নিহত শাহিনুর আক্তার তানিয়া কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। তিনি ঢাকার ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কল্যাণপুর শাখায় সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

কর্মস্থল থেকে বাড়িতে আসার জন্য গত ৬ মে বিকেলে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন তিনি। বাজিতপুর উপজেলার বিলপাড় জামতলীতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার হন তিনি। পরে তাকে বাস থেকে ফেলে হত্যা করা হয়।

মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামির মধ্যে বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু ও হেলপার মো. লালন মিয়া এই দু’জন ছাড়াও সন্দিগ্ধ আসামি কটিয়াদীর কাউন্টার মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, লাইনম্যান মো. খোকন মিয়া ও পিরিজপুর কাউন্টার মাস্টার মো. বকুল মিয়া ওরফে ল্যাংড়া বকুলকে ঘটনার রাতেই গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে ধর্ষক বোরহান ও বাসের সুপারভাইজার আল আমিন এখনো ধরা পরেনি।

বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু ও হেলপার মো. লালন মিয়া তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে ধর্ষণ ও হত্যায় বোরহানের জরিত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সারোয়ার জাহান বলেন, বোরহান ও আল আমিনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তারা পুলিশের জালে ধরা পড়বেই।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, সর্বোচ্চ মহল থেকে তদারকি করা হচ্ছে। তাই তাদের গ্রেফতার সময়ের ব্যাপার মাত্র।